গ্রামের একটি পাঠাগারের গল্প

টেষ্ট পরীক্ষার পর ভাল কোচিং এর জন্য প্রথম গ্রাম ছাড়ি। তখনি প্রথম বাহিরে থাকি। বাহিরে থাকলেও দুই তিন বার বাড়ীতে আসা যাওয়া করতাম। এসএসসি পরীক্ষার সময় বাহিরে থাকি। এই সময় পরিবারের সকলেই বাসা নিয়ে শহরে চলে যায়। বাবা যদিও স্থায়ি ভাবে যাননি চাকরির জন্য। পরিক্ষা শেষে বাড়ি কাটে কয়েকদিন।

একদিন বিকেলে সকলের সাথে আড্ডা দেবার পর বাড়ীতে ফিরার সময় এক বড় ভাই বলে কাল স্কুলের ঐখানে এসো পাঠাগার তৈরি করা নিয়ে আলোচনা হবে। পরের দিন সেই খানে গিয়ে দেখি ঢা.বি.পড়া এক ভাই এর উদ্যোগ নিয়েছেন। সকলেই আলোচনায় বসি। সকলেই পুরাতন একটা স্কুল ঘরকে নির্ধারণ করি পাঠাগার এর জন্য। দুই দিন পর এই সিদ্ধান্ত পাল্টানো হয় ঘরটা ঝুকিপূর্ন হওয়ার কারণে। এর পর অন্য একটা ঘর এর কথা বলা হয়। কিন্তু তা লোকালয় থেকে দূরে হয়ে যায়। হঠাৎ করেই কথা উঠে স্কুলের পূর্ব পার্শের পুরাতন দোকানের। সকলে মিলে মালিকের সাথে কথা বলে দোকানটি নেয়। আর তখনি পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তা করে ফেলে যদিও বাহিরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। পরের দিন চালু করার সিদ্ধান্ত হয়।

পাঠাগার পরিস্কার করার পর

পাঠাগার পরিস্কার করার পর

পরের দিন। কয়েক জনের সংগ্রহের মোট ২১টি বই, এক জোড়া বেঞ্চ, কাঠের একটি তাক দিয়েই চালু করা হয় পাঠাগারটি। এলাকার একজন প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় পাঠাগারটির। নাম দেওয়া হয় “জঙ্গলবাড়ী বাতিঘর”। এটি চালু রাখার জন্যই আর শহরে যাওয়া হয় নি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন কলেজে ভর্তির সময় এসে গেছে।এর জন্য গ্রাম ছাড়তে হবে। কেমনে যে ঐ ইট পাথরের শহরে থাকবো এই সুন্দর প্রকৃতি ছেড়ে। ভালবাসি গ্রাম, গ্রাম এর সব কিছু। চালু থাকুক আমাদের পাঠাগারটি।

jangalbooks

বই উপহার দিয়ে এগিয়ে আসছে গ্রামের বন্ধুরা!

প্রতিটি গ্রাম জ্বলে উঠুক জ্ঞানের আলোতে!

মোহাম্মদ মাহমুদুল হোসাইন ফিরদাউস

সদস্য, জঙ্গলবাড়ী বাতিঘর

Related Posts

About The Author

Add Comment