ড. মোঃ ইউনুসের “স্যোশাল বিজনেস” এর আইডিয়া

ড. মোঃ ইউনুসের “স্যোশাল বিজনেস” এর আইডিয়াটা সারা পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্যোশাল বিজনেস বিষয়ে আমার কিছু বিশ্লেষণ রয়েছে। যদিও ছোট মুখে বড় কথা বলা ঠিক না। তারপরও এই কনসেপ্টের প্রণেতার প্রতি সম্মান রেখেই আমার ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করছি।

ড. মোঃ ইউনুস তাঁর ” স্যোশাল বিজনেস: ব্যাংকার ফর দ্যা পূওর” বইতে স্যোশাল বিজনেসের ৭ টি বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি সেই বৈশিষ্ট্যের আলোকে স্যোশাল বিজনেস আইডিয়াকে বিশ্লেষণ করব।

১.
Every legal business is social business. প্রত্যেকটা বৈধ ব্যবসাই সামাজিক ব্যবসা। দেয়ার ইজ নো আনস্যোশাল বিজনেস। কারণ সমাজই মানুষকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয় এবং ব্যবসা সমাজের মধ্যেই করা হয়। ফলে সমাজ কোন ব্যবসাকে স্বীকৃতি না দিলে তা ঐ সমাজে ব্যবসা করতে পারবে না। যেই ব্যবসা স্যোশাল না সেটা অবৈধ ব্যবসা। অবৈধ ব্যবসার বিপক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজ স্বীকৃত আইন রয়েছে।

২.
স্যোশাল বিজনেসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এটা সোসাইটির প্রবলেম সমাধান করে। প্রত্যেক ব্যবসায় সমাজের কোন না কোন প্রবলেম solve করে। এমনকি একটি মুদি দোকানও ছোট পরিসরে সমাজের একটা Problem solve করে। কারণ Problem solve করে বলেই কাস্টমার পণ্য বা সেবা ক্রয় করে এবং ব্যবসা টিকে থাকে। অন্যথায় ব্যবসাকে কাস্টমার টাকা দেবে না।

৩.
স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো এটা প্রফিট ওরিয়েন্টেড বিজনেস না। মানে এই ব্যবসার লক্ষ্য প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন নয়। এখানে ইনভেস্টর শুধুমাত্র তার ইনভেস্টমেন্ট টা ব্যবসা থেকে ফেরত নিবে, কোন প্রফিট বা ডিভিডেন্ট নিবে না। ইনভেস্টমেন্ট ফেরত নেয়ার পর প্রফিটকে ব্যবসায় রিইনভেস্ট করা হবে। যাতে ব্যবসা এক্সপান্ড করে এবং সমৃদ্ধি পায়।

এটা ব্যবসায়ের আরেকটা কৌশল। যে ব্যবসা প্রফিট মেকিং বিজনেস না সেটা কখনো সাসটেইনাবল বিজনেস না। কারণ মানুষ ব্যবসা করে লাভের জন্য। ব্যবসা সমাজের সমস্যা সমাধান করার মধ্য দিয়ে লাভবান হয় এবং লাভবান হওয়ায়টাই যুক্তিযুক্ত। কোন ব্যবসাকে ১ কোটি টাকা আয় করতে হলে তাকে ১০ কোটি টাকার সমস্যা সমাধান করতে হয়। ৫০ লাখ টাকা সমস্যা সমাধান করে ব্যবসার পক্ষে ১ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব না।

মানবতাবাদী অযৌক্তিক চিন্তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। ফলে কথিত “স্যোশাল বিজনেস” আইডিয়া হিসাবে জনপ্রিয়তা পেলেও এটা সাসটেইনাবল না।

৪.
স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো এটা পরিবেশ বান্ধব ব্যবসা।

সমাজ ব্যবসা করার অনুমতি দেয় এবং ব্যবসা সমাজের ক্ষতি করবে না এই মর্মে দায়ী থাকে। এটা যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বর্তমান সময়ে পরিবেশ আইন অনেক কড়া ফলে ব্যবসা করতে হলে পরিবেশ বান্ধব হতেই হবে। অন্যথায় প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবসা করতে দেবে না।

একবিংশ শতাব্দীতে পরিবেশ দূষণকারী ব্যবসা টিকবে না। কারণ সারা বিশ্ব পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে সচেতন। যারা আগে পরিবেশ দূষণ করে ব্যবসা করতো তারা নতুন টেকনলজি গ্রহণ করে পরিবেশবান্ধব ব্যবসা গ্রহণ করছে।

৫.
স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল এটা লিঙ্গ বৈষম্য করে না।

ব্যবসা কখনো লিঙ্গ বৈষম্য করে না। লিঙ্গ বৈষম্যের ধারণা ব্যাকডেটেড ধারণা। ব্যবসা তাকেই নিয়োগ দেয় যে ব্যবসাকে আউটপুট দিতে পারবে, প্রফিট বাড়াতে সাহায্য করে। লিঙ্গ কোন বিষয় না।

৬.
এখন যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, তাহলে সিগারেটের ব্যবসা কি স্যোশাল বিজনেস? আমি বলবো, হ্যাঁ। সমাজ সিগারেট কোম্পানীকে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে। কারণ সমাজ সিগারেটকে প্রয়োজনীয় মনে করছে।

৭.
স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য দারিদ্র দূরীকরণ। মানুষের মৌলিক সমাস্যার সমাধান করা। সব সময় ব্যবসা দারিদ্র দূরীকরণ এবং মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে। এটা নতুন কিছু নয়। অন্ন, শিক্ষা, স্থাস্থ্য, টেকনলজি ইত্যাদি শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা সমাধানের চেষ্টা করছে। এসব সবসময় লাভজনক ব্যবসা। কারণ এগুলোর মার্কেট অনেক বড়।

৮.
আমি স্যোশাল বিজনেসের বিপক্ষে না বরং পক্ষে। তবে ক্রিটিকালি দেখলে স্যোশাল বিজনেস নতুন কোন আইডিয়া না এবং এটা আমার বিবেচনায় সাসটেইনাবল বিজনেস না। কারণ স্যোশাল বিজনেস প্রফিট মেকিং ব্যবসার সাথে টিকে উঠতে পারবে না।

সবাইকে ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। কেউ কমেন্টে দয়া করে ড. মোঃ ইউনুসকে নিয়ে বাজে কিছু লিখবেন না। তিনি একজন ভিশনারি উদ্যোক্তা। তিনি ভালো কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে আমি তাঁর স্যোশাল বিজনেসের সমর্থক নই। আমি এখন পর্যন্ত মনে করি, এই আইডিয়া দিয়ে সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না।

Related Posts

About The Author

Add Comment