কিছু বই, বিডিএসএফ আড্ডা এবং অন্যরকম থার্টি ফার্স্ট নাইট

শরীর ভালো রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্চা জরুরী! মন ভালো রাখা ও চিন্তাকে বিকশিত করার জন্য বই হচ্ছে পুষ্টিকর উপাদান এবং স্বাস্থ্যকর চর্চা! গতকাল ২০১৬ এর শেষ দিনটিতে নিজের সব ভালো অর্জনের জন্য নিজেকে চারটি মহামূল্যবান বই উপহার দিয়েছি! বইয়ের চেয়ে মহামূল্যবান উপহার পৃথিবীতে আছে বলে আমি মনে করি না।

নিজেকে সেই মহামূল্যবান উপহার দেওয়ার সুযোগ আসলো আসলে একটি লেখা থেকে পাওয়া কিছু অর্থের আমদানির কারণে। কালকে ছয়টি বড় নোট পকেটে এসে আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিলো! পকেটে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টাকা থাকলে অস্বস্তিতে পরে যাই! ভাবলাম, টাকা হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার আগে নিজেকে কয়েকটা ভালো উপহার দিয়ে ফেলি।  

আর অর্ধদুপুর কনকর্ড কাঁটাবনের বইয়ের দোকান এবং নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে-পড়তে পড়তে-আড্ডা মারতে মারতে কিনে ফেলতে হলো এই চারটি বই:

  1. Yuval Noah Harari- Sapiens: A Brief History of Humankind
  2. Yuval Noah Harari- Homo Deus: A Brief History of Tomorrow
  3. হুমায়ুন কবির- বাঙলার কাব্য
  4. মঈদুল হাসান-মূলধারা ৭১

আমাদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স এর প্রস্তুতি চলাকালে সুদূর চীন দেশ থেকে আমার জন্য একটি বই ও এক প্যাকেট সুস্বাদু চকোলেট নিয়ে এসে ভালোবাসার বাধনে বেঁধে ফেলেছে বুয়েটের বন্ধু সাদিক! সাদিককে ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। এখানে কৃতজ্ঞতা জানাই, ভালোবাসা জানাই!

সাদিক চীনদেশ থেকে যে বইটি নিয়ে এসেছেন সেটি হলো মূল চীনা ভাষায় লেখা সান জু’র ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’! গত বছর আমার সবচেয়ে বেশিবার পঠিত বই হচ্ছে এটি। চীনা তেমন না বুঝলেও টেবিলে আছে এটা বেশ সুন্দর লাগছে! আশা করি এ বইটি মূল ভাষায় পড়ার চেষ্টা অব্যহত রাখতে এই সংগ্রহটি কাজে দেবে! ধন্যবাদ সা দিক!

আরেকজনকে ধন্যবাদ দেই। আমার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্ধু আমাকে কয়েকটি অসাধারণ উপহার দিয়েছেন। তাকেও ধন্যবাদ দিয়ে ফেলি! দুটি অনেক সুন্দর ডায়রী, দুটি কলম এবং সাথে রবীন্দ্র সমগ্রর ২৫ তম খণ্ড উপহার দিয়ে বিস্মিত করেছেন আমার সে বন্ধু। তাকে ধন্যবাদ এই মহামূল্যবান উপহার দেওয়ার জন্য!

অনেকগুলো বই এসে যুক্ত হলো গত মাসে। নতুন বছরটি অসাধারণভাবে শুরু করার জন্য ভালোভাবে রিচার্জ করতে হবে নিজেকে। নিজেকে রিচার্জ করা, সমৃদ্ধ করার সেরা রসদ হচ্ছে বই।

গতকাল থার্টি ফার্স্ট অসাধারণ গেলো! সিরডাপ মিলনায়তনে সাগর, মাহফুজ, লোকমান, মনির, আলাউদ্দিন ভাই সহ অনেকের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য হলো। সেখান থেকে হাকিম চত্তরে উত্তাল আলাপ শুরু করে দেন আমার পণ্ডিত বন্ধু এস এম মনিরুজ্জামান। ভালো পাল্টা প্রশ্ন করেছেন গল্পকার সাফি উল্লাহ। 

তারপর কনকর্ডে বইয়ের দোকানগুলোতে ঢু মারা। আদর্শ প্রকাশক মাহবুব ভাইয়ের কক্ষে মোহাম্মদ আজম স্যারের উপস্থিতিতে এক জমানো আড্ডা চলে কিছুক্ষণের জন্য। তীক্ষ্ণ রসবোধসম্পন্ন আজম স্যারের সাথে আলাউদ্দিন ভাইয়ের উপস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য আড্ডাকে বর্ণিল করে তোলে।

এদিকে হাকিম চত্তরে তখন জমায়েত হচ্ছিল স্টাডি ফোরামের অনেক বন্ধু!

সাড়ে ছয়টা থেকে একেবারে সাড়ে আটটা পর্যন্ত চলা জমানো আড্ডায় জমায়েত হন ডজনখানেক বন্ধু! নাট্যকলার নাহিদ তানভীর, এডভোকেট কাইয়ূম, ইতিহাসের ম্যাক্স, তানজির, খাইরুল, আবু হানিফ আলোচনা শুরু করেন। এগিয়ে নিয়ে যান সাগর বড়ুয়া ও আলাউদ্দিন ভাই। কাইয়ূম ও তানভীর নাহিদ বেশ কয়েকটি তর্কের জায়গা সৃষ্টি করে যা আলোচনাকে প্রাণবন্ত করেছিল।

শেষে এসে আতাগাছ নীরব শ্রোতার ভালো দায়িত্ব পালন করেন এবং চারুকলার সামনে আলাউদ্দিন ভাইয়ের সেলফি ক্লিক ও ক্যামেরাগিরির ক্ষেত্রে ভালোভাবে সহায়তা করেন। রিকশার ভালো ড্রাইভার আতা গাছের রিকশায় চড়ে চারুকলার সামনে বেশ কয়েকবার চক্কর দেওয়া হলো। ভাড়া চাইলেও ভাড়া দেইনি!

পাঠকের ডায়রী

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

  

Related Posts

About The Author

Add Comment