কাগজ- কলম, নাকি কিবোর্ড- পিসি মনিটর: লিখবো কি দিয়ে?

লেখার সাথে ইমোশনকে Attach করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। ধরুন, আপনার উপন্যাসে নায়ক-নায়িকার ছাড়াছাড়ির দৃশ্য আপনি বর্ণনা করতে চলেছেন, এখন আপনি লিখতে গিয়ে আপনার নায়ক নায়িকার দুঃখ আপনাকে এতটাই নাড়া দিল যে লিখতে লিখতে আপনি নিজেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে দিলেন, অথচ কাগজে কলমে আপনার মনের সে আবেগ অনুভূতির ঝড় যথার্থভাবে তুলে আনতে পারলেন না। ফলশ্রুতিতে আপনি একাই কাঁদবেন, আপনার লেখা পড়ে বাকি সবাই হাসবে।
.
ছোটবেলায় স্কুলের পরীক্ষায় যখন ২০ মার্কের বাংলা রচনা লিখতাম – “আমার বাংলাদেশ” বা “বাংলাদেশের ষড়ঋতু” , মনে সে কি আবেগের ঝড় তুফান! আমার দেশ, দেশপ্রেম, বাংলার গ্রামীণ জীবন, বাংলার প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্র্যের প্রেমে অস্থির হয়ে দেখা যেত যে পরীক্ষার হলে বসেই ডানে বামে দুলছি, গুণগুণ করে দেশাত্মবোধক গান গাইছি আর বাংলার ষড়ঋতুর বর্ণনা লিখতে লিখতে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরিয়ে ফেলছি। এদিকে পরীক্ষার খাতা দেখানোর দিন বেশিরভাগ সময় স্যার ডেকে বলতেন – ” কি লিখছিস এগুলি হাবিজাবি?” ! সমস্যাটা ছিল, শিশু আমি মনের আবগেকে পরীক্ষার খাতায় সঞ্চারিত করতে পারতাম না। ফলে রেজাল্ট লবডঙ্কা।
.
এইজন্যে, কোন একটা প্লট মাথায় আসার সাথেসাথেই নেহায়েত ঝাঁপিয়ে পড়ে তা নিয়ে লেখা শুরু করা উচিৎ নয়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন – আবেগকে “জারিত” হবার জন্যে সময় দিতে হয়।
.
এছাড়াও আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লেখার Tools selection এ সতর্ক থাকা। কাগজ কলম, নাকি কিবোর্ড- কম্পিউটার – কোন মাধ্যমে নিজের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনাগুলিকে ভাষায় রুপান্তরিত করতে পারবেন সার্থকভাবে – লেখককে এ নিয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কম্পিউটারের এই মহা সমারোহের যুগে অনেকেই আছেন যাদের কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসা মাত্রই কিবোর্ডে ঝড় ওঠে, আবার অনেকে এখনও সেই আগের যুগের মত কাগজ কলম নিয়ে ধিরেসুস্থে আয়েশ করে চিন্তা করেন আর লেখেন।
যেমন, বর্তমানের ভারতের ইংরেজি ভাষায় জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও সিনেমার স্ক্রিন প্লে রাইট চেতন ভগত তার প্রথম বই – Five Point Someone (যার ওপর পরে আমির খান আর রাজকুমার হিরানি তাদের অবিস্মরণীয় মুভি 3 Idiot নির্মাণ করেন) এর কৃতজ্ঞতা স্বীকার পর্বে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের আবিষ্কারককে ধন্যবাদ দিতে দিতে অস্থির। আর আমার ক্ষেত্রে ইমোশন অন্তর থেকে কলমের নিব হয়ে লেখার খাতায় গড়িয়ে পড়ে। কিবোর্ড- কম্পিউটারে ইমোশন সেভাবে অ্যাটাচ হয় না।
.
-সাজিদ উল হক আবির
২৮ জানুয়ারি ২০১৬,
রাত ৯টা ৫০,
উত্তর কমলাপুর, বাজার রোড, ঢাকা।

Related Posts

About The Author

Add Comment