ইনসাইড ‘র’ : দ্য স্টরি অব ইন্ডিয়া’স সিক্রেট সার্ভিস

‘Inside RAW : The Story of India’s Secret Service’ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর উপর লেখা একটি সাড়া জাগানো বই। বইটির মূল লেখক সাংবাদিক অশোকা রায়না, আর বইটি অনুবাদ করেছেন আবু রূশ্দ। এতে ‘র’ এর প্রতিষ্ঠা কাহিনী,ক্ষমতার পট পরিবর্তনে ভাঙ্গা-গড়া, বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ও হত্যাকান্ড পরবর্তী কাদের সিদ্দিকীর বিদ্রোহ, সিকিম দখল ও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর তৎপরতার বিষয়টি ওঠে এসেছে। বইটিতে লেখক উল্লেখ করেছেন একাত্তরে ‘অপারেশন বাংলাদেশ‘ এবং তার কয়েক বছর পর ‘অপারেশন সিকিম’ নামে দুটি প্রজেক্টে বড় জয় পায় ভারত যেগুলোতে ‘র’এর পরিকল্পনা মোতাবেক ভারতের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। বইটিতে চীনা সমরবিদ সানজুর ‘প্রিন্সিপল অব ওয়ার’ এর উল্লেখ আছে;যেখানে তিনি ৫ ধরনের গোয়েন্দার কথা বলেছেন। সানজুর বইটি যাদের পড়া হয়নি তারা আংশকিভাবে এ বই থেকে সে ধারণা পাবেন।

‘র’ প্রতিষ্ঠা হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে। ১৯৬৫ এর পাক-ভারত যুদ্ধের পর ভারত সরকার সিআইএ কিংবা এমআই-সিক্স এর আদলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। কয়েকবছরের মধ্যেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেয়। ইন্ডিয়ার ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের চৌকষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আর এন কাউ ও শংকর নায়ারের নেতৃত্ব আড়াইশ জনবল নিয়ে গড়ে তোলা হয় ‘র’। তারা নেহরু আমলে ঘানার গোয়েন্দা বাহিনী গড়ে তোলার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর ‘র’ এর সবচেয়ে বড় সাফল্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয়। ‘র’ এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন বাংলাদেশ’। এর কয়েকবছর পরই লেন্দুপ দর্জির বিশ্বাস ঘাতকতায় সিকিম ভারতের কাছে তার স্বাধীনতা হারায়,যার মূল পরিকল্পনায় ছিল ‘র’ । তবে কংগ্রেসের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ‘র’ কে ভিন্ন চোখে দেখতে থাকে। তারা মনে করে এটি কংগ্রেস বিশেষ করে ইন্দিরার পক্ষে কাজ করছে। ফলে মোরারজী দেশাই সরকার ‘র’ এর প্রধান পদে পরিবর্তন আনেন এবং এর জনবল অর্ধেকে নামিয়ে আনেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নেয়া সংস্থাটির বেশ কিছু গোপন প্রকল্প বাতিল করে দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকারকারী টাঙ্গাইলের টাইগার সিদ্দিকী(বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী) ও তার অনুসারীদের বিদ্রোহে ‘র’ প্রথমে সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও মোরারজী সরকার এসে তা বাতিল করে দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর কার্যক্রমে ‘র’ সমর্থন দিলেও বিজেপি সরকার তাও বাতিল করে দেয়। এ কারনে ভারত সরকারের উপর তলে তলে ক্ষুব্ধ ছিল ‘র’।

বইটির এক জায়গায় লেখক লিখেছেন, ১৯৭৪ সালে জিয়াউর রহমানের বাসায় একটি বৈঠকের খবর পায় ‘র’ এর এজেন্টরা। যেখানে মেজর ফারুক,রশীদ ও লে. কর্নেল ওসমানী উপস্থিত ছিলেন। এরপর ই একজন ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে ঢাকায় আসেন সংস্থাটির প্রধান আর এন কাউ। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করলে তিনি ‘র’ প্রধানের এভাবে আগমনকে ভালভাবে নেননি। ঘন্টাব্যাপী সাক্ষাতে আর এন কাউ বঙ্গবন্ধুকে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা চলছে এবং তার জীবন সংকটাপন্ন। জবাবে বঙ্গবন্ধু তাকে বলেছিলেন,”এরা আমারই সন্তান এবং এরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনা”।

লেখক :

সোহেল রানা

Related Posts

About The Author

Add Comment