ক্যাম্পাস আড্ডা: দৈনিক আড্ডার উদ্দেশ্য কি?

আজকে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই পর্বের আড্ডা চলে। সন্ধ্যা সাতটায় লাইব্রেরির সামনে শুরু হওয়া আড্ডা হাকিম চত্তরে এসে শেষ হয়। দৈনিক আড্ডার উদ্দেশ্য ও দার্শনিক ভিত্তি নিয়ে প্রথম পর্ব চলে। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি অর্জন দৈনিক আড্ডার একটি প্রধান কারণ। আর এর মাধ্যমে নিজের ডিসিপ্লিনে সক্ষমতা বাড়ানো যায়। আমরা এমন একটি সময়ে বসবাস করি যখন স্রেফ একটা বিষয়ে স্পেশালাইজেশন অর্জন অসম্ভব অন্তত একটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কৃত কয়েকটা ডিসিপ্লিনের সাথে যোগাযোগ না থাকে।

1

কবি সুমনা মৃধার স্বরচিত কবিতা পাঠ!

দৈনিক আড্ডার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো অর্জিত জ্ঞানকে প্রকাশ ও শেয়ার করার সক্ষমতা অর্জন করা। আমরা যে ইনফর্মেশন ও নলেজ অর্জন করি এটা অন্যের সাথে শেয়ার করতে না পারলে, অর্জিত জ্ঞানকে নিজের জীবন বা সামাজিক জীবনে কাজে লাগাতে না পারলে সেটা জ্ঞান হয়ে উঠে না। একটা পেনড্রাইভ বা কম্পিউটারে অনেক তথ্য বা জ্ঞান জমা থাকতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার বা পেনড্রাইভ জ্ঞানী নয় বা নির্বোধও নয়! কারণ সে নিজে কোন কাজ করতে পারে না। মানুষই জ্ঞানী বা নির্বোধ হতে পারে। ইনফর্মেশন ও নলেজকে যখন আমরা আমাদের জীবনে ব্যবহার করি, পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারি-আমাদের অর্জিত জ্ঞান যখন আমাদের আশেপাশে প্রভাব ফেলে তখন জ্ঞান হয়ে উঠে।

3

রাজিদুলের সেলফি, আতা গাছের সমস্যা সমাধান বিত্তান্ত আর আমরা মনোযোগী শ্রোতা!

স্টাডি ফোরাম এরকম জ্ঞান অর্জন এবং এর প্রকাশ ও বিকশিত করার জন্য কাজ করে। দৈনিক আড্ডা সেরকম একটি মাধ্যম, স্টাডি ফোরামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের ছাত্র আলিফ চৌধুরী আমাদের ৮১ তম পাবলিক লেকচারে উত্থাপিত ‘বায়ো কলোনিয়ালিজম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন শস্যাদি বা উৎপাদিত পণ্যের প্যাটেন্ট নিয়ে কথা তুলেন। ফাইন্যান্সের অপর এক ছাত্র রুহুল আমিন আলোচনা করেন একটি সুন্দর ইভেন্ট বাস্তবায়নের শর্তগুলো কি কি। আমাদের আসন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স নিয়ে কথা চলে। জহির রায়হান সজীব স্টাডি ফোরামের কর্মকাণ্ড এবং আসন্ন কনফারেন্স নিয়ে দশ মিনিটের একটি বক্তব্য রাখেন।

হাকিম চত্তরে আড্ডার প্রথম পর্ব শেষ হয় আমাদের আড্ডায় প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কবি সুমনা মৃধার স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে।

আড্ডার প্রথম পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক এ.এস.এম. ইউনূছ, কে এন ঈপ্সিতা ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাসমত।

প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার চা-পর্ব শেষ হলে আমাদের সাথে যুক্ত হন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র এবং বিডিএসএফ, শেকৃবির প্রেসিডেন্ট সাইফুল্লাহ উমর নাসিফ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র রাজিদুল। আর আসেন আতা গাছ ওরফে আবদুল হাকিম আবির।

রাজিদুল আমাদের সবাইকে মিশুক মনির চত্তরে কফি পানের আমন্ত্রণ জানান। শীতের রাতে আড্ডা জমানোর জন্য কফি খুবই জরুরী অনুসঙ্গ! আমরা রাজিদুলের আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করি।

কফি খেতে খেতে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ চলতে চলতে একটা বিষয়ে এসে স্থির হয়। আমি একটি প্রশ্ন তুলি এবং এর উপর সকলের উত্তর, অবস্থান বা চিন্তা শেয়ার করতে বলি।

4

প্রশ্নটা ছিল: আমরা কিভাবে কোন সমস্যার মুখোমুখি হই? এটাকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা যায়। যেমন ‘সমস্যা দেখলে আমি কি করি?’ ‘আর সমস্যাই বা কি?’

সমস্যার দুটো দিক; সমস্যা আপনার বিকশিত হওয়ার প্রমাণ বা দীর্ঘদিনের ভুল পরিচালনার সাক্ষর। যদি বারবার একই ভুলে সমস্যায় পড়েন তাহলে সেটা থেকে উত্তরণের উপায় নাই যদি সেখানে আপনি একশন না নেন। আপনার স্থবিরতা, শৈথিল্য, ঢিলেমি আপনাকে সমস্যার বৃন্তে আষ্টেপৃষ্ঠে বেধে রাখবে।

আরেক ধরণের সমস্যা আছে যেখানে সম্ভাবনা লুক্কায়িত। সে ধরণের সমস্যাকে স্বাগতম জানাতে হবে!  এজন্য সে ধরণের সমস্যা দেখে ভড়কে যাওয়া যাবে না। কারণ সে সমস্যাটা সমাধান করার মাধ্যমেই আমাদের অগ্রগতি আসে। অনেকেই ব্যক্তিগত, সামাজিক বা সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে সে ধরণের সমস্যা দেখে ভয় পেয়ে যান, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে সমস্যার নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে যান। একজন সফল সংগঠক, কর্মীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি সমস্যার মূলে প্রবেশ করেন এবং এর সমাধানটি বের করেন এবং সেটি কার্যকর করেন।

সমস্যা নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত প্রত্যেকেই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত রাখেন সাইফুল্লাহ ওমর নাসিফ, রাজিদুল, আবির, এ.এস.এম ইউনূছ ও হাসমত উল্লাহ।

আমাদের প্রলম্বিত আড্ডা শেষ হয় রাত্রি দশটায় টিএসসির মাল্টা চা খেয়ে! একটি প্রাণবন্ত সন্ধ্যার সকল চরিত্রের জন্য ভালোবাসা!

ক্যাম্পাস ডায়রী

১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

Related Posts

About The Author

Add Comment