অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং একজন মুজিব

এক ভয়াবহ দৃশ্য! কলকাতা শহরে শুধু মরা মানুষের লাশ বিক্ষিপ্ত ভাবে পড়ে আছে। মহল্লার পর মহল্লা আগুনে পুড়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রায়োগিক জ্ঞান সম্পন্ন মুজিবুর রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পিছ পা হন নি। চলে গেলেন ফায়ার বিগ্রেডের গাড়িতে খবর দিতে। লেডি ব্রাবোর্ন কলেজে রিফিউজিদের থাকার বন্দোবস্ত করলেন। মুসলমান হিন্দুদের উদ্ধারের জন্য অনেক চেষ্টা ও করলেন। ঘটনাটি ছিল ১৯৪৬ সালের ১৬ ই আগষ্টের দিকে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এক সভাশেষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দাবিতে শুরু হয় ডাইরেক্ট একশন ডে। আর তখন ই হিন্দুদের ইটপাটকেল আর পুলিশের কাঁদানে গ্যাসে উপরোক্ত উপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শেখ মুজিবুর রহমানের “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” বইটিতে ১৯৫৪ সাল অবধি এরকম বিভিন্ন ঘটনার প্রতক্ষ বর্ণনা রয়েছে। বইটি নিরপেক্ষতারর এক মৌলিক দলিল। তিনি কখনোই আপোস করেন নি অন্যায়ের কাছে। মাথা নত করেন নি জুলুমের কাছে। সর্বদা নিজেকে উৎসর্গ করেছেন জনগনের স্বার্থ রক্ষা করতে। ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ বংশে এক ছোট্ট টিনের ঘরে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মুজিবর। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে পরপর বেরিবেরি রোগে এবং চোখের গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হন। তখন (১৯৩৬ সাল) থেকে ই চশমা পড়া শুরু করেন।

১৯৩৮ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এবং শ্রমমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ আসলে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োজিত থাকাতে এক সরকারি কর্মকর্তা শেখ বংশের কথা বলে মুজিব পরিচয় করিয়ে দেন। বইটিতে আরও বর্ণিত হয়েছে ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষে প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে লেখকের অবস্থান। আবার ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাকিস্তান দাবিতে মিছিল সভা সমাবেশ সব কিছুর সাবলীল বর্ণনা রয়েছে। তাজমহল দেখার বর্ণনা রয়েছে বইটিতে। দিনের বেলা তাজমহল দেখেছেন আবার রাতের বেলা তাজমহল দেখবেন বলে ছুটে গিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কনভোকেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ র “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা” ঘোষণার পর ছাত্রদের প্রতিবাদের ও উল্লেখ আছে। সর্বোপরি ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত লেখকের রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামের স্পষ্ট উপস্থিতি, কারাগারের জীবন, সহধর্মিনী রেণু ও আদরের কণ্যা হাচু (শেখ হাসিনা) র ও অল্পবিস্তর বর্ণনা রয়েছে বইটিতে।।

Rownok Jahan

মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Rownok Rowshans!

Rownok Rowshans!

Related Posts

About The Author

Add Comment