দ্য লেইট হিরোস অব দ্যা ওয়ার্ল্ড কাপ

  • এই প্রতিযোগিতায় টুর্নামেন্টের শেষের দিকে খেলোয়াড়দের জেগে ওঠার একটি ইতিহাস রয়েছে।
  • তাদের কেউ কেউ টুর্নামেন্টের নায়ক হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
  • ঠিক ২০১৮ সালেও এরকম ভূমিকা পালন করার মতো খেলোয়াড় সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলোয়াড়দের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যারা প্রথম রাউন্ডে খুব অল্প প্রবাহ তৈরি করেছিল কিন্তু তারপরেও তারা নায়ক বনে গিয়েছিল প্রতিযোগিতা শেষেরদিকে পৌঁছ গেলে। যেহেতু এবছর বিশ্বকাপ শেষ চারে পৌঁছে গিয়েছে, তাই আমরা বিগত বিশ্বকাপ পর্যন্ত দেরিতে নায়ক বনে যাওয়াদের দেখব এবং কিছু নামের দিকে তাকাবো যেগুলো ২০১৮ সালের রাশিয়া  বিশ্বকাপ থেকে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

১৯৫৮– পেলে

সুইডেনের ১৯৫৮ সালের টুর্নামেন্টটি প্রায়ই পেলের বিশ্বকাপ হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু খুব কম লোকই এখন জানে যে তিনি প্রথম দুই ম্যাচে অংশই নেননি। একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময় ইনজুরি ১৭ বছর বয়সী পেলেকে প্রথম দুটি ম্যাচ থেকে দূরে সড়ে দেয় এবং তার পরিবর্তে ফিউচার ইতালিয়ান স্ট্রাইকার  জোসে আলতাফিনি, যিনি সেলেসাওদের হয়ে সামনে থেকে শুরু করেছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গ্রুপের চূড়ান্ত ম্যাচ খেলার জন্য পেলেকে পুনরায় দলে অন্তভুক্ত করা হয়, কিন্তু তিনি সে  ম্যাচে তিনি সামান্য প্রভাব ফেলেন।

নক আউট পর্বে  কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গোলের দেখা পান পেলে ৭৩ তম মিনিটে। সেটি ছিল সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য প্রতিভাবান কিশোর পেলে যার থেকে হ্যাটট্রিকের কারণে সেমিফাইনালে ব্রাজিল ৫-২ গোলের  ব্যবধানে  ফ্রান্সকে পরাজিত করে এবং স্বাগতিক দেশ সুইডেনের  বিপক্ষে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই ম্যাচে তার দুটি গোল এবং শেষ মিনিটে একটি অসাধারণ হেডের মাধ্যমে গোল  করে তিনি একটি নতুন ফুটবল সুপারস্টারের আগমনের বার্তা দেন।

১৯৬৬– স্যার জিওফ হার্স্ট

ইংলিশ তরকা হার্সট

ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার জিউফ হার্স্ট, পরে নাইট উপাধি পেয়েছিলেন, যিনি ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড দলের হোম গ্রাউন্ডে বিশ্ব কাপ জয়লাভ করার জন্য ‘অনুমিত’ ছিলেন না। এটি ছিল টটেনহাম হটসপের নায়ক জিমি গ্রিভস  কিন্তু গ্রিভস প্রথম রাউন্ডের খেলায় নেট খুজে পেতে ব্যর্থ হয় এবং ইনজুরি তাকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে দেয়। সে ম্যাচে গ্রিভসের পরিবর্তে নেমে হার্স্টের বুদ্ধিমান হেডে করা গোলটি ছিল সে ম্যাচের একমাত্র গোল।

হার্স্ট সেমিফাইনালের জন্যও দলে ছিলেন এবং ইংল্যান্ড কোচ স্যার আলফ রামসি গ্রীভসের ফিটনেসে ফিরে আসার পরও ফাইনালের জন্য একই দল বেছে নেওয়ার  মতো কঠিন সিদ্ধান্তটি নেন। এটি একটি অনুপ্রাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়,  হার্স্টের বিখ্যাত হ্যাটট্রিকে ইংল্যান্ড  তাদের একমাত্র বিশ্ব কাপ জয় করে।

১৯৮২ – পাওলো রসি

ইতালীর তারকা রসি

সম্ভবত সবচেয়ে আশ্চর্য এবং অপ্রত্যাশিত ‘ লেইট হিরো’ ছিলেন ইতালিয়ান পেনাল্টি বক্স শিকারী পাওলো রসি। ইতালির ১৯৭৮ বিশ্বকাপের দলের তারকাদের মধ্যে রসিও ছিলেন একজন , কিন্তু ১৯৮২ সালে তিনি সবে বেটিং স্কান্ডালের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে ফিরে এসেছেন। দুর্ভাগজনকভাবে তিনি উদ্বোধনী রাউন্ডের খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিলেন এজন্য সংবাদত্রগুলি তার খেলা হারিয়ে গেছে বলে তাকে ধুয়ে দিতেছিল।

যখন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে  ইতালি ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল তখন  ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ওয়ালডির প্যারেস তাঁর খেলার প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে আগেই বলেছিলেন যে, রসি আবার তার খেলা  ফিরে পেতে পারেন। সেটা প্রমাণিত হয় রসির হ্যাট্রিকের মাধ্যমেই যেখানে ইতালি  3-2 ব্যবধানে  জয়ী হয় যা ইতালির বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় এক ম্যাচ। রসিই সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং ফাইনালে ওয়েস্ট জার্মানির বিপক্ষে  আরও এক গোল করে দলকে জিতিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয় এবং স্টার বনে যান।

২০০৬ – ফেবিও গ্রোসো

২৪ বছর পর আরেকটি ইতালীয় দল ট্রফি তুলে নেয় এবং এই দলের প্রখ্যাত খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল গিয়ানিলিগি বুফন, ফেবিও কানাভারো, আন্দ্রে পিরলো, ফ্রান্সেসকো টোটি  অন্যদিকে ফেবিও গ্রোসো পলরোমো ক্লাব থেকে লেফট ব্যাক হিসেবে এসেছিল যা একজন বহিরাগত এর মতো ছিল। ইতালি এর প্রথম রাউন্ড খেলা শুরু হলে প্রথম দুই ম্যাচে সেরকম ছাপ রাখতে পারেনি যার ফলে তার নাম সেভাবে উচ্চারিত হয়নি।

১৬ রাউন্ডের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে  তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বিপদে পরে গিয়েছিল , যখন গ্রসো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিল যা টটি যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছিল। গ্রোসোর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল সাথে দলে ছিলেন এবং সেমিফাইনালে হোস্ট জার্মানির বিপক্ষে দারুণ গোল করে দলকে ফাইনালে তোলেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ফাইনালে ১-১ ব্যবধানে ড্র করার পর  ম্যাচ পেনাল্টিতে গিয়েছিল এবং শট-আউটে তাদের পাঁচটি কিকই প্রতিপক্ষের জালে পাঠিয়ে ইতালি চতুর্থ বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল। এবং ইতালিয়ানদের হয়ে উদযাপন করার জন্য পঞ্চম পেনাল্টি কে করেছিল? ফেবিও গ্রোসো ছাড়া অন্য কেউ নন।

২০১৮ – ???

সুতরাং, ২০১৮ রাশিয়ায় অতীতের এই মহান ব্যক্তিদের সাথে কে যোগ দিতে পারে? এখানে এমন কিছু  খেলোয়াড়  আছে যারা সেমিফাইনালে আছে

কেভিন ডি ব্রুইন (বেলজিয়াম)

Image result for kevin de bruyne

স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে, ম্যানচেস্টার সিটির  শুরুর দিকে সময় কিছুটা  নিস্প্রভ ছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্রিস্ট মার্টেনের অনুপস্থিতিতে ডি ব্রুইন একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল  করেন এবং নিজেকে বেলজিয়ামের আক্রমণ ভাগ ও পাল্টা আক্রমণের সমস্ত কাজে জড়ান। এটা কি প্রতিপক্ষের লাইন ধ্বংসের জন্য  একটি ঝড়ের শুরু?

রাফেল ভারানে (ফ্রান্স)

Image result for varane france

রিয়াল মাদ্রিদের সেন্টার ব্যাককে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু উরুগুয়ের বিপক্ষে একটি চমৎকার হেডে গোল করা ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ার করা পর্বাভাস দেই যে ফ্রান্সের স্টার ডিফেন্ডার তার সেরা ফর্মে ফেরার  ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।

হ্যারি মাগুইরে (ইংল্যান্ড)

 

লিচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার কি ইংল্যান্ডের ফ্যাবিও গ্রোসো হয়ে যাবে? আরেকজন খেলোয়াড় যিনি  পেশাদার খেলার শীর্ষেউঠতে পেরেছে, সুইডেনের বিপক্ষে কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ডকে একটি শক্তিশালী হেডের মাধমে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ ভুমিকা পালন করেন ম্যাচে ।

এন্দ্রেজ ক্র্যামারিক (ক্রোয়েশিয়া)

Related image

ভাট্রেনি ভক্তরা হফেনহাম ফরোয়ার্ডের থেকে আরও বেশি আশা করছিল,  ক্রোয়েশিয়া একাদশের বাহিরে ছিলেন  যখন তারা  নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলা শুরু করে। কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়াকে তার হেডে  দ্রুত গোল পরিশোধ  করে  আর কোচ জালাত্কো ডালিক চাইবে ক্রমিকে শুরু থেকেই খেলানো এরকম আরো গোল করার জন্য।

Related Posts

About The Author

Add Comment