ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস – সাবিদিন ইব্রাহিম

আমি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র না, তবে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি সবসময়ই ছিল সীমাহীন ভালোবাসা, বলতে পারেন সাহিত্য জগতের প্রথম প্রেমের নাম ইংরেজি সাহিত্য। এতদিনধরে শুধু ভালোই বেসে গেছি। অথচ জানা হয়নি এই প্রেমিকার পরিচয়- কোথায় বাড়ি, কোথায় তাহার ঘর কিইবা তাহার বংশপরিচয়।

আর তাই ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস নামক এই গবেষণা বইটিকে আমি পাঠ করেছি পুরানো প্রেমিকার জন্ম ইতিহাস এবং তার পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটি বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে। সত্যিকার অর্থে যারা ইংরেজির সাথে, ইংরেজি সাহিত্যের সাথে বরাবরই দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন অথবা ইংরেজি সাহিত্যকে আমার মত প্রাণের মাঝে জায়গা করে দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন অকৃত্রিমভাবে তাদের জন্য লেখকের পক্ষ থেকে বইটি একটি প্রেমপত্রেরই সমতূল্য। কেননা ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন সাহিত্যিকদের মৌলিকত্বকেও। প্রাসঙ্গিকভাবে তুলে ধরেছেন ইংরেজ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক সংকট, বদলে যাওয়া সংস্কৃতি, জাতিগত উত্থান-পতন ইত্যাদি প্রসঙ্গ। ইংরেজি কবিতার আদি নিদর্শন বেওয়ালফ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী নন্দিত এবং সাড়া ফেলেছে এমনসব সাহিত্য নিয়ে টুকটাক আলোচনাও স্থান পেয়েছে বইটিতে।

বিশ্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা এবং সেই ঘটনার সাথে সাহিত্যের সম্পর্ক ও বিকাশের পরম্পরা নিয়েও বেশ ভালো পরিচিতিও মিলবে এ বইয়ে। ক্লাসিক্যাল পিরিয়ডের বর্ণনায় হোমেরিক যুগের যুদ্ধবাজ বীর, এবং দুর্ধর্ষ জলদস্যুদের সমুদ্রে দাপিয়ে বেড়ানোর কথাসহ এশপ, প্লাতো, সক্রেতিস, অ্যারিস্টটলরা গ্রিসের জন্য যে সোনালী সময় বয়ে এনেছিল সেইসব কথাও উঠে এসেছে।

ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসকে যুগবিভাগ করার মাধ্যমে লেখক অত্যন্ত সতর্কদৃষ্টি নিয়ে ক্রমাগতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে লেখকের ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তার প্রবল ভালোবাসা পাঠকের কাছে সহজেই অনুমেয় হবে। এই ভালোবাসা এতটাই সরল ও পবিত্র যে, পাঠক বইটির প্রতিটি অধ্যায়েই ইংরেজি সাহিত্যের সাথে বারবার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন। ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস পড়তে গিয়ে এর শৈশব থেকে কৈশোর এবং যৌবন থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত কাটানো সময়গুলোর কথাও পাঠক অবগত হবেন। লেখক ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন এর নির্ভরযোগ্যতা। এতটাই ন্যাচারাল ভঙ্গিতে বইটি লেখা হয়েছে যে পড়তে গিয়ে মনে হবে  পাঠক নিজেই ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের পথে মধুময় ভ্রমণে বের হয়েছেন।

ষোল অধ্যায়ে বিভক্ত বইটির প্রতিটি অধ্যায় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রত্যেকটি অধ্যায়কে বিস্তৃত করে ষোলটি বইও লেখা হতে পারত। কিন্তু লেখক সেদিকে না গিয়ে সবগুলো বিষয়কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু পরিপূর্ণভাবে সহজবোধ্য একটিমাত্র বইয়ে জায়গা করে দিয়েছেন। এবং প্রধান দুটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে চেষ্টা করেছেন। প্রথমে বিভিন্ন কাহিনীর মধ্য দিয়ে ইংরেজি সাহিত্যের চড়াই উতরাই পার হয়ে আসা এবং দ্বিতীয়ত ইংরেজি সাহিত্যিকদের জীবন ও তাদের সাহিত্যিক জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি প্রসঙ্গ।

বাংলা সাহিত্যের লোক হয়েও কেন আমরা ইংরেজি সাহিত্য পড়ব, এ ধরনের প্রশ্ন যখন পাঠকের মনে উদ্রেক করে সেসময় লেখক নিজ দায়িত্বেই এর উত্তর দিয়েছেন। গ্রিক সাহিত্য প্রভাবিত করেছে তার পরবর্তী ইউরোপীয় প্রতিটি সাহিত্য এবং অন্য এলাকার সাহিত্যকেও। ইতালির সাহিত্য-কবিতা থেকে আলো নিয়ে সমৃদ্ধ হয় ফরাসি সাহিত্য, প্রাণ পায় ইংরেজ সাহিত্য। আলাওলের পদ্মাবতী হিন্দি সাহিত্য থেকে নেওয়া, ইংরেজদের শাসনামলে যাওয়ার পর থেকে ইংরেজি ও ইউরোপীয় সাহিত্য থেকে এই লেনাদেনা চলেছে ধারাবাহিকভাবে। সাহিত্যের কয়েকটি নতুন প্রকরণ বা ফর্ম যেমন নাটক, প্রহসন, সনেট ও উপন্যাস একেবারেই ইংরেজি ও ইউরোপীয় সাহিত্যের অনুকরণের মাধ্যমেই বিকশিত হয়েছে। মাইকেল মধুসূদন ইংরেজিতে যা লিখতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাতে তাই লিখে সফল হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেড়ে ওঠার পেছনে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দুটি সভ্যতারই অবদান আছে। এজন্য ইংরেজি সাহিত্যকে পড়ার পেছনে লেখকের যে যুক্তি তা হচ্ছে- নিজেদের সাহিত্যের অবস্থান শক্ত করার জন্য, সমৃদ্ধ করার জন্যই পড়তে হবে ইংরেজি সাহিত্য।

সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম ও ইতিহাস এক বৈশিষ্টের নয়, তবে ইতিহাসকে যখন যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বাস্তবতার সামনে দাঁড় করানো যায় তখন তা অবশ্যই সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের দাবি রাখে। এজন্য সাবিদিন ইব্রাহিম প্রণীত ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস বইটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস হয়েও বইটি সৃজনশীলতার অন্যতম এক নিদর্শন।

পরিশেষে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বইটি পড়ে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্ররা যেমন উপকৃত হবেন তেমনি বিভিন্ন পেশার চাকুরী প্রার্থীরাও সমানভাবে উপকৃত হবেন। কেননা সংক্ষিপ্তাকারে পুরো ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের এমন সহজ-সাবলীল ভাষায় লেখা বই আর দ্বিতীয়টি মেলে না।

ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস, লেখক-সাবিদিন ইব্রাহিম

(মাত্র দুই মাসে প্রথম প্রিন্ট শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় প্রিন্ট এখন বাজারে!!

পাচ্ছেন: আদর্শ বই

২৩ কনকর্ড অ্যাম্পোরিয়াম, কাঁটাবন, ঢাকা-১২০৫

ফোন: 01710 779050

নীলখেত: অতুল বুকস, বই বাজার

রকমারি লিংক:https://www.rokomari.com/book/113150/%E0%A6%87%E0%A6%82)

ইংরেজি সাহিত্য

 

 

– আল আমিন হাওলাদার
http://www.facebook.com/duwriter
২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
১৭৬, ফকিরাপুল, ঢাকা।

Related Posts

About The Author

Add Comment