গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া: একজন সাহসী মানুষের সাথে কিছুক্ষণ

আজকে এমন একজন তরুণের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে যার তারুণ্যের দীপ্তি, সাহসের গল্পগাঁথা

আমার শরীর ও মনে শিহরণ জাগিয়ে তুলেছে। দেখা ও কথা বলার পর স্মৃতিটা লিখে রাখার জোর প্রয়োজন মনে করছি।

সে এমন এক সাহসী স্কুল ছাত্র ছিল যে ক্লাস এইটে থাকা অবস্থায় স্কুল মাঠ থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ফেলে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিল। তখনো বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইন হয়নি। সেই স্কুল ছাত্র মনের মাধুরী মিশিয়ে লাল-সবুজ মিশিয়ে একটি পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছিল। সেটা ১৯৬৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্কুলে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ফেলেছিলেন সেই বার-তের বছরের কিশোর! ফলাফল হিসেবে স্কুল থেকে আজীবন বহিস্কার (রাস্টিকেটেড) হন। দুইবছর বিরতির পর প্রাইভেট স্কুলে আবার ক্লাস সেভেনে ভর্তি হন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে বেগমগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি আহম্মেদ সুলতান (বজরা) বি.এল.এফ (মুজিব বাহিনীর) বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহকারীর দায়িত্ব পালন করেন। মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টর প্রধান শেখ ফজলুল হক মনি, উপ-প্রধান আ .স.ম আবদুর রব, জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত ও রাজনৈতিক সমন্বয়কারী, মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৬৬ বার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তার আরেকটি অনন্য কৃতিত্ব ও অসামান্য সাহসিকতার নজির হচ্ছে ৬৬ বার ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করা । এটা করতে গিয়ে কয়েকবার মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন এবং একবার রাজাকারের হাতে ধরা খেয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পতিত হন। রাজাকারদের মধ্যে মুক্তিবাহিনীর এক চরের সহায়তায় সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন।

বর্তমান সময়ে খাইখাই মানসিকতার মানুষের আধিক্য দেখে ভীষণ কষ্ট পান গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ সারা জীবনব্যপীই তার মধ্যে দৃশ্যমান।

দীর্ঘ চারদশকের পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন সোনাইমুড়ি অন্ধকল্যাণ সমিতি যার মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ চক্ষু চিকিৎসা পেয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের এলাকার মানুষ গোলাম মোস্তফা ভূইয়া চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা সমাজসেবক মনোনিত হয়েছেন।

আজকে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াতে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের সাপ্তাহিক বৈঠক ছিল। বৈঠকে আমাদের আগামী ২৮ মার্চ পুরান ঢাকাতে দিনব্যপী স্টাডি ক্যাম্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও কাজের দায়িত্ব বন্টন হয়। মিটিং শেষে আমরা যথারীতি হাকিম চত্ত্বরে চা-চক্রে যোগ দিই। এরই মধ্যে ইউনুছ ভাইয়ের তাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজে যেতে হবে। কারণ তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন গোলাম মোস্তফা ভূইয়া ছাড়া পাবেন আগামীকাল।

গত শনিবার রাতে স্টাডি ফোরামের একদল বন্ধু নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখন উনি ডাক্তারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন এবং ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এজন্য সেদিন আর কথা-বার্তা হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আজকে কথা-বার্তা হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে আমিও ইউনূছ ভাইয়ের সাথে ঢাকা মেডিকেলের দিকে চললাম। ছিটমহল আন্দোলনের প্রাণপুরুষ এ.এস.এম ইউনূছ নিজে একজন অসাধারণ সংগঠক এবং বড় মাপের মানুষ। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। নি:সন্দেহে তিনি অনন্য মানুষ হতে বাধ্য। ঘন্টাখানেক কথা বলে আমারও তাই মনে হয়েছে। এই বয়সেও গায়ে ও মনে দীপ্যমান শক্তির আলোকচ্ছটা দেখেছি, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য দরদ উপচে পড়তে দেখেছি।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিলেন গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। ঐদিন সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয়  দিবস উদযাপন বিষয়ে একটি সভা করে উপজেলার সামনে রাস্তার পার হচ্ছিলেন। এ সময়  দ্রুতগামী একটি সিএনজি অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে মাইজদী বেসরকারি প্রাইম হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি তার ঘাড়ের পাশের হাড়ও ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিওরোলজি বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচদিন চিকিৎসা শেষে এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ।

গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া দীর্ঘজীবি হউক এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাক, আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে যাক এই প্রার্থনা রইলো।

 

গত ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫ এ জাগো নিউজে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলেন জাগো নিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান। এখানে পুরো সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো:

গোলাম মোস্তফা ভূঁঞা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনীতিক সমাজসেবক। তিনি ১৯৫১ সালের নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 

তার বাবা মরহুম মৌলভী মোকসেদুর রহমান ভূঁঞা মাতা মরহুম আনঞ্জুমের নেছা। তিনি বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করে চৌমুহনী সরকারি এস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। 

১৯৬৯ সালে অধ্যাপক মো. হানিফ, মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার পাটোয়ারী মোস্তাফিজুর রহমান লুতুর অনুপ্রেরণায় গণঅভ্যুথানে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। 

তিনি ১৯৭০ সালে বেগমগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জাতীয় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি আহম্মেদ সুলতান (বজরা) বি.এল.এফ (মুজিব বাহিনীর) বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে নিপূণ তথ্য সংগ্রহ সরবরাহকারীর দায়িত্ব পালন করেন। মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টর প্রধান শেখ ফজলুল হক মনি, উপপ্রধান .. আবদুর রব, জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত রাজনৈতিক সমন্বয়কারী, মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৬৬ বার ভারতবাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। 

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্রযুবকদের ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া ট্রেনিং শেষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা এবং দেশের ভেতর মুক্তিযোদ্ধাদের থাকাখাওয়া, যাতায়াত, চিকিৎসা সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করাই ছিল তার অন্যতম দায়িত্ব। স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে তিনি জাসদ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং বিভিন্ন সময়ে জেলাউপজেলা জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় রাজনৈতিক কারণে তিনি কারাবরণ করেন। 

রাজনৈতিক সামাজিকভাবে তিনি একজন সফল সংগঠক হিসেবে সকলের সুপরিচিত। তিনি সোনাইমুড়ী অন্ধ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠতা সাধারণ সম্পাদক, নাটেশ্বর ইউনিয়ন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ছনুয়া নাজমুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, সদস্য জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সদস্য সার্বজনীন জন্ম নিবন্ধন টাস্কফোর্স কমিটি, সদস্য উপজেলা স্কাউট, সদস্য জেলা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন, সদস্য খাস জমি বিতরণ কমিটি, উপদেষ্টা দি গ্রিন লাইফ, সদস্য বজরা শাহী জামে মসজিদসহ বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে দেশ প্রেমিক মানব হিতৈষী গোলাম মোস্তফা ভূঁঞা সাত সন্তানের জনক। 

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জাগো নিউজকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত দিনগুলোর উত্তাল তরঙ্গ আজো হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। ঘুমের ঘোরে শুনতে পাই মেশিনগানের শব্দ, মর্টারের আওয়াজ, জয় বাঙলার প্রতিধ্বনি। আমরা চারজন। আমি, মরহুম আবদুল হালিম (হাটির পাড়/ছাচুয়া গ্রাম) মোজাম্মেল হোসেন বাচ্চু (কেশারপাড়) যুদ্ধকালীন অবস্থার নিপুণ তথ্য সংগ্রহ সরবরাহ করা এবং মুক্তিবাহিনীতে যোগদানের জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীর ছাত্র যুবকদের উদ্বুদ্ধ করে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং ট্রেনিং শেষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা দেশের ভেতরে তাদের থাকা খাওয়া প্রভৃতির দায়িত্ব পালন করেন।  

মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টর প্রধান শেখ ফজলুল হক মনি, উপপ্রধান আবদুর রব, জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত রাজনৈতিক সমন্বয়কারী মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি তার সঙ্গীরা ৬৬ বার ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করেন। 

যুদ্ধকালীন সময়ে অনেকে ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনা আজও তার মনে দাগ কাটে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসা ঘটনাটি তিনি এখনো ভুলতে পারেননি। একান্ত আলপচারিতায় সে স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মধ্য আগষ্ট ‘৭১ মেঘলা আকাশ। সারাদিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।

কলেজটিলা, আগরতলা থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য রওয়ানা হই। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমরা গুণবতি রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশ দিয়ে রেল লাইন পার হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। বেলা গড়িয়ে তখন সময় বিকেল চারটা কি পাঁচটা। একটু দূরেই গুনবতি রেল স্টেশন গোডাউনে পাক আর্মি ও মিলিয়িশায়া ক্যাম্প। হঠাৎ আমাদের কানে আওয়াজ ভেসে আসল দুশমন যাতাহায়, দুশমন যাতাহায়। আমরা তখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পাশের গ্রামে ঢুকে পড়ি। বিধিবাম! পাঞ্জাবি আর মিলিশিয়াদের হাত থেকে রেহাই পেলেও রাজাকার ও শান্তি কমিটির লোকজন আমাদেরকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ধরে ফেলে এবং একটি গোয়াল ঘরে বেঁধে আমাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ততক্ষণে অন্ধকার নেমে এসেছে। আমরা নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুণছি।

মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছি। সৌভাগ্য যে, আমাদের বন্দি করার সংবাদটি নিকটস্থ পাকসেনা ক্যাম্পে কেউ পৌঁছায়নি এবং আমাদের শরীরও কেউ তল্লাশি করেনি। এসময় আমাদের সহযোদ্ধা, অসীম সাহসী ও বীরত্বের অধিকারী মরহুম আহমেদ সুলতান তার শরীরে লুকায়িত রিভলবার ব্যবহার করে মুক্তি পাওয়ার জন্য বার বার উদ্যত হচ্ছিলেন। তখন আমি বোবার ভাষায় তাকে সংযত করি। এসময় আমরা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। নিশ্চিত মৃত্যু আমাদের শিয়রে। শত শত লোক আমাদের দেখতে সমবেত হয়েছে। উপস্থিত সকলেই বাকরুদ্ধ, চোখে মুখে বিষন্নতা। আমরা বাঁচার জন্য আকুতি মিনতি করছি এবং ভয়ে কাঁপছি। এরই মাঝে হঠাৎ একটা নাম শুনতে পাই `লিডার কুতুব ভাই` আসুক।

কে এ কুতুব ভাই? এ কুতুব উদ্দিন হলো ফেনী লাকসাম এলাকার রাজাকার কমান্ডার। তিনি ছদ্মবেশে রাজাকার কমান্ডার হয়ে গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সহযোগিতা করতেন। মূলত, তিনি ছিলেন মরহুম খাজা আহম্মদ ও মরহুম শেখ ফজলুল হক মনির অনুগত লোক। ইতোমধ্যেই কুতুব উদ্দিন আমাদের আটক স্থানে পৌঁছে এবং হালকা নির্যাতন ও গালমন্দের কৌশলী ভূমিকা নিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। ছাড়া পেয়ে আমরা গভীর রাতে কানকিরহাটের দক্ষিণ হাটিরপাড়ে (ছাচুয়া গ্রাম) প্রাক্তন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রাণ পুরুষ মরহুম ডা. নুরুজ্জামান চৌধুরী সাহেবের বাড়ি পৌঁছাই। তিনি আমাদেরকে পরম যত্ন সহকারে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সুস্থ হয়ে আমরা মাতৃভূমি শক্রমুক্ত করার জন্য আবার মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

স্বাধীনতার ৪৫ বছরে এসে তিনি জানান, অনেকে স্মৃতি এখন বিস্মৃতি হয়ে গেছে। এরই মধ্যে রণাঙ্গনের অনেক সাথীকে হারিয়েছেন। তাদের কথা এখনো মনে ভেসে উঠলে নিজের অজান্তে চোখের কোণায় পানি এসে যায়। এখনো যারা জীবিত আছেন আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা ও চলে যাবেন না ফেরার দেশে। মুক্তিযুদ্ধের যে অর্জন তা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হলে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো কিছু অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে আরও জানান, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি যে কম তা বলা যাবে না। তবে আমাদের প্রত্যাশা ছিলো আরও বেশি। শোষণহীন সমাজ, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত দেশ, সমধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে আমাদের যে যুদ্ধ তাতে অনেকটা জয়ী হয়েছি। আমরা জাতীয় পতাকা, স্বাধীন সত্ত্বা ও একটি সংবিধান পেয়েছি। আর এর কৃতিত্ব সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহান বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর।

সবশেষে, তিনি ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত, বীরশ্রেষ্ঠ, বীরপ্রতীক,বীরবিক্রমসহ সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

Related Posts

About The Author

Add Comment