কঠিন সময়ে আপনি কি করেন, আর সুসময়ে?

আজকে ডাকসুতে সাপ্তাহিক লেকচার শেষে আমরা জমায়েত হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী সংলগ্ন হাকিম চত্ত্বরে। একটি অসাধারণ লেকচার শেষে চা হাতে জমে উঠে দৈনিক আড্ডার আসর। আড্ডা এসে স্থির হয় একটা টপিকে। একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বা প্রতিষ্ঠানের লিডার হিসেবে আপনি সুসময় বা সফলতা কিভাবে উদযাপন করেন আবার কঠিন সময়, দুঃসময় বা ব্যর্থতা কিভাবে ফেইস করেন? এখানে ধরে নেয়া হয়েছে আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন প্রতিষ্ঠানের নেতা বা দায়িত্বশীল অথবা কমপক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই তো আসলে একটি ছোটখাট প্রতিষ্ঠান। এভাবে আলোচনার প্রশ্নটিকে উপস্থাপন করা হয়। এবার উপস্থিত ১৫-১৬ জনের সকলেই সুযোগ পেয়েছেন এর উত্তর দেওয়ার।

2-0

আলাউদ্দিন ভাই, সাকার মুস্তাফা, সাগর বড়ুয়া ও আবু সালেহর উত্তর আমার কাছে ভালো লেগেছে। আরও কয়েকজনের মাঝারিমানের উত্তর রয়েছে। লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো অনেকেরই কোন মেকানিজম নাই, মেকানিজম থাকলেও ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারছিলো না। সফলতাকে কেমনে ফেইস করেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ আবার ব্যর্থতা বা প্রতিকূলতাকে কেমনে ফেইস করেন সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে সফলতায় অতি উৎসাহিত হয়ে অতি উদযাপন করতে গিয়ে পরবর্তী বড় ব্যর্থতার প্লাটফর্ম তৈরি করে রাখে। আবার অনেকেই চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকূলতার মধ্যে যে সম্ভাবনা আছে সেটা ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় পরাজয়ের বৃন্তে হাবুডুবু খায়। অথচ যত বড় চ্যালেঞ্জ আমরা ফেইস করে সেটা কিন্তু তত বড় সম্ভাবনা নিয়েও আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। কঠিন সময়েও আমাদেরকে অনেক পদক্ষেপ নিতে হয়। কেউ ব্যর্থতাকে স্বীকার করে নেয়, কেউ ব্যর্থতা থেকে সুযোগের সৃষ্টি করে। কঠিন সময়ে আমাদের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনেকগুলো প্রক্রিয়া থাকতে পারে। অনেকগুলো স্ট্রাটেজির মধ্যে কোনটা সেরা সেটা বাছাই করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।3

আজকের আলোচনার সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো সকলেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ভাবতে চেষ্টা করেছে। এটা নিয়ে যদি ভবিষ্যতেও ভাবনা-চিন্তা থাকে তাহলে সকলেরই উপকার হবে এটা নিশ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্রাইসিস টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভালো স্ট্রাটেজি নাই এটা একটা ভাবনার দিক। কিভাবে খারাপ সময়, ব্যর্থতা বা চ্যালেঞ্জ ফেইস করেন এর উত্তরে দেখা গেল তাদের নেওয়া স্ট্রাটেজিগুলো ইফেক্টিভ না। তারা অনেক সময় ব্যর্থতাকে মেনে নেয় এবং এটাকে কিভাবে ওভারকাম করতে হবে সেটা নিয়ে নিজেরা পদক্ষেপ নিতে পারে না, সঠিক স্ট্রাটেজিটা নিতে পারে না। অনেকটা যেন নীরব ভুক্তভোগি। অথচ সমস্যার মধ্যে যে কত সম্ভাবনা আছে সেটা নিয়ে ভাবার দরকার ছিলো এবং ব্যর্থতা থেকে ভালো করে শিক্ষা নেওয়ার দরকার আছে।

4

আমার উত্তরটা ছিলো এমন-কোন সফলতা বা ভালো সময়ের পর আমার চিন্তা থাকে ‘হোয়াট নেক্সট?’ মানে একটা অর্জন বা একটা পর্যায়ে যাওয়ার পর আমি চেষ্টা করে এর পরে কয়েকটা ধাপ যেতে হবে তার কথা চিন্তা করা। সফলতাকে অবশ্য সেলিভ্রেট করতে হবে। আমিও সফলতা সেলিভ্রেট করি। যেমন নিজেকে বই উপহার দেই, নিজের সাথে ডেটিংয়ে যাই। নিজের সাথে ডেটিংয়ে যাওয়া মানে হচ্ছে কোন পছন্দের জায়গায় একা একা খেতে যাওয়া। অনেক মানুষের সাথে, প্রিয়জনদের সাথে খাও দাওয়া আমি অনেক উপভোগ করি এবং সেটা নিয়মিতই হয়ে থাকে। আবার অনেক আগে থেকেই আমার একটা অভ্যাস আছে নিজের সাথে ডেটিংয়ে যাওয়ার! যেমন পাবলিক লাইব্রেরি ক্যান্টিন, আজিজ মার্কেটের অন্তর রেঁস্তোরা, বিসমিল্লাহ জুসসহ আশেপাশের অনেক খাবারের জায়গায় একা একা খেতে যাই। সে সময়টাও আমার খুব ভালো লাগে। আর একটা সফলতা মানে আমরা একটা স্তর  অতিক্রম করে নতুন আরেকটা স্তরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছি। এজন্য সেইসব স্তরে কাজ করা ও সফল হওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া চাই। আমি একটা সফলতার পর পরের কয়েকটা ধাপ নিয়ে এবং সে ধাপের দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবি। এজন্য নিজেকে পছন্দের বই, সেল্ফ ডেভলপমেন্ট এর বই উপহার দিই।

%e0%a7%ab

আর কঠিন সময়ে একটু বেশি এলার্ট থাকার চেষ্টা করি। এবং এটা কিভাবে কাটিয়ে উঠা যায়, অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে সেরা উপায় কোনটা হতে পারে সেটা নিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দেওয়ার চেষ্টা করি। চ্যালেঞ্জ বা ব্যর্থতা আমাকে পরাস্ত করার আগে সেটাকে কিভাবে পরাস্ত করা যায় সেটা নিয়ে ভাবি। আবার কিছু কিছু পরাজয় আপনাকে হজম করতেই হয়। তখন তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই আসলে। এর বাইরে যে কোন ট্রাবল আসলে তাকে ট্রাবলশ্যুট করা ছাড়া সেরা উপায় কি হতে পারে। কোন ব্যর্থতা যেন আমাদের পুরোপুরি ব্যর্থ করার আগে ব্যর্থতাকেই ব্যর্থ করে দিই তেমন অ্যাটিটিউড রাখা দরকার বলে মনে করি।

%e0%a7%ac

আর শেষ কথা। আজ থেকে  বছর পাঁচেক আগে সুসময় ও দুঃসময় উপভোগ করার জন্য আমি একটা স্ট্রাটেজি লিখে রেখেছিলাম এবং সেটা এখনো রপ্ত করে আসার চেষ্টা করে আসছি। সেটা হলো-‘সুসময় উদযাপন করার জন্য বইয়ের কাছে যাও। এর চেয়ে সেরা উদযাপন আর হতে পারে না। আর দুঃসময়েও বইয়ের কাছে যাও। মহামানব, মহৎ মানুষের সঙ্গ নাও। কঠিন সময় মোকাবিলার জন্য এর চেয়ে সেরা উপায় আর হতে পারে  না।’

আমার জন্য এ স্ট্রাটেজি বেশ কাজে দিয়েছে। আপনার জন্য কোনটা কাজ করে সেটা আপনিই সেরা জানেন। সবার নিরন্তর মঙ্গল কামনায়। সবাই ভালো থাকুন দুঃসময় বা সুসময়। সবাই সফল ও সার্থক হউন।

Related Posts

About The Author

Add Comment