কাঠবিড়ালি দুপুর অত:পর ছবির সাথে, স্বপ্নের সাথে এক বিকাল

তিনটা কাঠবিড়ালি বেঞ্চের পাশটাতে খেলছে। আমি দাড়িয়ে গেলাম। খরগোশ, কবুতর, ছোট ইদুর, ছাগলের বাচ্চা, গরুর বাচ্চার সাথে কাঠবিড়ালি আমার খুব ভালো লাগে। বড় খালার বাড়িতে একটা বড় তেতুল গাছে ৫০ বা ১০০ বা তার চেয়েও বেশি কাঠবিড়ালি দেখেছিলাম বলে মনে হয় ছোটবেলায়। এরপর কাঠবিড়ালি দেখতে অনেক কষ্ট করতে হয়। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে কলা ভবনের সামনের আমগাছে কয়েকটা সুন্দর কাঠবিড়ালি আছে। এরা মাঝে মাঝে নিচে নেমে ফেলে রাখা আইসক্রিমের প্যাকেট থেকে একটুকুন আইসক্রিম খেতে দেখা যায়।কখনো বাদামের ঠোঙা থেকে বাদাম বা  বাদামের খোসা খায়। আমি যখনই কাঠবিড়ালি দেখি দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাঠবিড়ালি দেখি। আমার কোন ব্যস্ততা নেই সুন্দর জিনিস দেখাতে!

আজ দুপুর দেড়টা থেকে দুটো পর্যন্ত বসে বসে শুধু কাঠবিড়ালিই দেখেছি রমনা লেকের পাশে একটা গাবগাছের তলায়। খুব ভোরবেলা রমনা পার্ক দেখতে ও রমনা লেকের পাশে বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে।তবে ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত যাওয়া হয় না! মানুষের সঙ্গ আমার খুব ভালো লাগে। ঠিক একই পরিমাণে ভালো লাগে নির্জনতা। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি একই সাথে কোলাহলপ্রিয় আবার একই সাথে নির্জনতাপ্রিয়। আমার আশেপাশে নির্জনতা উপভোগের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হচ্ছে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বুয়েট ক্যাম্পাস বা ঢাকার যেকোন ফুটপাথ।মানুষের সঙ্গ লাভের জন্য যেমন খুব তাড়না থাকে তেমনি একই পরিমাণ তাড়না অনুভব করি নির্জনতার। যখনই ভেতর থেকে নাড়া দেয় আমি বের হয়ে যাই পথে, ফুটপাথে। আর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা ঢাকার রাস্তায় হাঁটা দেই।

আজকেও দুপুর বেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে রমনা পার্কের লেকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম সেগুনবাগিচার দিকে। কাঠবিড়ালিগুলো আমার মতো ব্যস্ত পথিক বা অলস পথিককে থামিয়ে দিলো। অন্যান্য দিনগুলোতেও আমি সাধারণত কোন নির্জন বেঞ্চিতে একা বসে থাকি। আজকে আমার পছন্দমতো কোন বেঞ্চি খালি পাচ্ছিলাম না বা খালি থাকার কথাও না। এজন্য আমার প্রিয় কাঠবিড়ালিগুলোকে পর্যবেক্ষণ করাই বেশ ভালো কাজ বলে মনে হলো। ভাগ্য ভালো গাবতলার নিচে দুপাশে দুইটা বেঞি খালি ছিল। কাঠবিড়ালিগুলোর দৌড়াদৌড়ি দেখার জন্য দুটা বেঞ্চিতে কয়েকবার নড়াচড়া করলাম। প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট পর কাঠবিড়ালীগুলো যখন একে একে গাছে উঠে  গেলো তাদেরকে বিদায় জানিয়ে সামনের দিকে হাঁটা দিলাম।

আমার বেঞ্চির ডানপাশের বেঞ্চিতে একটি প্রেমিক জুটিকে দেখলাম পুরো বিশ মিনিট ধরেই বিভিন্ন পোজের বা প্রজাতির সেলফি তুলছিলো। আরেকটা  টেবিলে আরেক জুটি সেলফি তুলতে তুলতে আনন্দে ঝগড়া বাদিয়ে দিলো। ঝগড়া শেষে আপোষ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জারি রাখলো। আমি গন্তব্যে হাঁটা দিলাম। গন্তব্য বলতে আসলে গন্তব্য নেই! মাঝে মাঝে গন্তব্যহীন হাঁটি। অনেকসময় ইচ্ছে করে সবচেয়ে দীর্ঘ রুটটা দিয়ে হাঁটি।

রমনা পার্কে আসার আগে সকালটা কাটিয়েছিলাম জগন্নাথ হল মাঠে ক্রিকেট দেখতে দেখতে। সাথে সঙ্গ দিয়েছিল সাগর বড়ুয়া এবং রোনাল চাকমা। রোনালের সাথে কথা বলা সবসময় মজার। আর সাগর বড়ুয়া হচ্ছে আমার প্রিয় কমরেড যার চিন্তার সাথে, স্বপ্নের সাথে আমার অনেক মিল। এজন্য কাজ করছি একসাথে। সকালবেলা সেখানে খেলা দেখার পেছনের কারণ হচ্ছে এর আগের  রাতে জগন্নাথ হলে আতিথেয়তা গ্রহণ। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন নিয়ে আলাপের সাথে সাথে বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের বিভিন্ন স্বপ্ন নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা তিনজন। প্রিয় সহযোদ্ধা সাগর বড়ুয়া এবং ইয়ো মং এর সাথে আড্ডা মারতে মারতে দেখা গেল একটা বেজে গেছে। আমাকে দুজন তাদের হলে থেকে যাওয়ার আমন্ত্রণ করলো। আমি সাদরেই আতিথেয়তা গ্রহণ করে ফেললাম আর কি। সকাল বেলায় দেখি মাঠে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। দেখতে বসে গেলাম। খেলার বিশেষ দিক হচ্ছে সব খেলোয়াররাই ফিজিক্যিালি চ্যালেঞ্জড। কারো একটা হাত নাই, বা পা নাই। তারপর ও তারা যা খেলা দেখালো, ভালো বল করলো, ব্যাটিং করলো সেটা দেখার জন্য বসে ছিলাম দর্শক হিসেবে। খুব ভালো লাগলো যদিও আমার সমর্থিত দল মাত্র ১২-১৪ রানের ব্যবধানে হারলো!

রাতের বেলায় আড্ডায় জয়েন করতে না পারলেও সকালে মাঠে এসে সময় দিলো রোনাল চাকমা। রোনালের সাথে কতক্ষণ আলাপ হয়ে বেশ ভালো লাগলো। রোনাল ও সাগরের সাথে কথা শেষে আবাসস্থলে ফেরার তাগাদা অনুভব করলাম। রুটটা প্লান করলাম সোহরাওয়ার্দী-রমনা হয়ে সেগুনবাগিচার পথ ধরবো।

সেই সূত্রেই রমনার পথ ধরা ও কাঠবিড়ালীর সাথে কতক্ষণ থাকা। মৎস্যভবন হয়ে সেগুনবাগিচার দিকে যাচ্ছিলাম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পাশ দিয়ে গত কয়েকমাসে কয়েকশ বার গিয়েছি কিন্তু কখনো ভেতরে যাওয়ার ইচ্ছা বা সময় হয় নাই। আজকে খেয়াল হলো ঢু মারার। ঢুকে গেলাম ভেতরে।

নিচতলাতে বাংলাদেশের সংগীত, নৃত্যকলার সব রথি-মহারথিদের ছবি দেখে দেখে দুতলাতে উঠলাম। এভাবে উপরে উঠতে উঠতে গিয়ে  দেখি একটা শিল্পকলা একাডেমীর গ্রন্থাগার। লোভ সামলাতে পারার কথা নয়। ঢুকে গেলাম ভেতরে। আমাকে কেউ আটকালো না। বুঝলাম লাইব্রেরিটা উন্মুক্তই। একজন ভদ্রলোক একগাদা  পত্রিকা পড়ছেন। সামনে একটা রেজিস্ট্রার খাতা। সেখানে আমার নাম এন্ট্রি  করতে  গেলাম। দেখলাম আমি হচ্ছি আজকের দিনের জন্য  তৃতীয় পাঠক। সিগ্নেচার দিয়ে বইয়ের তাকের সামনে  আমার সবচেয়ে প্রিয় হাঁটা দিলাম। প্রথম দশ মিনিট শুধু তাকের সামনে দিয়েই হাঁটলাম। কোন কোন ক্যাটাগরির, কোন কোন লেখকের বই  আছে  সেটা  দেখলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল নিয়ে আলাদা আলাদা  আলমারি রয়েছে। আছে আর্ট, সংগীত, নৃত্যকলা নিয়ে আলাদা আলাদা তাক, বিশ্বকোষ নিয়ে রয়েছে একটি সম্পূর্ণ তাক। সেখানে এনসাইক্লোপেডিয়া অব ব্রিটানিকার সাথে রয়েছে বাংলাপিডিয়াও। এরপর আছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, এস এম সুলতান, কাইয়ুম চৌধুরী, মূর্তুজা বশীর সহ বাংলাদেশের প্রথম সারির চিত্রশিল্পীদের চিত্র নিয়ে বই। আছে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস নিয়ে একটি তাক।

আমার প্রথম পরিভ্রমণ শেষ করে প্রথম বাংলাপিডিয়ার এক খন্ড নিয়ে বসলাম। পছন্দমতো কয়েকটি এন্ট্রি পড়ে এসএম সুলতানের ছবি নিয়ে বসলাম। এস এম সুলতানের ব্যতিক্রমী ছবি আমার সবসময় ভালো লাগে। আজকে তার প্রায় সব শ্রেষ্ঠ  ছবিগুলোই  সেই  বইটাতে  পেলাম। ছবির সাথে ছিল যথারীতি এস  এম সুলতানের জীবন ও জীবনাচরণ নিয়ে খানিক বিবরণ। আহমদ ছফার বরাতে সুলতানকে নিয়ে আগেই একটু জানাশুনা ছিল। আজকে সম্পর্কটা গভীর হলো বলে মনে হচ্ছে। কেমন যেন এক আত্মীয়তা অনুভব করছি। বইটাতে অনেকগুলো ফটোর মধ্যে একটা ছিল-এসএম সুলতান রাতের বেলা কুপি জালিয়ে ভাত খাচ্ছেন, তার প্লেটের সামনে তিন-চারটি বিড়াল তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। বিড়ালগুলো অনেক সবল মনে হলো। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল প্রিয় বিড়ালের সাথে রাতের খাবার।

সুলতানের পর গতবছর মারা যাওয়া কাইয়ুম চৌধুরীর ছবিগুলো দেখতে শুরু করলাম। সুলতানের সব ছবি ভালো লাগলেও বা অল্প বুঝতে পারলেও কাইয়ুম চৌধুরীর গুলো বেশি জটিল মনে হয়েছে, বুঝতে কষ্ট হয়েছে। পরে একসময় বুঝে নেওয়ার ইচ্ছা আছে। জয়নুল আবেদীনের ছবি খুবই সহজ এবং প্রাঞ্জল বলে মনে হয়েছে এবং রিড করতে সহজ লেগেছে।

তারপর একটা ৮০ পৃষ্ঠার বই এক টানে শেষ করতে হলো বুলেট গতিতে। সেটা হলো ফরাসী ভাস্কর রদ্যাঁ কে নিয়ে লেখা কবীর চৌধুরীর বই ‘রদ্যাঁ’। বইয়ের একেবারে শেষের কয়েক পৃষ্ঠায় রদ্যাঁর কিছু উক্তি রয়েছে যেখানে বলছেন কিভাবে বালযাক তার প্রিয় সাহিত্যিক, মাইকেল এঞ্জেলো তার গুরু। জীবনের প্রথম পঞ্চাশ বছর নাকি অনেক কষ্ট করেছেন এবং এর পরবর্তীতে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাস্কর বলে স্বীকৃত হয়েছেন। নাট্যকার ও লেখক জর্জ বার্নার্ড শ এর একটি ভাস্কর্য তৈরি করার সময় তাকে প্রায় একমাস রদ্যাঁর স্টুডিওতে নিয়মিত বসতে হয়েছে। এবং বার্নার্ড শ সেটা আনন্দেই করেছিলেন। রদ্যাঁর মেরুদণ্ড অনেক শক্ত ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় যখন জার্মান সম্রাট কাইজারের অনুরোধে অস্বীকৃতি জানান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রধানতম চরিত্রের একজন মহা প্রতাপশশালী কাইজার তার জন্য একটি ভাস্কর্য বানানোর অনুরোধ করেন কিন্তু রদ্যাঁ অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। রদ্যাঁর ভাস্কর্যগুলোর ছবি  দেখে আসলেই  খুব কাছ থেকে দেখার আগ্রহ জন্মালো। এর আগে এক দুটো ভাস্কর্যের ছবি দেখেছিলাম। এবার অন্তত শ্রেষ্ঠ সবগুলো ভাস্কর্যের ছবি দেখা হলো যদিও আসল ভাস্কর্য দেখতে  হলে ফ্রান্সে যেতে হবে। কবে যাবো  ফ্রান্স?

তারপর রবার্ট ফ্রস্ট নিয়ে একটি  বই দেখে না ধরে পারলাম না। রবার্ট ফ্রস্ট আমার একজন প্রিয় কবি। বইটার নাম হচ্ছে Robert Frost: The Aim Was Song, লিখেছেন Jean Gould। রবার্ট ফ্রস্ট নিয়ে  যেহেতু আগেও অনেক পড়েছি এজন্য পুরো  বই  পড়া হয় নাই। প্রথম চাপটারটি পড়লাম শুধু। জন এফ কেনেডির সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। কিভাবে  বুড়ো বয়সে কেনেডির অভিষেক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠের দাওয়াত রাখলেন। অবশ্য নিজের স্বভাবসুলভ চারিত্রিক দৃঢ়তায়। তাকে প্রথমে অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি কবিতা লেখা ও পাঠের অনুরোধ করা হয়। ফ্রস্ট এরকম উপলক্ষ করে কবিতা লেখার বিরুদ্ধে জানিয়ে অস্বীকৃতি জানান। পরে তার ইচ্ছামত কবিতা পাঠেই সেটল হয়। কেনেডি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ফ্রস্টকে একটি চিঠি লিখে দাওয়াত দিয়েছিল। রবার্ট ফ্রস্ট খুব মজার উত্তর দিয়েছিল।

‘আপনি যদি এই বয়সে এত বড় দায়িত্ব নিতে সম্মত হতে পারেন তাহলে আমিও আমার এমন বয়সে আপনার প্রস্তাবে রাজি হতে পারি!’ (কথার রসটা হচ্ছে কেনেডি ছিলেন তখন পর্যন্ত আমেরিকার সবচেয়ে অল্পবয়সী প্রেসিডেন্ট। আর সেই অল্পবয়সী প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে  তার বয়স তখন ৮৪!)

এরপর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বইয়ের তাকটি থেকে দুটো বই নেই। একটা হচ্ছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আগরতলা ত্রিপুরা’-সম্পাদনা করেছেন সুকুমার বিশ্বাস। আরেকটা হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’ প্রথম খন্ড। এটা বেশিক্ষণ পড়তে  না  পারলেও প্রথমটা খানিক পড়েছি।  বিশাল বড়  বইটিতে আগরতলা ত্রিপুরার ভূমিকা উঠে এসেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূণ  চরিত্র্রের সাথে সাথে  অনেক সাধারণ মানুষেরও সাক্ষাতকার অক্ষরে রেকর্ড করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন সুকুমার বিশ্বাস।

দেখতে দেখতে আড়াই-তিন ঘন্টা পার হয়ে গেল! কত কিছু জানলাম, দেখলাম, হাটলাম কত পথে! পাঁচটা বাজতেই লাইব্রেরির লাইট অফ করে দিলো লাইব্রেরি সহকারী। বিদায় জানালাম লাইব্রেরিকে। কিন্তু যা জানলাম, দেখলাম সেটাকে বিদায় জানাবো কি করে?

বছরের শেষ দিনটি বেশ ভালোই গেলো। নতুন বছরের প্রত্যেকটা  দিন যেন কর্মময়, ঘটনাময় হয়।  যেন দেখতে পারি বিস্ময় নিয়ে, যা গ্রহণ করার সেটা যেন গ্রহণ করতে পারি মন খুলে। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!

 

ছবি: রদ্যাঁর- থিঙ্কার ভাস্কর্য

 

সাবিদিন ইব্রাহিম

ক্যাম্পাস ডায়রী, ৩১ ডিসেম্বর-২০১৫

Related Posts

About The Author

Add Comment