ক্যাম্পাসে কাঠবিড়ালি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সুন্দর কয়েকটি দৃশ্যের একটি হচ্ছে কাঠবিড়ালির উপস্থিতি। কলাভবন এর সামনে থাকা গাছগুলি, মসজিদের পাশের গাছগুলিতে বা হাকিম চত্তরের বড় কড়ই গাছগুলোসহ আরও কয়েকটি জায়গায় নিয়মিতই দেখা পাওয়া যায় এসব দুষ্ট কাঠবিড়ালির।

2

এরা আপনার ফেলে রাখা চায়ের কাপ থেকে শেষ চুমুক নেওয়ার মতো বেয়াদবি করে। আবার কখনো বা পড়ে থাকা আইসক্রিমের কাপ থেকে আইসক্রিম খাওয়ার বিলাসিতা করবে। চিপস্ খাবে খানদানি ভঙ্গিতে। হঠাৎ করেই আপনার পায়ের সামনে এসে দৌড়াদৌড়ি করবে। কখনো বা পা’কে গাছ মনে করে বাইতে থাকবে।

3

এতসব বেয়াদবি বা দুষ্টমির পরও আপনি তাদের প্রতি বিরক্ত হবেন না, রাগ করবেন না, শাস্তি দিতে চাইবেন না! কারণ তারা যে দেখতে এত্ তো কিউট! আপনি প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলবেন। কাঠবিড়ালির সাথে এরকম ভালোবাসার গল্প ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরই।

কাঠবিড়ালিগুলো এত সুন্দর যে যে কারও দৃষ্টি কেড়ে নেবেই যত ব্যস্ত থাকুন না কেন, যত প্রেমে মশগুল থাকুন না কেন, আপনি যত বড় ক্যাডারই হন না কেন, বা ভাবুক হন না কেন!

আর কাঠবিড়ালির সাথে আমাদের অনেকেরই প্রথম পরিচয় ছোটবেলায় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পড়ে। মনে আছে সে কবিতাটা? চলেন ফিরে যাই আবার শৈশবে!

4

খুকী কাঠবিড়ালি

– কাজী নজরুল ইসলাম

কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও?-

ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকলগুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!

কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল?
দেখনি তবে? রাঙাদা’কে ডাকবো? দেবে ঢিল!
পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা!
তাইতো তার নাকটি বোঁচা!
হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস!
একলাই খাও হাপুস হুপুস!
পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে!
হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে!

ইস। খেয়োনা মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও!
আমিও খবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও!
কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি’ হবে? বৌদি হবে? হুঁ,
রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঁঃ!

এ রাম! তুমি ন্যাংটা পুঁটো?
ফ্রকটা নেবে? জামা দু’টো?
আর খেয়ো না পেয়ারা তবে,
বাতাবি নেবুও ছাড়ুতে হবে!
দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছ যে ছুট? অ-মা দেখে যাও!-
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!

কাঠবিড়ালির ছবিগুলো তুলেছেন: কাজী ওমর ফয়সাল

ছবি তোলার স্থান: তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল চত্ত্বর

সময়: সকাল ৬.৩০ টা

Related Posts

About The Author

One Response

Add Comment