দ্য আর্ট অব ওয়ার: লেকচার নোট

আমরা কোন না কোন যুদ্ধে লিপ্ত। আমাদের যুদ্ধ বিভিন্ন প্রতিকূলতার সাথে, সমাজের সাথে, রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে বা আদর্শের সাথে। আবার আমাদের সবচেয়ে বড় লড়াইগুলো আমরা করি নিজেদের সাথে।  সেনাদলের সাথে সেনাদলের, রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের, আদর্শের সাথে আদর্শের লড়াই, প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিষ্ঠানের, ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির এবং ব্যক্তির নিজের সাথে নিজের লড়াইয়ের অবশ্যই কিছু নীতি আছে যেগুলো অনুসরণ করলে জয় বা পরাজয় নির্ধারিত হয়। সেক্ষেত্রে সান জু’র প্রাসঙ্গিকতা কি? সান জু খুবই আত্মপ্রত্যয়ী ও ওভার কনফিডেন্ট তার নীতির সক্ষমতা সম্পর্কে। একেবারে বইয়ের প্রথম দিকেই তিনি বলেন যে সেনাপতি তার নীতি অনুসরণ করবে তাকে বিজয় অনুসরণ করবে আর যে করবে না পরাজয় তার পরিণতি।  সান জু’র এই আত্মপ্রত্যয়ই তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষনের অন্যতম কারণ। আর তার নীতিগুলো অনেক জায়গায় কাজে লাগে এবং তার নীতি অনুসরণ করলে সফলতা আসবে আবার না করলে ব্যর্থতা। এজন্য যে পেশাতেই আছেন সান জু আপনার কাজে লাগবে। কারো সাথে আপনার লড়াই নাই সেটা ভালো কথা কিন্তু আপনার নিজের সাথে নিজের লড়াই থেকে বাঁচতে পারবেন না! সে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার জন্য হলেও অন্তত আর্ট অব ওয়ার চেখে দেখতে পারেন।

 

ইতিহাস পড়তে গেলেই যুদ্ধের সাথে ভালো করে পরিচিত হবেন। ইতিহাসের প্রত্যেক মনোযোগী ছাত্রই খেয়াল করলে দেখবেন মানবজাতির ইতিহাস আসলে যুদ্ধের ইতিহাস। মানবজাতি সবসময়ই কোন যুদ্ধ পরবর্তী, যুদ্ধকালীন বা যুদ্ধের আগমুহূর্তে অবস্থান করে। যুদ্ধের কারণ কি, যুদ্ধের ফলাফল কিভাবে নির্ধারণ হয়, যুদ্ধে কোন দল কেন জেতে আবার কোন দল কেনইবা হারে তা বুঝতে পারা জটিল কাজ না হলেও অতি সরল কোন ব্যাপার নয়। ইতিহাসের ছাত্র থেকে শুরু করে যেকোন সাধারণ পাঠকই এ ব্যাপারটাতে নাক গলানো থেকে শুরু করে মাথা ঘামাতে বা ঘামানোর চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে দ্য আর্ট অব ওয়ার খুবই উত্তম একটা চয়েস হতে পারে। যুদ্ধ কি কারণে সংগঠিত হয়, যুদ্ধ কিভাবে পরিচালনা করতে হয়, যুদ্ধে জয় নির্ধারণ হয় কিভাবে, কি করলে আপনি নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হবেন বা জয়ী হবেন তা সম্পর্কে সম্পক জ্ঞান লাভ করতে হলে এ বইটি খুবই কাজে লাগবে। প্রত্যেক পাঠকই এ বইটিকে গুরুত্বপূর্ণ ট্যুলস্ হিসেবে পাবে কারণ আমরা প্রত্যেকেই আসলে কোন যুদ্ধে আছি, সেটা একান্ত ব্যক্তিগত লেভেল থেকে শুরু করে একেবারে রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল অবধি। আর ব্যক্তির নিজের সাথে নিজের যে লড়াই  তা কাটিয়ে উঠা, পরিবার, সমাজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র সংগঠন বা আন্তর্জাতিক সংঘাত অনুধাবন করা, এর কারণ বা সমাধান বুঝতে পারার জন্য এটি খুবই কাজে দেবে।

দ্য আর্ট অব ওয়ার শুধু একটি রণনীতির বই-ই নয় রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধূলা থেকে শুরু করে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটা যেমন জেনারেলদের জন্য ম্যানুয়ালের মত কাজ করেছে তেমনি যেকোন সংকটময় পরিস্থিতিতে যে কেউ এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।  যে কোন ব্যক্তি, যে কোন পেশা থেকেই এ বইটি পড়তে পারে। আসলে এটা বইয়ের চেয়েও বেশি কিছু, এটা ম্যানুয়াল বা গাইডলাইন। যারই জীবন পাল্টে দেয়ার উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে সেই-ই এটা পড়তে পারে। আবার এ ম্যানুয়ালটি এমন নয় যে একেবারে প্রথম থেকে পড়া শুরু করে শেষ করতে হবে। জীবনের যেকোন সমস্যায় বইটির যেকোন পৃষ্ঠা খুললেই হয়তো প্রয়োজনীয় সমাধানের দিক নির্দেশনা মিলতে পারে।

একবিংশ শতকে চীনের সুপার পাওয়ার হয়ে উঠার পেছনে কারণ অনুসন্ধান করলে সান জু’র মতো ক্লাসিক পণ্ডিতদের চিন্তার উপর নির্ভরশীলতার কথা বলেন আর্ট অব ওয়ার বিশেষজ্ঞ মার্ক ম্যাকনলি।  আধুনিক চীনা পণ্ডিত থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা কৌশলগত ব্যাপারে ব্যাপকভাবে সান জু ও অন্যান্য প্রাচীন পণ্ডিতদের উপর নির্ভর করে থাকে।

সাম্প্রতিককালে চীনে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও একে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।  তার প্রমাণ হিসেবে বলা যায় ২০০৮ সালে সান জু কে নিয়ে ৪০ পর্বের টেলিভিশন সিরিজ নিয়ে এসেছেন চীনা প্রযোজক ঝাং জিঝং। এছাড়াও চীনের বিভিন্ন টিভিতে একে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচারিত হয়ে থাকে।  চীনের বিশ্বখ্যাত পরিচালক জন উ’র রেডক্লিফ মুভিটিতে আর্ট অব ওয়ার এর কথা বারবার এসেছে এবং সেখানে একশন ও যুদ্ধের দৃশ্যগুলোতে আর্ট অব ওয়ারের ছায়া স্পষ্ট দেখতে পারবো।  রেডক্লিফ মুভিটি ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল। পরবর্তীতে এর সিকোয়েল রেডক্লিফ ২ মুক্তি পায় এর পরের বছর ২০০৯ এ। ‘রেডক্লিফ’ আমার দেখা অন্যতম সেরা একটি একশন মুভি। দেখাদেখির প্রায় হাফ সেঞ্চুরী পূরণ করেছি বলাই যায়! যারা আর্ট অব ওয়ার সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, যারা একশন মুভি পছন্দ করেন তাদের জন্য অবশ্য দেখা একটি মুভি হওয়া উচিত ‘রেডক্লিফ’।

অতি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিককালের অনেক সম্রাট, শাসক, সেনাপতি সান জু’র দ্য আর্ট অব ওয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ঐক্যবদ্ধ চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হোয়াং ‘আর্ট অব ওয়ার’ এর নীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত এবং একে অন্যের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকা চীনকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে সান জু’র কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন।  উল্লেখ্য কিন শি হোয়াং ই চীনের মহাপ্রাচীর বানিয়েছিলেন। সময়টা ছিল ২২১ খ্রি.পূ. থেকে ২০৭ খ্রি.পূ.।

১৯৪৯ সালে কুমিনতাং এ জয়ী হওয়া এবং চিয়াং কাইশেককে পরাজিত করে কমিউনিস্ট বিপ্লবের সূচনা করার ক্ষেত্রে আর্ট অব ওয়ার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মাও জে দং। মাও জে  দং বা মাও সে তুং এর গেরিলা যুদ্ধ নিয়ে লেখাপত্রেও সান জু’র প্রভাব স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এটা মনে রাখতে হবে এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন গেরিলা যুদ্ধে মাও জে দং এর লেখাপত্র অনেক প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে।

জাপানে আর্ট অব ওয়ার পৌছায় ৮ম শতকে। এবং সাথে সাথেই জাপানিজ জেনারেলদের কাছে আর্ট অব ওয়ার অনেক জনপ্রিয় হয়ে দাড়ায়।  জাপানের সামরিক শক্তি হিসেবে উত্থানের পেছনে এবং বিভিন্ন যুদ্ধজয়ে সান জু’র প্রভাব ব্যাপক বিস্তৃত। মূলত জাপান থেকেই প্রথমে ফ্রান্সে পৌছায় ১৮শ শতকে। এবং আস্তে আস্তে পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামী হো চি মিন এটা অনুবাদ করে তার অফিসারদের মধ্যে সরবরাহ করেন।  আর জেনারেল ভন গিয়েপ তার সামরিক সাফল্যের পেছনে সান জু’র ঋণ নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন।  উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা, জাপান এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে সংঘাতের কারণে আর্ট অব ওয়ার আমেরিকার নজরে পড়ে। এখন আমেরিকার সবগুলো সামরিক প্রতিষ্ঠানে আর্ট অব ওয়ার বাধ্যতামূলক।  অফিসারদের এ বইটির উপর ছোট গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে হয়। নব্বইর দশকে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নরম্যান শোয়ার্জফ এবং কলিন পাওয়েল এ দুজন জেনারেলই সান জু’র নীতি; কূটচাল, গতি এবং প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আক্রমণের নীতি কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন।

এবার আসি যারা শান্তিবাদী সাধারণ মানুষ তারা কেন এই বই পড়বে? সামরিক প্রতিষ্ঠান বা রাজনীতির সাথে সরাসরি যারা যুক্ত নয় তারাও এই বইটি থেকে সুবিধা নিতে পারে। আপনি যেখানে চাকুরী করেন বা যে ব্যবসা বাণিজ্য করেন সেখানে ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন সেটা কিন্তু যুদ্ধ ময়দানের চেয়েও কম নয়! প্রথমে যুদ্ধ করে চাকুরীটি পেয়েছেন এবং বিনা যুদ্ধে চাকুরীটি রাখতে পারবেন না! অফিসের ভেতরে বাইরে বিশাল প্রতিযোগিতা, সহকর্মীদের সাথে, অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে, অন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে। তাছাড়া আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতি একেবারে যুদ্ধংদেহি। এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে, একটি কোম্পানীর পণ্য অন্য কোম্পানীর পণ্যের সাথে লড়াই করেই অবস্থান তৈরি করে। কিছু কিছু পণ্যকে আমরা দেখি বাজারে সয়লাব হয়ে যেতে আবার অনেক পণ্য হারিয়ে যায় বাজার থেকে। এই যে বাজারের বিভিন্ন খেইল সেখানে কিন্তু স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ব্যবস্থাপকরা অনেকটা সেনাবাহিনীর মতোই ভূমিকা রেখে থাকে। এখন একটি আধুনিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা প্রধান ব্যবস্থাপক সেনাদলের সেনাপতির চেয়ে কম নয়। তার অধীনে থাকা প্রত্যেকেই বিভিন্ন পদের সৈন্যদের মতোই। এখন আপনার অবস্থান মইয়ের আগায় বা নিচে যেখানেই হউক না কেন আপনার কাজ পুরো ব্যবস্থাটাতেই ভূমিকা রাখে। এটাই কিন্তু আপনার চাকুরী। আপনার প্রতিষ্ঠান বা পণ্যকে বাজারে বিজয়ী করা, আগের সেনাদলের মতো যুদ্ধে জয়ী হওয়া আর কি।

আপনি যে পদে বা যে অবস্থানেই থাকুন না কেন সান জু’র আর্ট অব ওয়ার থেকে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় অনেক নির্দেশনা। আপনার নিজের দায়িত্ব পালন কিংবা আপনার অবস্থার উন্নয়নের জন্য সান জু’র কাছ থেকে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

আপনার পরিবার যদি একটা প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে সে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে কিভাবে শৃঙ্খলা আনা যায় তাও শিখে নিতে পারেন। আপনি হয়তো একজন ছাত্র, পেশাজীবি, রাজনীতিবিদ, আমলা, খেলোয়াড় বা ব্যবসায়ী। একটু মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে পেয়ে যাবেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। আপনি যদি সান জু’র ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ পাঠ করতে পারেন, অনুধাবন করতে পারেন এবং সে ফর্মূলায় কাজ করতে পারেন এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় এটা পড়ার আগের জীবন এবং পরের জীবনের মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন চলে আসবে। হ্যা, সেটা পজিটিভই হতে বাধ্য। জীবন সফল ও সার্থক হওয়ার ফর্মূলা রয়েছে সান জু তে। সান জু’র পরামর্শ তামিল করে অতীতে কেউ পরাজিত হয়নি, বর্তমানে ও হবে না। ভবিষ্যতেও হবে না বলা যায় দৃঢ়তার সাথে।

 

সান জু কে?

বিশ্বের অনেক মহান মহাকবি, লেখক, দার্শনিকের মতো সান জু’র জীবনও রহস্যে ঢাকা। তিনি কোন শতকে জন্মেছেন এটা নিয়ে খানিকটা দ্বিমত রয়েছে, আবার সান জু কি পুরোটা লিখেছেন, না আরও কয়েকজন এতে যোগ করেছেন এটা নিয়ে মতবিরোধ আছে। আমাদের মনে হোমার, শেইক্সপিয়রদের কথা মনে পড়বে নিশ্চয়ই।  হোমার বা শেইক্সপিয়র আদৌ আছেন কি না এটা নিয়ে সন্দেহ অনেকের। কেউ কেউ মনে করেন হোমার নামে একদল কবি ছিলেন বা শেইক্সপিয়র অন্য কেউ ছিলেন, এমনকি নারী ছিলেন বলেও অনেকের মত। তেমনি সান জু বলে আসলে কেউ ছিলেন কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ অনেকের। কেউ কেউ এটা প্রমাণ করতেও সক্ষম হয়েছেন সান জু বলতে কেউ নেই। আবার আর্ট অব ওয়ার শুধু সান জু’ই লিখেনি বলে রয়েছে মত। কয়েকজন সমরবিদের সমণ্বিত লেখাটি সান জু’র নামে খ্যাত হয়ে গিয়েছে। এরকম ছোটখাটো দ্বিমত, বিরোধিতা সত্ত্বেও ঐতিহাসিকরা যে সান জু’র ছবি একেছেন বেশি তাকে নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করি।

অতি প্রাচীনকালে, খ্রিস্টের জন্মের প্রায় পাঁচশো বছর আগে চি রাজ্যে সান জু নামে একজন সমরবিশারদ ছিলেন। তার প্রজ্ঞা চীনের অন্যান্য প্রদেশেও খ্যাত হয়েছিল।  কারো কারো মতে আনুমানিক ৫৪৪ খ্রি.পূ. তে সান জু’র জন্ম এবং ৪৯৬ খ্রি.পূ. তে মৃত্যুবরণ করেন।  আর্ট অব ওয়ার এর আরেকজন প্রধান অনুবাদক ও গবেষক স্যামুয়েল গ্রিফিথ মনে করেন খ্রি.পূ. ৩য় শতক থেকে খ্রি.পূ. ২য় খ্রি.পূ. এর মাঝে সান জু বেঁচেছিলেন।

 

বইটি থেকে কিভাবে উপকৃত হওয়া যাবে

আমাদের জীবন সংকটময় এবং সংঘাতময় এবং আমরা এই সংকট ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একেকজন যোদ্ধা। একজন রাষ্ট্রনায়ক, সমরনায়ক থেকে শুরু করে একেবারে সাধারণ মানুষের জীবনেও এই সংকট ও সংঘাতের সমান উপস্থিতি। প্রত্যেকেই তার তার শ্রেণী ও অবস্থান থেকে এই লড়াইটা করে থাকে। যেকোন শ্রেণীতে অবস্থান করা একজন ব্যক্তির জীবন ও সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য এই বইয়ের নীতি অনেক সহায়ক হবে নিঃসন্দেহে।

নিজেকে যারা জীবন সংগ্রামের সৈনিক মনে করেন, যারা কিছু অর্জন করতে চান তাদেরকে অনেক রসদ দিবে সান জুর এই নীতিগ্রন্থটি। মানুষের সাথে সম্পর্ক কিভাবে রাখবো, সম্পর্ক চাষ করবো, আগাছা উপড়ে ফেলবো এর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে এখান থেকে।

আপনি হয়তো নিজেকে অতি সাধারণ মানুষ মনে করেন, রাজ-রাজরাদের ঝামেলা আপনার নেই, আপনি হয়তো যুদ্ধ মাঠের সেনাপতি হলেন না। কিন্তু জীবনযুদ্ধে, আপনার জীবনে আপনি তো একজন যোদ্ধা, আপনি একজন সেনাপতি। জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে সফল হওয়ার অনেক উপদেশ, মসলা আপনি পাবেন এই বইটিতে। বইটি বুঝতে একটু কষ্ট লাগবে কারণ এটা খুব অল্প কথায় বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি কথাই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। একবার পড়লেন আর উঠে গেলেন এর সাথে এ বেয়াদবি করার সুযোগ নেই। আপনাকে এই ওস্তাদের কাছে শিষ্যত্ব নিতে হলে নিয়মিত আসতে হবে, খুব ধীরে ও কয়েকগুণ মনোযোগ সহকারে তার কথা শুনতে হবে, অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে দেখবেন এই আড়াই হাজার বছরের পুরনো জ্ঞান আপনার কাছেও মণি-মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করে উঠছে যেমনটা করে আসছে অতীতের বছরগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে।

আর আপনি যদি তার কথা না শুনে যুদ্ধে নামেন তাহলে পরাজয় নিশ্চিত। এমনটাই আত্মবিশ্বাসী সান জু। নিজের মাঝে ও আশেপাশে আত্মবিশ্বাস এবং লড়াই করার সাহস ছড়িয়ে দিতে এ বইটি সাথে রাখুন একেবারে প্রয়োজনীয় জিনিসের মতো। আপনি হারবেন না। যেমনটা হারেননি কোন সেনাপতি।

এই মহামূল্যবান গ্রন্থটি হন্যে হয়ে খুঁজেছেন রাজা-বাদশা ও সেনাপতিরা। এর একটি অংশ পেলেও অনেক মর্যাদার সাথে অধ্যয়ন ও অনুসরণ করতেন। যুদ্ধ মাঠের ফল পাল্টে দিয়েছে সান জু’র একটি উপদেশ, আবার তার পলিসির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে হেরেছে, হারিয়েছে কত বড় বড় সেনাপতিকে। পুরো বইটি থেকে পাওয়া একটি উপদেশই আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

এজন্য আগেকার রাজা-বাদশা, সেনাপতিরা যে সম্মানের সাথে এক খণ্ড আর্ট অব ওয়ার নিজেদের প্রাইভেট প্রস্তুতির জায়গায় রাখতো আপনিও তেমনি রাখতে পারেন আপনার টেবিলে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান থেকে রাষ্ট্রের কোন সাধারণ নাগরিক সবার কাছেই দ্য আর্ট অব ওয়ার জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়ে হাজির হবে।

Related Posts

About The Author

Add Comment