জুতা নিয়ে মজার তথ্য

জুতা বা Shoes এর উদ্ভাবন হয়েছিল মূলত মানুষের পা এর নিরাপত্তা বিধানের জন্যে, তবে এখন তা কেবল নিরাপত্তাই যোগায় না, বরং এটি সজ্জারও একটি অংশ। কাউকে অপমান করতে জুতাপেটা বা জুতা নিক্ষেপ করা হয়। তবে কখনো কখনো জুতা পাওয়া সম্মানের বিষয়ও। একসময় এশিয়াতে রাজন্যবর্গের রাস্তায় জনসাধারণের জুতা পায়ে হাঁটাও নিষিদ্ধ ছিল। জুতা বলে দেয় কারো বংশ মর্যাদা,  জুতা কাউকে মারতে পারে আবার কারো জীবনও বাঁচাতে পারে। আসুন জেনে নেই জুতা নিয়ে কিছু মজার ঘটনা।

মানুষ মারতে জুতা:  তৎকালীন ষোড়শ লুই প্রথম হাইহিল জুতার প্রচলন করেন। সেসময় ফরাসি রাজপরিবার রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জনসাধারণের হাইহিল জুতা পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। এমনকি ফ্রান্সের ইতিহাস থেকে জানা যায়, হইহিল জুতা নিয়ে ফ্রান্সে ছোটো- খাটো বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে লন্ডনের কিছু ব্যবসায়ী ফ্রান্সের হাইহিল জুতার অনুকরণে জুতা প্রস্তুত শুরু করে এবং লন্ডনের রাজপরিবারেও সমান জনপ্রিয় হয় সেই জুতা। প্রায় একশ বছরেরও বেশি সময় হাইহিল জুতা ছিল জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ।

Clockwise from right: Postillion’s boot (Louis XV); Cauldron boot (Louis XIV); Boot of Henri Montmorenci; 1632, Fashionable Boot (Louis XIV); Soulier de .

জুতা নিয়ে কবিতা: রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত “জুতা আবিষ্কার” কবিতাটির কথা মনে আছে? যেখানে রাজা ‘মলিন ধূলা লাগিবে কেন পায়’ বলে রাজ্যের সকল মন্ত্রী, বিজ্ঞজন ও বৈজ্ঞানিকদের ডেকে এ থেকে পরিত্রাণের সমাধান বের করতে বলেছিলেন! বিজ্ঞজনদের বিতর্ক, আলোচনা, পরামর্শ শেষে সবাই একমত হলে তাদের মুখপাত্র হিসাবে হবু রাজার অতি বিজ্ঞ মন্ত্রী গোবু আইডিয়া দিলেন যে, পুরো পৃথিবীটাকেই চামড়া দিয়ে মুড়ে দিলেই আর রাজার পায়ে ধুলো লাগবে না। জুতা নিয়ে আরেকটি বিখ্যাত কবিতার লাইন  হচ্ছে: ‘একদা ছিলনা জুতা চরণ যুগলে…’ যেখানে পায়ে জুতা না থাকায় একজনের কষ্টের কথা বলা হলো। যখন সে এক হোটেলে খেতে গিয়ে দেখলো একজনের পা-ই নেই তখন তার ‘জুতা না থাকার খেদ গুচলো’।

ফরাসী রাজা ষোড়শ লুই ও তার পরিবার


ফরাসী রাজা ষোড়শ লুইয়ের রাণী ম্যারি আন্তোইনের জুতা!

যৌন আচরণে জুতা: পাদুকাসক্তি ( Shoe Fetishism) হলো এমন মানসিক অবস্থা, যেখানে নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গ বা সমলিঙ্গদের জুতার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন।

পেশা : জীবনী পড়লে দেখা যায় আডল্ফ ডাসলার , ভির্জিনিয়া বোল্তেন সহ অনেক মনিষীই বাল্য কালে জুতার কারখায় কাজ করতেন।

একসময় বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ খড়ম ব্যবহার করতেন।

সম্মানার্থে জুতা দান : ফুটবল খেলায় গোল্ডেন বুট বা সোনার জুতার কথা সবাই জানে। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক গোলদাতাকে এ জুতা দেয়া হয় যা খুব সম্মানের।

আফ্রিকার অনেক গরীব মানুষ এভাবেও জুতা বানিয়ে থাকে!

 

কাউকে জুতা ছুড়ে তার প্রশংসা: নীল দর্পণ নাটক মঞ্চস্থ্য হচ্ছে। মঞ্চে সেই সময় যে দৃশ্য অভিনীত হচ্ছে তাতে দেখানো হচ্ছে এক ইংরেজ কিভাবে এক সাধারণ ঘরের মহিলাকে অত্যাচার করছে। বিদ্যাসাগর মহাশয় এমনিতেই রাগী এবং গোঁয়ার প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তার রাগ চরমে উঠল। তিনি প্রচন্ড ক্রোধে নিজের পায়ের জুতা মঞ্চের সেই ইংরেজের ভূমিকায় অভিনয় করা ব্যক্তির প্রতি নিক্ষেপ করলেন। সকলে হতবাক। যার প্রতি জুতা নিক্ষেপ করা হল সেই অভিনেতা বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জুতা নিজের মাথায় তুললেন তারপর বিদ্যাসাগরের পায়ের সামনে রেখে বললেন, আজ আমার অভিনয় সার্থক হল।

Related Posts

About The Author

Add Comment