টি-টুয়েন্টি শেষ করা দ্বিতীয় ব্যাচ!

গত জুনে শুরু হয়েছিল আমাদের টি-টুয়েন্টি’র দ্বিতীয় ব্যাচ। মানে দুইমাসে বিশটি বই পড়ার চ্যালেঞ্জ! অনেকেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। কেউ কেউ অর্ধেক শেষ করতে পেরেছেন, কেউ কেউ এক-দুটোর জন্য টার্গেট শেষ করতে পারেন নি। তবে আমাদের এই প্রয়াসটা এমন একটি উদ্যোগ ছিল যেটাতে কেউ আসলে ব্যর্থ হন না। টি-টুয়েন্টিকে টার্গেট করে যারা ৫ টি বা ১০ টি বইও শেষ করেছেন তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে এ অভিজ্ঞতা আপনাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই! তবে যারা গত দুইমাসে বিশটি বইয়ের টার্গেট শেষ করতে পেরেছেন তারা নিজেকে এক মহিমান্বিত অর্জনের ভাগিদার বানিয়েছেন। বিশটি বই পড়ার টার্গেট অর্জন করা দ্বিতীয় ব্যাচের ১৫ জনকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন!

০১৪) তাসনিম বিনতে সাইফ:

14274263_1761473700779502_1014286559_o-1

তাসনিম বিনতে সাইফ

চোখ তাঁর জাত ক্ষত্রিয়ের তরবারি। শত্রুবধের মতোই স্বচ্ছন্দে বই বধ করে চলছেন একের পর এক। অন্যপরিচয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সারির বিতার্কিক। অভ্যস্ত হাতে রিভিউ লিখে অন্যরকম সৌন্দর্য এনেছেন ফেসবুক টাইমলাইনে। বাগ্মী, সমালোচক, লেখিকা- কোনটি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিচয় হবে সেটাই এখন বিবেচ্য। নাকি সবগুলো??

০১৫) আবু সাঈদ:

মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল অব্দি গুণী মানুষ। ওপাড়ের আলবেয়ার কাম্যু থেকে এপাড়ের হুমায়ুন আজাদ- কে নেই তার রিডিং লিস্ট-এ! হঠাৎ দেখায় রাজনৈতিক নেতা মনে হলেও বুকভর্তি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বারুদ। শের-এ বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দি ডিঙিয়ে এই শেরটি (বাঘটি) জাতীয় পর্যায়ে কিছু দিতে পারবেন বলেই জাতির বিশ্বাস।

০১৬) সুমাইয়া জামান:

সুমাইয়া জামান

সুমাইয়া জামান

তাঁর সংগঠন সঞ্চালনা এবং সমন্বয়ের দক্ষতা ঈর্ষা করার মতো। একজন দুর্দান্ত বক্তা হিশেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন ইতোমধ্যেই। ব্যস্ততাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপুটে পাঠিকার মতোই পড়ছেন বই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বভাব শান্ত তরুণী স্বপ্ন দেখেন প্রাতঃস্মরণীয় কিছু করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশটাও এটাই চায় তাঁর কাছে। পারবেন তো?

০১৭) তাহমিনা আক্তার সাথী:

তাহমিনা আক্তার সাথী

তাহমিনা আক্তার সাথী

রুমির মসনবি থেকে তারাশঙ্করের গণদেবতা। ফেরদৌসির শাহনামা থেকে রবি ঠাকুরের যোগাযোগ। ফারসি সাহিত্য ও মুসলিম দর্শনের প্রতি দুর্বলতা সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন হননি বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির দর্শন থেকে। নারী নেতৃত্বে নতুন দ্বার উন্মোচনের পক্ষপাতী। বেগম রোকেয়া হল থেকে একুশ শতকের বেগম রোকেয়ার উত্থান এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

০১৮) সুমাইয়া আক্তার জাকিয়া:

সুমাইয়া আক্তার জাকিয়া

সুমাইয়া আক্তার জাকিয়া

সিগমণ্ড ফ্রয়েড নারী হলে কী হতো কেউ জানেনা। কিন্তু তিঁনি নারী হয়েও সিগমণ্ড ফ্রয়েডকে ছুঁতে চান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মিনি মনোবিজ্ঞানী বই আর মানুষের মন- দুটো পাঠেই সিদ্ধহস্ত। মনোযোগী শ্রোতা এবং মনোযোগ হরণকারী বক্তা। পারিপার্শ্বিক চাপের চাদর সরিয়ে তাঁর এই অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকুক, এটাই দেশ ও জাতির প্রত্যাশা।

০১৯) আতাগাছ:

কোনো তোতাপাখির জন্য ফেসবুকে আতাগাছ হিশেবে আছেন কি না কে জানে? অবশ্য আকিকা দেয়া নাম আব্দুল হাকিম আবির। সাংবাদিক বলেই সম্ভবত সাংঘাতিক রকমের যৌক্তিক মানুষ। বই পাঠে তাঁর দ্রুততা অনুসরণ করার মতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যমী তরুণের ভেতরে পরবর্তীতে আসা বহু তরুণের বেড়ে উঠার যোগান মিলবে।

০২০) আমেনা আক্তার নিশি:

নিশি নামকে ব্যর্থ করে মানুষটা ক্রমেই দিনের মতো স্বচ্ছ হয়ে উঠছেন। গোর্কির ‘মা’ থেকে আনিসুল হকের ‘মা’- চলছেন সর্বভুকের মতো সাবাড় করে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কনিষ্ঠা হয়েও উচ্চতর প্রজ্ঞা ও মননের পরিচয় দিয়েছেন অনেক আগেই। গান্ধীজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত এই শান্তিবাদী তরুণী যেতে পারবেন বহুদূর। শিকারি বেড়াল নাকি গোঁফে চেনা যায়।

০২১) মারজুকা রায়না:

মারজুকা রায়না

মারজুকা রায়না

নৃত্যের ছন্দে জীবন সাজানোর মগ্নতায় বইপাঠে বিন্দুমাত্র ছন্দপতন ঘটেনি রায়নার। বরং সাবলীলতার সাথেই যেনো একবিন্দুতে প্রোথিত করেছেন দুটোকে। রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা ম্যামের প্রিয় এই ছাত্রী স্বপ্ন দেখেন ইতিহাসের সাথে নৃত্যের সংযোজনে নতুন ধারা তৈরির। প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে মনে হয়না খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীর।

০২২) তানজীর সরকার:

11138100_1638536296433084_2251104126668720124_n

তানজীর সরকার

সদা হাস্যোজ্জ্বল এই তরুণের সাক্ষাৎ মিলবে ক্যাম্পাসের শিক্ষামূলক প্রতিটি প্রোগ্রামেই। পাঠক হিশেবে দুর্দান্ত আর সমালোচক হিশেবে তীক্ষ্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী তরুণ ভালোবাসেন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের ইতিহাস অধ্যয়ন। ইতিহাসে বিভ্রান্ত বাঙালিকে আর সি মজুমদার কিংবা আবু মুহামেদ হবিবুল্লাহর মতো মূলে নিয়ে আসবেন- এটাই বিশ্বাস বন্ধুমহলের।

০২৩) এ এস এম ইউনুছ:

 এস এম ইউনুছ

এস এম ইউনুছ

এই মানুষটাকে পরিচয় করিয়ে দেয়াটা রীতিমতো দুঃসাহসিকতা। বাংলাদেশের ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, লেখক এবং গবেষক হিশেবেই ক্ষান্ত থাকেননি, সদ্যই সাথে যোগ করেছেন প্রকাশক পদবীটাও। কাঁধে ঝুলে থাকা ব্যাগটার মতো গলাতেও ঝুলিয়ে রেখেছেন অসাধারণ পাঠক এবং বিদগ্ধ বক্তা বিশেষণগুলো। তাঁর উপরে পরিচিতজনের আস্থা তাঁর নিজের থেকেও বেশি।

০২৪) সাফি উল্লাহ:

সাফি উল্লাহ

সাফি উল্লাহ

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হলেও বাংলা সাহিত্যের দখল ছাড়েননি তিঁনি। লেখক হবার স্বপ্নে লিখে চলেছেন অবিরাম। কৃষন চন্দরের মতো গল্পের খোঁচায় তুলে ধরতে চান সমাজের অসঙ্গতি। এজন্যই বাংলা-ইংরেজি- উভয় সাহিত্যকেই অভ্যস্ত কৃষকের ফসল তোলার মতো তুলে চলেছেন মনে-মগজে। অচিরেই হয়তো কলমের মাধ্যমে সেসবের বিস্ফোরণ ঘটবে বঙ্গভূমে।

০২৫) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান:

13000110_1583342655290376_4930474998578253277_n

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান

সেন্ট্রাল লাইব্রেরির রেফারেন্স কক্ষে নিজের স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন আনিস। ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা কিংবা নজরুলের মৃত্যুক্ষুধা- ক্ষুধার্তের মতোই গিলে চলেছেন। ফেসবুকে তাই ধূমকেতু কিংবা তেমন কোনো অদ্ভুত নাম নিয়ে তাঁর বুক রিভিউ পাওয়া গেলেও বিস্মিত হবার কিছু নেই। আপাতদর্শনে চুপচাপ এই সুদর্শন তরুণের বুকে আত্মপ্রতিষ্ঠার বারুদ।

০২৬) মুজাহিদুল ইসলাম:

মুজাহিদুল ইসলাম

মুজাহিদুল ইসলাম

নাম দেখে যে যাই মনে করুক, মুজাহিদের মিশন সত্যিকারের জ্ঞানী হিশেবে আত্মপ্রকাশ। একারণে ইতিহাস, রাজনীতি কিংবা সাহিত্য- সবদিকে সমান সমৃদ্ধ হবার প্রচেষ্টা তাঁর। সফলতার লিস্টও তাই নেহাত মন্দ না। অগ্রগতির এই ম্যারাথন অব্যাহত রাখলে হয়তোবা অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কোনো আদর্শ উত্তরাধিকারীর মুখ দেখতে পাবে বাংলাদেশ।

০২৭) কে এন ঈপ্সিতা:

13096280_1058709484172040_2250954341005855439_n

কে এন ঈপ্সিতা

দর্শনকে নিমের পাতা মনে না করে যারা রসালো মনে করেন; তাঁদের একজন ঈপ্সিতা। ভাষাবিজ্ঞানকে ছাপিয়ে এসে কীভাবে প্লেটোভক্ত হয়ে পড়লেন সেটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। পার্মেনিদেস থেকে বার্ট্রাণ্ড রাসেল- অনন্য আগ্রহের সাথে লেগে আছেন তাঁদের পেছনে। সাগ্রহে শোনা এবং সাবলীল বলার জন্য ইতোমধ্যেই খ্যাতি লাভ করেছেন ঈর্ষনীয়ভাবে।

০২৮) নুসরাত জাহান:

নুসরাত জাহান

নুসরাত জাহান

বই পড়াটাকে রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে ফেলেছেন নুসরাত। ব্যস্ততার অজুহাত মোটেও বিরত রাখতে পারেনি সাহিত্যের স্বাদ আস্বাদন থেকে। দেশি ও বিদেশি লেখকের লেখা সমান আগ্রহে হজম হচ্ছে একের পর এক। তাঁর সাথে আলাপকালে যদি প্রায়শই বিভিন্ন বই ও মনীষীর নাম ওঠে আসে, সেটা স্বাভাবিকই ভাবতে হবে। স্বপ্ন বহুদূরের, আস্থাও কম না।

আরও দেখুন: প্রথম টি-টুয়েন্টি শেষ করা ওরা ১৩ জন!

Related Posts

About The Author

Add Comment