ঈদ পরবর্তী সাধারণ সভায় বিডিএসএফ

আজকে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে ঈদ পরবর্তী প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন ও ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াতে দুই পর্বে এই সভা কার্য পরিচালিত হয়। উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে বুক টক ও আইডিয়া টকে উপস্থিত সকলেই অংশগ্রহণ করেন। আমাদের অনন্য বুক টক ও আইডিয়া টক জমে উঠেছে তার প্রমাণ আজকের প্রোগ্রাম।

প্রথমেই বুক টক শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মেধাবী মুখ আহমেদ দীন রুমী। রুমী হতে যাচ্ছেন আমাদের মধ্যে সেই বক্তা যার প্রতিটি আলোচনা মনোমুগ্ধকর। তার কথা-বার্তা, প্রকাশভঙ্গী ও লেখনীতে প্রাজ্ঞতার ছাপ সুস্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব মেধাবী ছাত্রদের কাছ থেকে নিয়মিত নতুন নতুন জ্ঞানের বার্তা, নতুন স্বপ্নের নিশানা নেওয়ার জন্য যাই রুমী সে তালিকার প্রথমদিকেই। জ্ঞানের সাথে যে বিনয় এবং অপূরণীয় তৃষ্ণার উপস্থিতি তার মধ্যে দেখেছি সেটা ধরে রাখলে আমরা একজন অসাধারণ মানুষকে পেতে যাচ্ছি যে অনেক মানুষের জীবনে পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।

%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%80

আমাদের সভাকবি রুমী বলেন আর আমরা শুনি!

তারপর শুরু করেন আমাদের আব্দুল আহাদ। মাত্র এক বছরের মধ্যে আহাদ নিজের মধ্যে অনেক উন্নতি নিয়ে আসতে পেরেছে সেটা দেখে খুব ভালো লাগছে। সে এখন যেকোন বই নিয়ে ৩-৪ মিনিট কথা বলতে পারে এবং অনেক সুন্দর বিশ্লেষণ করতে পারে। আজকে আলোচনা করলো এন্থনি মাসকারেনহাসের ‘বাংলাদেশ রক্তের ঋণ’ নিয়ে। নিয়মিত এ চর্চাটা অব্যহত রাখলে এবং জ্ঞানের তৃষ্ণা জারি রাখলে সে অনেক দূর যাবে।

তানজির সরকার বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলসফি’ নিয়ে আলোচনা করেন। দর্শনের দুনিয়ায় প্রবেশকালে প্রথমদিককার নাবিক হিসেবে সকল ঔসুক্য তার চোখে-মুখে। সেই আগ্রহ ধরে রাখুক তানজির। তাহলে একদিন অনেক সুন্দর করে কঠিন কঠিন দর্শনও সহজে বলে দিতে পারবে।

সাগর বড়ুয়া আলোচনা করেন ‘আহমদ ছফা’র ‘ওঙ্কার’ নিয়ে। ষাটের দশকে কিভাবে বাংলাদেশের আবির্ভাবের পাটাতন তৈরি হচ্ছিল তার অসাধারণ সাহিত্যিক রূপান্তর ‘ওঙ্কার’। সাগর বড়ুয়ার আলোচনায় ‘ওঙ্কার’ ধ্বনি আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।

%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0

সাগরের ‘ওঙ্কার’!

আমি আলোচনা করেছিলাম উইল ডুরান্টের ‘দ্য লেসনস্ অব হিস্ট্রি’ থেকে। রওনক জাহান আলোচনা করেন এপিজে আবুল কালামের ‘টার্নিং পয়েন্টস’ নিয়ে। বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কদের প্রতি তার আগ্রহ এবং তাদের গুণাবলী স্টাডি তার মধ্যে অনেক পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসবে সেটা বলাই বাহুল্য। রওনকের জ্ঞানতৃষ্ণা অব্যহত থাকুক।

আমাদের নতুন বন্ধু আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র মাহফুজ আবদুল্লাহ আলোচনা করেন ইয়োস্তেন গার্ডার এর ‘সোফিজ ওয়ার্ল্ড’ বইটি নিয়ে। দর্শনের দুনিয়ায় প্রবেশের একটি অসাধারণ বই নিয়ে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ভালো লেগেছে। সক্রেতিস কিভাবে একই সাথে ধাত্রী ও ভাস্করের ভূমিকা পালন করতেন এবং একজন ভালো শিক্ষক বা ওস্তাদের কি ভূমিকা হওয়া উচিত তা নিয়ে অনেক সুন্দর আলোচনা রাখেন।

আজকের বুক টক ও আইডিয়া টকের রওশন বাড়িয়ে দিয়েছেন লোকমান বিন নূর, জুয়েল রানা, শিমুল চন্দ্র সরকারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। প্রত্যেকেই আলোচনাতে অংশ নিয়ে জানান দেন তারা কিভাবে নিয়মিত নিজেদের শান দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের তরুণ বন্ধুদের জন্য তাদের উপস্থিতি অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে।

লোকমান বিন নূর ‘ইনটেলেকচ্যুয়ালস্ প্রোপার্টি রাইট’ এর লেটেস্ট আপডেট নিয়ে আলোচনা করেন। জুয়েল রানা তার ১৯ মাসের ফসল একটি লেখার জার্নালে প্রকাশের সুসংবাদ নিয়ে আলোচনা রাখেন। কিভাবে সিগারেটের প্যাকেট সতর্ক বার্তা থাকার পরও সিগারেটের বিক্রি কমছে না তার মনস্তাত্ত্বিক কারণ নিয়ে আলোচনা করেন। শিমুল চন্দ্র সরকার গত কয়েক মাসে তার শিক্ষার্থীদেরকে কিভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা ক্লাসের পড়ার বাইরে আর কি কি পড়ে, কি কি করে তার ফিরিস্তি দেন। তার মতো উপস্থিত সবাই এর হতাশাজনক চিত্রের জন্য কষ্ট অনুভব করেন। সেখানে স্টাডি ফোরামের গুরুত্ব কতটুকু তা অনুভূত হয়।

%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b2

শিমুল চন্দ্র সরকার!

কে এন ঈপ্সিতা কান ও শুনার বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রাখেন। নদী ও হাওর গবেষক এ.এস.এম ইউনূছ আলোচনা করেন ‘হাতিয়া দ্বীপের ইতিকথা’ নিয়ে। তার কাছ থেকে নদী, খাল-বিল, হাওর বাওড়ের কথা শুনা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আজকেও ব্যতিক্রম হয়নি।

সব মিলিয়ে একটি অসাধারণ বুক টক ও আইডিয়া টক ছিলো।

তারপর শুরু হয় আমাদের সাধারণ সভা। আমাদের সাধারণ সভার কেন্দ্রে ছিল আসন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন সংক্রান্ত বিষয়টি। কনফারেন্সের কনভেনর জুয়েল রানা এবং কে এন ঈপ্সিতা আমাদেরকে কনফারেন্স আয়োজনের হাল হাকিকত সম্পর্কে আমাদেরকে ওয়াকিবহাল করেন। আমাদের মিডিয়া পার্টনার এবং ইভেন্ট স্পন্সরশিপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একটি অসাধারণ কনফারেন্স আয়োজনের সকল সম্ভাবনা নিয়ে আজকের সাধারণ সভা শেষ হয়। উক্ত সভায় সবার উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে অভিনন্দন ও ভালোবাসা।

Related Posts

About The Author

Add Comment