জঙ্গলবাড়ী বাতিঘরের চড়ুইভাতি

আশ্বিন মাস চলছে, তবুও শরতের কোন আবহ চোখে পড়ে না। বৃষ্টি শুরু হলে আষাঢ় মাসের ঝুম বরষা, আর রোদ উঠলে একেবারে গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ শুরু হয়! বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী কর্কটক্রান্তি এলাকার চিরচেনা আবহাওয়ার পঞ্জিকাটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।

যাহোক, দুপুরবেলা তীব্র গরমে অলস সময় কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ যথাক্রমে ছোটভাই ফিরদাউস ও ইকরা ফোন দিয়ে জঙ্গলবাড়ী বাতিঘরে যেতে বললো। আলস্য কাটিয়ে নিতান্ত বাধ্য হয়ে গেলাম বাতিঘরে। বাতিঘর সম্পর্কিত টুকটাক আলোচনা সমাপ্ত করে বাতিঘরের সামনে গাছের ছায়ায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম।

গ্রামের কয়েকটি শিশু ভরদুপুরের ফাঁকা রাস্তায় সাইকেল চালানো শিখছিলো। ইকরা, ফিরদাউস ও ইসহাকের শৈশব স্মৃতি যেন ভেসে উঠলো! ওরাও ছোটদের সাইকেল চালানো শুরু করলো। আমি বেশ উপভোগ করছিলাম সদ্য শৈশব পেরোনো কিশোরদের কান্ডকারখানা। ঝটপট কিছু ছবি তুলে রাখলাম।

এমনিভাবে আড্ডার এক ফাঁকে প্রস্তাব করলাম “টুলাপাতি” (শুদ্ধ বাংলায় চড়ুইভাতি) করলে কেমন হয়? ছেলেরা শুনে লাফিয়ে উঠলো যেন ওরা প্রস্তুতই ছিলো! ফিরদাউস বললো “আজই”। ব্যাস, সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলো!

 

সাঈদ, ফিরদাউস ও ইকরা সন্ধ্যায় পোড়াবাড়ী বাজার থেকে মুরগি, চাল, তেল ও মসলাপাতি কিনে আনলো। এশার নামাজের পর ফরাজী বাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদের সামনে রান্নার কাজ শুরু হলো। সাঈদ, ফিরদাউস, রায়হান, মাসুদ, ইকরা, সেলিম হুজুর ও আমি মিলে “জঙ্গলবাড়ী বাতিঘর স্পেশাল চিকেন বিরিয়ানী” রান্না করলাম।

এরপর ভোজনপর্ব সাঙ্গ করে যার যার বাড়ি ফিরে গেলাম। হাসি, ঠাট্টা, আড্ডা ও যৌথ পরিশ্রমে একটি সার্থক ও আনন্দমুখর গ্রামীণ “চড়ুইভাতি” সম্পন্ন হলো।

Related Posts

About The Author

Add Comment