টি-টুয়েন্টি নীতিমালা

টি-টুয়েন্টি নীতিমালা

১. দুইমাস বা আট সপ্তাহের মধ্যে বা ৬০ দিনের মধ্যে বিশটি বই পড়ে শেষ করা।

২. বই বাছাই করার ক্ষেত্রে আপনার নিজের চয়েস থাকতে পারে। প্রয়োজনে স্টাডি ফোরামের বন্ধুদের সহায়তা নেওয়া যাবে।

৩. ঢাকাস্থ বন্ধুরা আমাদের প্রতিদিনকার আড্ডায় এসে আপনার পড়া বই নিয়ে আলাপ করতে পারেন।

৪. বর্তমানে দূরে অবস্থানরত বন্ধুরা অনলাইনে সংযুক্ত থেকে এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

৫. আপনার পড়া বই নিয়ে ৫-১০ লাইনের মন্তব্য থেকে শুরু করে দীর্ঘ রিভিয়্যু বা পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে পারেন।

৬. মেয়াদ শেষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টি-টুয়েন্টি শেষ হবে। সেখানে আধা ঘন্টার একটি টেস্ট হবে যেখানে তিন-পাঁচটি বই নিয়ে সংক্ষিপ্ত রিভিয়্যু লিখতে বলা হবে। তারই সাথে প্রত্যেককে পাঁচ-দশ মিনিট করে তার পড়া কয়েকটি বই নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে হবে।

৭. এই লেখা ও বলার কম্পিটিশনে যারা ভালো করবেন তাদের মধ্য থেকে প্রথম তিনজনের জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা।

৮. টি-টুয়েন্টি সফলভাবে শেষ করা প্রত্যেকের জন্যই থাকবে বিশেষ পুরস্কার।

৯. প্রতি দুইমাস অন্তর অন্তর এই টি-টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ চলবে। প্রথমবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে পরবর্তীবার অংশগ্রহণের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।

১০. যাদের বইয়ের স্বল্পতা আছে তারা আমাদের মোবাইল লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি, পাবলিক লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে কিভাবে বই পড়া যায় তার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও অনলাইন থেকে কিভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের পিডিএফ সংগ্রহ করা যায় তার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। যারা পড়তে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হন তাদের জন্য নিয়মিত কর্মশালা ও দিক-নির্দেশনার ব্যবস্থা থাকবে।

১১. কেউ যখন দুই মাসে টি-টুয়েন্টি বা বিশটি বই পড়ে শেষ করতে পারবে তখন তাকে স্টাডি ফোরামের সম্মানিত সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে। এই টার্গেট অর্জনের পূর্বে সকল প্রচেষ্টায় স্টাডি ফোরামের সিনিয়র সদস্য থেকে শুরু করে সবাই সব রকমের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

আপনার একটু সদিচ্ছাই পারে আপনার এই লক্ষ্য অর্জন করা। বিডিএসএফ আছে আপনার পাশে।

কেন টি-টুয়েন্টি, কিভাবে শেষ করবো বিশটি বই?

এখন যারা তরুণ আছেন, যারা কোন না কোন বিষয়ে পড়াশুনা করছেন তাদের মধ্য থেকে ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন বের হওয়ার সাথে সাথে বিজ্ঞানের চ্যাম্পিয়ন কি লাগবে না? কিংবা প্রযুক্তির? আগামীর সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, চিন্তক, দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাহিত্যিকও কি লাগবেনা?

ভবিষ্যতের সেই কাণ্ডারীদের প্রতি বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের প্রথম ইয়র্কার-টার্গেট টুয়েন্টি! দুই মাসে বা আট সপ্তাহে বিশটি বই পড়া!

ইয়র্কার দেখে ভয় পেলেন? আচ্ছা, আপনাদেরকে একটু সাহায্য করছি কিভাবে ফেইস করবেন সেটা:

মাত্র দুই মাস! আট সপ্তাহ। দিন হিসেবে ৬০ দিন। (৬০ ভাগ ২০=৩) অর্থাৎ একটি বই পড়তে তিন দিন সময় নিলে খুব আরামেই শেষ করতে পারবেন টার্গেট টুয়েন্টি!

ছোট সাইজের বই সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ বা ১২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ৩০-৪০ বা ৫০ পৃষ্ঠা পড়লেই হলো। ৩০ পৃষ্ঠা পড়তে অনেকে ৩০ মিনিট বা এক ঘন্টাও নিতে পারেন! প্রতিদিন ঘরে মাত্র দুই ঘন্টা পড়েও আনায়েসে বিশটি বই পড়ে শেষ করে ফেলতে পারবেন! বিশ্বাস না হলে কাজে নেমে দেখুন!

একজন ছাত্র বা তরুণ যদি তার ভবিষ্যতের জন্য, তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি অর্জনের জন্য প্রতিদিন দুই ঘন্টাও সময় না দেন তাহলে সময় ও প্রতিভার অপচয় ছাড়া এটাকে আমরা কি বলবো? একজন ক্রিকেটার প্রতিদিন কয় ঘন্টা প্র্যাকটিস করেন? একজন ফুটবলার কত ঘন্টা ঘাম ছাড়ান? একজন শিল্পী কত ঘন্টা রেওয়াজ করেন স্টেজে আসার আগে? আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে কাঙ্খিত বস্তু ‘সফলতা’ অর্জন করতে চান অথচ সেরকম পরিশ্রম না করেই?

আশা করি আপনারা আপনাদের টার্গেট অর্জনে প্রত্যয়ী। এবার চলুন নেমে যাই ব্যাট-বল হাতে। ওহ! বই আমাদের ব্যাট-বল! আসুন আগামী ৬০ দিনে বিশটা বইকে পান্তা ভাত বানিয়ে ফেলি! অল দ্য বেস্ট ‘দ্য নেক্সট টি-টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস্!

 

Related Posts

About The Author

One Response

Add Comment