জন এফ কেনেডি এবং কবিতা

(আমেরিকার ৩৫ তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের একজন তিনি। ১৯৬১ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আরোহণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর এক করুণ গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তার হত্যার পেছনে পুরো রহস্যের জট এখনো খুলেনি। তার অনেক গুণের মধ্যে একটি হচ্ছে কবি ও কবিতাকে পছন্দ করা। এখানেই এমনই কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। হাফিংটন পোস্টে লেখা জন লান্ডবার্গের এই লেখাটি বাংলায় তরজমা করেছেন সাবিদিন ইব্রাহিম)

জন এফ কেনেডির বাগ্মীতার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় কবিতার সাথে তার সম্পর্কের কথা। এমনকি কবিতা নিয়ে তার অনেকগুলো মন্তব্য রয়েছে। এগুলো থেকে সহজেই অনুমান করা যায় এই শিল্পটার প্রতি তার গভীর অনুরাগের কথা।

১৯৬৩ সালে এমহার্স্ট কলেজে রবার্ট ফ্রস্ট লাইব্রেরী উদ্বোধনকালে কেনেডির একটি বক্তৃতার কথা স্মরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পত্রিকা ‘পলিটিকো’ একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে। মনে হতে পারে কেনেডি ঐ অনুষ্ঠানে গিয়ে ফ্রস্টের কাছে পুরনো দেনা শোধ করছেন। ফ্রস্ট যে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে গিয়ে কবিতা আবৃত্তি করে এসেছিলেন। (কবিরাও সম্রাট। সব বড় সম্রাটরাও এই সম্রাটদের কাছে মাথা নত করে। তবে কবি হতে হবে। ব্যবসায়ী নয়।) কিন্তু তার বক্তৃতাটার দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে যে  কবিতা নিয়ে তার কিছু শক্ত ও নির্ভেজাল মতামত ছিল।   তিনি ফ্রস্টকে নিউ ইংল্যান্ডের কণ্ঠ অভিহিত করার অতি পরিচিত কথা এড়িয়ে তিনি ফ্রস্টকে স্বীকার করছেন সমাজের কঠিন সত্যের প্রদর্শক হিসেবে। এক্ষত্রে রবার্ট ফ্রস্টের নিজের পরিচয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের সম্পর্কে বলতেন যে তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি ‘অন্ধকারের সাথে পরিচিত’।

প্রেসিডেন্ট কেনেডি ঐ বক্তৃতায় বলেছিলেন-‘যদি রবার্ট ফ্রস্ট তার জীবদ্দশায় সন্মানিত হয়ে থাকেন তার কারণ বেশিরভাগই তার কবিতার কঠিন সত্যের কথা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করছে’।

কেনেডি কবিতার  ভেদ বর্ণনা করেছেন ক্ষমতার দৃষ্টিকোণ থেকেই: “যখন ক্ষমতা মানুষকে ঔদ্ধত্যে নিয়ে যায়, কবিতা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার সীমাবদ্ধতার কথা। যখন ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে দেয় মানুষের চিন্তার সীমানা সেখানে কবিতা অস্তিত্বের ঐশ্বর্য এবং এর বৈচিত্র্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যেখানে ক্ষমতা  দূষিত করে সেখানে কবিতা পরিশুদ্ধ করে। কারণ শিল্প আমাদের মৌলিক মানবীয় সত্য প্রতিষ্ঠা করে যেটা আমাদের বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে কষ্টিপাথরের মত কাজ করে”।

পলিটিকো তাদের ঐ আর্টিকেলটিতে দেখায় যে অনেকটা এরকম বক্তৃতা সাত বছর আগেও দিয়েছিলেন সাত বছর আগে। তখন তিনি একজন সিনেটর ছিলেন।  তিনি বলেছিলেন: যদি রাজনীতিবিদরা কবিতা জানতো এবং কবিরা রাজনীতি জানতো আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত পৃথিবীটা একটু ভালো থাকার জায়গা হতো”।

দুটো বক্তৃতা থেকে এটা পরিস্কার যে ক্ষমতা ও রাজনীতির দ্বারা বিকৃত হয়ে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কারে  কবিতার ক্ষমতার উপর তার আস্থা ছিল। আমরা জানি যে প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় সে ফ্রস্ট ও বায়রনের কবিতা পড়তেন। এবং প্রায়ই তার স্ত্রীকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কবি এলান সীগারের “I Have a Rendezvous With Death”(আমার দেখা হয়েছিল মৃত্যুর সাথে) কবিতাটি আবৃত্তি করতে বলতেন। বিপদের মুখে সাহসিকতা দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাশীলতার কথা বলা হয়েছে সীগারের কবিতাতে। এই সপ্তাহের জন্য এই কবিতাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।(২২ নভেম্বর কেনেডি গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিলেন)

I have a rendezvous with Death
At some disputed barricade,
When Spring comes back with rustling shade
And apple-blossoms fill the air-
I have a rendezvous with Death
When Spring brings back blue days and fair.

It may be he shall take my hand
And lead me into his dark land
And close my eyes and quench my breath-
It may be I shall pass him still.
I have a rendezvous with Death
On some scarred slope of battered hill,
When Spring comes round again this year
And the first meadow-flowers appear.

God knows ’twere better to be deep
Pillowed in silk and scented down,
Where love throbs out in blissful sleep,
Pulse nigh to pulse, and breath to breath,
Where hushed awakenings are dear…
But I’ve a rendezvous with Death
At midnight in some flaming town,
When Spring trips north again this year,
And I to my pledged word am true,
I shall not fail that rendezvous.

 

এমারহাস্টে তার বক্তৃতা শেষ করতে গিয়ে তনি কবিতার ভূমিকাকে সমর্থন করেছেন জোড়ালোভাবে। এই শিল্পটার প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছিলেন -যে জাতি শিল্পকে সমাদর করেনা ঐ জাতিকে ফ্রস্টের ভাষায় বলা যায়-“nothing to look backward to with pride, and nothing to look forward to with hope.” (The Death of the Hired Man, Robert Frost)

তিনি আরও যোগ করেছিলেন যে, “আমি আমেরিকার একটি অসাধারণ ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি, যেখানে আমাদের দেশটি সামরিক ক্ষমতার সাথে সাথে নৈতিক সংযম, এর সম্পদের সাথে সাথে আমাদের জ্ঞান, ক্ষমতার সাথে সাথে আমাদের উদ্দেশ্যেরও শক্তিশালী সম্মিলন ঘটবে”।

এই সময়ে তার এই দেখার ভঙ্গিটা  এবং তার স্বপ্নের কথা স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বটেই।

তরজমা:

সাবিদিন ইব্রাহিম

[email protected]

Related Posts

About The Author

Add Comment