টার্গেট টুয়েন্টি: দুই মাসে বিশটি বই? ওমা! এতগুলো বই পড়বো কেমনে?

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম তাদের সদস্যদের জন্য এবং সদস্য হতে আগ্রহীদের জন্য বিশটি বই পড়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে-এটা আপনারা এরই মধ্যে জেনে গেছেন। দুইমাসে বিশটি বই পড়ার চ্যালেঞ্জ কেন দেওয়া হলো, কেন বিশটি বই নির্ধারণ করা হলো এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এর ব্যাখ্যার জন্য এ লেখা-

আপনারা জানেন আমাদের বদভ্যাস যেমন আমাদের দীর্ঘ পরিচর্যার ফল তেমনি ভালো অভ্যাসও দীর্ঘ পরিচর্যার ফল! বই পড়া নিশ্চয়ই পৃথিবীর সবচেয়ে উপকারী অভ্যাস, এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত করবেন না আশা করি! অভ্যাস তৈরিতে কোন একটা জিনিস দীর্ঘ সময় ধরে করতে হয়। দুই মাসে বিশটি বই পড়া শেষ করলে নিজেই নিজের পরিবর্তনটা ধরতে পারবেন। দেখবেন কিভাবে নিয়মিত পড়া আপনার প্রিয় বদভ্যাসের (!) অংশ হয়ে গিয়েছে যে ইচ্ছে করলেই আর ছাড়তে পারছেন না! নিয়মিত পড়লে কি লাভ হয় সেটা নিয়মিত পড়েই দেখুন!

এবার আসুন আমাদের বিশটা বইয়ের ব্যাপারে কথা বলি। বিশটা বই অনেক বেশি আবার খুবই কমও। একজন সিরিয়াস পাঠক বা গবেষককে অনেক সময় মাত্র এক-দুইদিনের ব্যবধানেও বিশটি বই পড়তে হয়! তবে একজন নবীন পাঠক বা প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠকের জন্য এই ছোট্ট টার্গেটটা অর্জন করা অনেক কৃতিত্বের।

আমরা এই প্রোগ্রামের নাম দিয়েছি টি-টুয়েন্টি (টার্গেট টুয়েন্টি)। বুঝতেই পারছেন ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষুদ্র সংস্করণের নামে এই নাম। বাংলাদেশের যতগুলো বড় অর্জন, যত খ্যাতির কিছু জায়গা, জাতিকে এক করার যে জায়গা সেটা তো ক্রিকেট। আপনি যত বড় পণ্ডিতই হন না কেন ক্রিকেটের গুরুত্ব তো অবহেলা করতে পারছেন না।

এবার আসুন, আমরা সবাই ক্রিকেট দেখি খুব অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। আমরা বেশিরভাগই কিন্তু ক্রিকেটের কনজিউমার। অল্প কয়েকজন প্লেয়ারই মাঠে খেলেন আর কোটি দর্শক বাইরে থেকে গিলেন। বল হাতে মাশরাফি, তাসকিন, মুস্তাফিজ কিন্তু তাদের সেরাটা দিচ্ছে, ব্যাট হাতে সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ তাদের সর্বোচ্চটা দিচ্ছে, ফিল্ডিংয়ে জান বাজি রাখছে সৌম্য সরকারের মতো এগারোজন খেলোয়ারই!

বাংলাদেশের জয় বা অসাধারণ পারফরমেন্স দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। কিন্তু সেই অনুপ্রেরণা কি আমাদেরকে কাজ করতে উৎসাহ দেয়? আমাদের ফিল্ডে? যে জিনসটাতে আমি সেরাটা দিতে পারি সেটাতে? আমি কোন বিষয়ে সেরা সেটা অন্য অনেকের চেয়ে আমি জানি সবচেয়ে বেশি। আসুন আমরা আমাদের কাজে আমাদের সেরাটা দেওয়া শুরু করি। আমাদের কাজে মুস্তাফিজের মত বল করি, সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদদের মতো ব্যাট করি, সৌম্যের মত ফিল্ডিং করি আর মাশরাফির মতো নেতৃত্ব দেই। দেখবেন নিজের ভেতরকার চ্যাম্পিয়ন সত্ত্বাটাকে বের করে আনতে পেরেছেন। এটা করলে যেমন আপনার লাভ, দেশের লাভ এবং বিশ্বেরও লাভ বটে।

এখন যারা তরুণ আছেন, যারা কোন না কোন বিষয়ে পড়াশুনা করছেন তাদের মধ্য থেকে ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন বের হওয়ার সাথে সাথে বিজ্ঞানের চ্যাম্পিয়ন কি লাগবে না? কিংবা প্রযুক্তির? আগামীর সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, চিন্তক, দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাহিত্যিকও কি লাগবেনা?

ভবিষ্যতের সেই কাণ্ডারীদের প্রতি বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের প্রথম ইয়র্কার-টার্গেট টুয়েন্টি! দুই মাসে বা আট সপ্তাহে বিশটি বই পড়া!

ইয়র্কার দেখে ভয় পেলেন? আচ্ছা, আপনাদেরকে একটু সাহায্য করছি কিভাবে ফেইস করবেন সেটা:

মাত্র দুই মাস! আট সপ্তাহ। দিন হিসেবে ৬০ দিন। (৬০ ভাগ ২০=৩) অর্থাৎ একটি বই পড়তে তিন দিন সময় নিলে খুব আরামেই শেষ করতে পারবেন টার্গেট টুয়েন্টি!

ছোট সাইজের বই সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ বা ১২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ৩০-৪০ বা ৫০ পৃষ্ঠা পড়লেই হলো। ৩০ পৃষ্ঠা পড়তে অনেকে ৩০ মিনিট বা এক ঘন্টাও নিতে পারেন! প্রতিদিন ঘরে মাত্র দুই ঘন্টা পড়েও আনায়েসে বিশটি বই পড়ে শেষ করে ফেলতে পারবেন! বিশ্বাস না হলে কাজে নেমে দেখুন!

একজন ছাত্র বা তরুণ যদি তার ভবিষ্যতের জন্য, তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি অর্জনের জন্য প্রতিদিন দুই ঘন্টাও সময় না দেন তাহলে সময় ও প্রতিভার অপচয় ছাড়া এটাকে আমরা কি বলবো? একজন ক্রিকেটার প্রতিদিন কয় ঘন্টা প্র্যাকটিস করেন? একজন ফুটবলার কত ঘন্টা ঘাম ছাড়ান? একজন শিল্পী কত ঘন্টা রেওয়াজ করেন স্টেজে আসার আগে? আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে কাঙ্খিত বস্তু ‘সফলতা’ অর্জন করতে চান অথচ সেরকম পরিশ্রম না করেই?

আশা করি আপনারা আপনাদের টার্গেট অর্জনে প্রত্যয়ী। এবার চলুন নেমে যাই ব্যাট-বল হাতে। ওহ! বই আমাদের ব্যাট-বল! আসুন আগামী ৬০ দিনে বিশটা বইকে পান্তা ভাত বানিয়ে ফেলি! অল দ্য বেস্ট ‘দ্য নেক্সট টি-টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস্!

Related Posts

About The Author

Add Comment