কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় স্টাডি ক্যাম্প ও শালবন বিহার ভ্রমণ

কর্ণফুলী নদীর তীরে..

বিডিএসএফ-কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অামন্ত্রণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছিলাম ২০ এপ্রিল বিকেলে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হতে তিশা ট্রান্সপোর্টের বাসে বিকেল ৫ টায় পৌঁছে যাই কুবি’র শান্ত -স্নিগ্ধ প্রাঙ্গনে।
কমরেড হাফসা জাহান ও ফয়সালের দেখা পেয়ে ভ্রমণের ক্লান্তি ভুলেছি নিমিষে। কিছুক্ষণ পর ঘুরে দেখি কুবি’র স্নিদ্ধ- সুন্দর প্রাকৃতিক ক্যাম্পাস। বঙ্গবন্ধুর কবুতর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিকৃতির পিছনে দাঁড়ানো প্রশাশনিক ভবন পেরিয়ে চোখে পড়েছে ব্যবসায় অনুষদ। তারপর কলা ভবনের ছাদে চড়ে দেখেছি চারদিকের সবুজ ক্যাম্পাস। মনে হচ্ছিল সবুজের মাঝ থেকে উঁকি দিয়ে অাছি অাকাশের পানে। কিছু সময় দক্ষিণের বাতাসের সাথে কাটিয়ে ঘুরে দেখেছি বিহারের নতুন বৌদ্ধ মন্দির। সোনা রঙে সাজানো মন্দির মুগ্ধ করেছো. মন্দিরের প্রবেশ পথের নাগরাজ দেখে একটু অন্যরকম লাগলেও বৌদ্ধর সোনালী প্রতিমা ও অাশ্রমের ছোট ছোট শিশুরা মন ভালো লাগায় ভরিয়ে দিয়েছে। মন্দিরের সোনালী নকশা, ভিতরের মূর্তি ও কারুকার্য মুগ্ধ করেছে। তুলেছি বেশ কিছু ছবি।

বৌদ্ধ মন্দিরে কিছু সময় …

তারপর অাবার ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারে সন্ধ্যা কাটানোর ফাঁকে স্টাডি ক্যাম্পের অফিসিয়াল টি-শার্ট হাতে তুলে দিয়েছেন কুবি টিমের সভাপতি ও অন্যরা। সে থেকে শুরু হয়ে গেলো স্টাডি ক্যাম্পের অামেজ।

সন্ধ্যায় বিশ্বিবদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের খাবার দোকানে রমজান মাসের অামেজে মুড়ি মেখে খেয়েছি সবাই। একই বলে সবার খাওয়া নাকি ওখানকার ঐতিহ্য।

তারপর চলে যাওয়া ইমদাদুলের অাবাসে। রাতের খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া। সকাল ৬ টায় গাড়ি ছাড়বে যে!

শরৎচন্দ্রের ‘পণ্ডিতমশাই’ পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়েছিলাম মনে পড়ে না। ঘুম ভেঙ্গছিল ইমদাদের ডাকে। কি সময়নিষ্ঠ মানুষ। সে জানত অন্যরা দেরি করতে পারে, তবুও ভোর ৫ টায় ওঠে অামায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশের সময় জ্ঞান বেশ ভালো লেগেছে। প্রায় ঠিক সময়েই গাড়ি ছাড়া গিয়েছিল। পথে সাদিক ভাই ও তানভির ভাইয়ের অন্তর্ভুক্তি অানন্দ বাড়িয়েছে অারও।

স্বাধীনতা স্তম্ভে…

সকালে নাস্তার পর সুরের তালে তালে ছুটে চলেছি প্রথম গন্তব্যস্থল স্বাধীনতা স্তম্ভের দিকে।
এটি এমন একটি স্থান যেখানে দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত স্থাপনার প্রতিকৃতি সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। শহিদ মিনার, কার্জন হল, স্মৃতি সৌধ, সোনা মসজিদ, ছোট কুঠি, বড় কুঠি, হাই কোর্ট, কান্তজির মন্দির, লালববাগ কেল্লা, অাহসান মঞ্জিল সহ অন্যান্য অারও কিছু স্থাপনার প্রতিকৃতি দেখে মনে হবে এ যেন মিনি বাংলাদেশ।

সব ঘুরে দেখার সাথে সাথে হয়েছে ফটো সেশন। বিভিন্ন ভঙ্গিমায় সময় কে স্মৃতি করে ধারণ করা হয়েছে।

পরে শুরু হয়েছে অালোচনা। প্রথমেই স্বাধীনতা স্তম্ভ নিয়ে ইমদাদুলের তথ্যবহুল অালোচনায় সমৃদ্ধ হয়েছি। তার অালোচনায় এই স্থাপনার ইতিহাস ও বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। জেনেছি এ স্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক টানা -পোরণ।

চলছে আলোচনা…

এরপর হয়েছে কৌতুক, গান, গল্প ইত্যাদি।

এরপর শুরু হয় ভোজন পর্ব। তীব্র রোধে হেঁটে ক্লান্ত হয়েগিয়েছিল সবাই। ক্ষুধার্ত পেটে খেতে গিয়েছি বিখ্যাত হাজির বিরিয়ানী। পেট পুরে খেয়ে অাবার বেড়িয়ে পড়েছি দ্বিতীয় গন্তব্যস্থল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে।

সমুদ্রের তীব্র বাতাসে গা জুড়িয়ে, ঢেউ দেখে, ছবি তুলে কেটেছে বেশ কিছু সময়। এরপর সবাই ছুটে গেছি কর্ণফুলী নদীর তীরে। জোয়ারের জোড়ালো ঢেউ দেখে চোখ জুড়িয়েছি। সারি সারি গাছের ছায়ায় বসে শুনেছি হূমায়ুন অাহমেদ কে নিয়ে মাহের রাহাতের চমৎকার অালোচনা।

হূমায়ুন অাহমেদের জোছনা বিলাস, সমুদ্রে মুগ্ধতা ও বৃষ্টির প্রতি অমর ভালবাসার গল্প শুনে কেটেছে বেশ কিছু সময়। হাফসা জাহানের কবিতা দিয়েছে ভাল লাগার পরশ।

হূমায়ুন আহমেদকে নিয়ে মাহের রাহাতরে আলোচনা ..

রেফেল ড্রতে গতবছরের মতো এবারও হয়েছি প্রথম। যা অানন্দের মাত্রা বাড়িয়েছে অনেক।

সূর্যাস্ত দেখতে সবাই অাবার গিয়েছি পতেঙ্গা সৈকতে। এরপর কেনাকাটায় কেটেছে সময়। সন্ধ্যা ৭ টায় গাড়ি তার দিক বেছে নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

পতেঙ্গা সৈকতে সূর্যাস্ত..

Related Posts

About The Author

Add Comment