ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো সাহসী বিদ্বান কই?

তখন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু কলেজে পড়াচ্ছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন কার সাহেব। বিদ্যাসাগর একদিন কোনো একটা কাজে তার সঙ্গে দেখা করতে যান।

সাহেব তখন টেবিলের উপর পা তুলে বসেছিলেন। তিনি সেই অবস্থাতেই বিদ্যাসাগর মশাইয়ের সঙ্গে কথা বললেন। এতে বিদ্যাসাগর অত্যন্ত অপমানিত বোধ করলেন কিন্তু মুখে কিছু বললেন না।

আরেকদিন কার সাহেব নিজেই আসলেন বিদ্যাসাগরের সাথে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। বিদ্যাসাগর এইবার তার শোধ নিলেন। তিনি টেবিলের উপর জুতাসহ পা তুলে সাহেবের কথার জবাব দিলেন। তাঁকে বসতে পর্যন্ত বললেন না।

কার সাহেব যথারীতি রেগে আগুন! ‘কী, একজন দেশী পণ্ডিতের এতদূর স্পর্ধা, সাহেবকে এ রকম অপমান করে?’ কর্তৃপক্ষ বিদ্যাসাগরের কাছে কৈফিয়ত চাইলে তিনি উত্তর দেন-“এই সভ্যতা আমি কার সাহেবের কাছ থেকেই শিখেছি। তিনিও আমার সাথে এই রকম ব্যবহার করেছিলেন”।

যথারীতি কর্তৃপক্ষের সাথে তার বেশিদিন মিল থাকেনি। একসময় চাকরি ছেড়ে দেন তখন অনেকেই বলতে লাগলো- “ঈশ্বরচন্দ্র চাকরি ছেড়ে দিলে বটে, কিন্তু এতবড় সংসার চালাবে কীসে? বিদ্যাসাগর উত্তর দিলেন, “বরং আলু-পটল বেচব, মুদীর দোকান করব, তবু যে কাজে মান থাকে না, তা আর করব না।”

এই সময়ে অনেক বিদ্যাসাগরই আমাদের হয়তো রয়েছেন কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতন মেরুদণ্ডওয়ালা ও গোঁয়ার প্রকৃতির পণ্ডিতের সংখ্যা দুর্লভই মনে হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ছোটদের বিদ্যাসাগর- সুনির্মল বসু (পৃষ্ঠা:১৯-২০)

Related Posts

About The Author

Add Comment