জীবন সমুদ্রের সাহসী সাতারুদের কথা

জীবন যুদ্ধের মহাসমুদ্রে সবাইকে পাড়ি দিতে হয় নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য। সবাই পাড়িও দেয় কিন্তু পাড়ি দেওয়ার পদ্ধতি খুবই ভিন্ন। যেমন কেউ পাড়ি দেয় উড়োজাহাজে করে, কেউ পাড়ি দেয় জাহাজে করে, কেউ পারি দেয় নৌকায় করে আবার কেউ দুঃসাহস করে এই মহাসুমুদ্রকে সাঁতরে পারি দেওয়ার এবং পারি দেয়ও। সবাই পৌছতে পারেনা কিন্তু কেউ কেউ পারে। আর যারা পারে তাদেরকে পৃথিবী তার বুকে স্থান দেয় অমর হিসেবে।

জীবনকে যদি আমরা মহাসমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার সাথে তুলনা করি তবে মানুষের মধ্যে প্রকৃত বৈষম্যগুলো দেখা যায়। তরুন শ্রেণির মানুষই এই মহাসমুদ্রকে পাড়ি দেয়। উড়োজাহাজে করে যারা পাড়ি দেয় তাদের কোন প্রকার সংগ্রাম করতে হয়না বললেই চলে কেননা তাদের প্রচুর টাকা রয়েছে ফলে অন্যের ঘাড়ের উপর করেই তারা জীবনটাকে পাড়ি দেয়। এই শ্রেণিকে পৃথিবী তার বুকে অমর হিসেবে স্থান দেয়না যদিও যতদিন বেঁচে থাকে অন্যায়ভাবে হলেও নিজের দাপট দেখিয়ে যায়। মরার মধ্য দিয়ে সে পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যায়। আর একশ্রেণি আছে যারা একটু কষ্ট করে নৌকায় করে পাড়ি দেয়। জীবন সমুদ্রকে পাড়ি দিতে গিয়ে এরা যে কম কষ্ট সহ্য করে তা কিন্তু নয়। অনেক সময় তাদের নৌকা ঝড়ের কবলে পড়েও সমুদ্রে হারিয়ে যায়। তারাও তাদের গন্তব্যে পৌছতে পারে একটু দেরী হলেও। গন্তব্যে পৌছার পরে তারা আত্মতৃপ্তিতে ভোগে। এই শ্রেণিকেও পৃথিবী মনে রাখেনা।

আর এক শ্রেণি আছে যারা সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে ভাবে আমারতো উড়জাহাজও নেই, নৌকাও নেই সাঁতরে পাড়ি দিতে পারবতো? যাঁদের মনে এই ধারণা জন্মে তারা অনেক আশা নিয়ে সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করলেও মাঝখানে গিয়ে ডুবে যায় আবার সেই ডুবন্ত মানুষটিকে টেনে নৌকায় তুলে নিলে সে বেঁচে যায় কিন্তু নৌকায় থাকা মানুষ তাকে টেনে তুলেনা আবার কিছু কিছু টেনেও তুলে নেয়। তাকেও পৃথিবী মনে রাখেনা মনে রাখে সেই সাতারুকে যে জীবন সমুদ্রের পাড়ে এসে কিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়ে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য এবং সে সাঁতরে পাড়িও দেয়। যারা এইভাবে সাঁতরে পাড়ি দেয় আমি বলছিনা তারা সবাই তীরে পৌছে কিন্তু কেউ কেউ পৌছে। এই কেউ কেউ কেই পৃথিবী তার বুকে অমর করে রাখে। আপনি কোন শ্রেণির মধ্যে পড়েন একটু ভেবে দেখেছেন?

Related Posts

About The Author

Add Comment