ধর্ম সাগর দীঘির পাড়ে বিডিএসএফ আড্ডা

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর দীঘি এবং কুমিল্লা পার্কে বিডিএসএফ এর কয়েক জন বন্ধুর ঝটিকা সফর! সাবিদিন ইব্রাহিম, আলাউদ্দিন ভাই, শাশ্বত সাহা, সাইদুল ইসলাম ও খন্দকার রাক্বীব এর সাথে আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিক্টোরিয়া কলেজের এক ঝাক বন্ধু। তিন ঘন্টার এ আড্ডাটি নতুন পুরাতন অনেক বন্ধুর উপস্থিতিতে একটি স্মৃতিময় বিকাল হিসাবে স্মরণীয় রইলো। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের একঝাক আনকোড়া মুখের প্রাণকাড়া কথায় আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি!

%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a6%be

ধর্মসাগর পাড়ে সবার আগে জমায়েত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন আলাউদ্দিন ভাই। তিনি সাড়ে তিনটার দিকে স্পটে এসে উপস্থিত হন এবং ধর্মসাগর পাড়ে আমাদের সবার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তিনি অবশ্য এরই ফাকে পুরো পার্ক এবং এর আশেপাশের জায়গাগুলো পরিদর্শন করে ফেলেন। বাংলাদেশ আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার রাক্বীব ছিলেন দ্বিতীয়। তারপর সাবিদিন ইব্রাহিম এবং সাইদুল এসে যোগ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অংশ নেন আমাদের হোস্ট বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর কোঅর্ডিনেটর  নুরুল আমিন। এভাবে সবাই জমায়েত হতে থাকেন এবং আলোচনা জমতে থাকে।

একজন অসাধারণ পর্যটক কিংবা মুসাফির আলাউদ্দিন ভাই প্রথমেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ধর্মসাগর পাড়ের একটি নোটিশ বোর্ডের দিকে যেখানে ধর্মসাগরের সংক্ষিপ্ত বিত্তান্ত লেখা আছে। সেই প্রজাদরদি ও মানবপ্রেমী জমিদারের বাণী সম্বলিত তাম্রলিপির মর্মার্থ আমাদের মনে গেথে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf

এই সেই তাম্রলিপি

অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার পর আনুষ্ঠানিক আড্ডা শুরু করেন সাবিদিন ইব্রাহিম। ইফেক্টিভ রিডিং নিয়ে কথা বলার সাথে সাথে ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডির উপর জোর দেন। তার সাথে উঠে আসে বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা, দায়ের কথা এবং বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের কর্মকাণ্ডের কথা। বর্তমান যুগে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বসেও পৃথিবীর সবচেয়ে লেটেস্ট জ্ঞান কিভাবে অর্জন করা যায় তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন এবং একদিন বাংলাদেশ শুধু একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশই হবে না বরং বিশ্বসভ্যতায় অবদান রাখবে ও নেতৃত্ব দেবে সেই স্বপ্নের কথাও বলেন।

তারপর আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যান আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই এর মেধাবী ছাত্র শাশ্বত সাহা। তিনিও ইন্টার ডিসিপ্লিনারি স্টাডির গুরুত্বের সাথে সাথে উল্লেখ করেন কিভাবে বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন ছোট ছোট স্টাডি সার্কেল অনেক বড় বড় অবদান রেখেছে। সে জায়গাতে এরকম বিভিন্ন আড্ডার গুরুত্বের কথা উঠে আসে। আমরা কিভাবে শুধু একটি দেশেরই নয় বরং গ্লোভাল সিটিজেন হয়ে উঠছি তথ্য প্রযুক্তির এই জমানায় তা উল্লেখ করেন শাশ্বত সাহা।

%e0%a7%a8

ধর্মসাগর পাড়ে আমরা কত ক্লান্ত মুসাফির!

আলোচনার এই ফাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী বন্ধু নুরুল আমিন প্রশ্ন ছুড়েন-‘মুক্তিযুদ্ধের উপর সবচেয়ে ভালো বই কোনগুলো?’

এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক খন্দকার রাক্বীব অনেকগুলো বইয়ের নাম উল্লেখ করেন এবং কেন সেগুলো প্রয়োজনীয় তার কারণ বলেন। মইদুল হাসানের ‘মূলধারা ৭১’, আবুল মনসুর আহমদের ‘আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর’, এস এম আলির ‘আফটার দ্য ডার্ক নাইট’, বি.জে খসরুর ‘মিথস এন্ড ফ্যাক্টস..’ হাসান হাফিজুর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র’, এন্থনি মাসকারেনহাস ও আর্চার কে ব্লাডের লেখনির কথা উঠে আসে।

আলোচনার এ পর্বটি চলছিল কুমিল্লা পার্কের জামতলাতে।

%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a7%a6%e0%a7%a6%e0%a7%a8

জামতলাতে জম্পেশ আড্ডার প্রাক্কালে

একটি ছোট্ট বিরতির পর আমরা চলে আসি ধর্মসাগর পাড়ে। এবার উপস্থিত সবাইকে বলা হয় তাদের জীবনে সবচেয়ে ভালো লাগার, ছুঁয়ে যাওয়া একটি বইয়ের নাম বলতে এবং কেন ভালো লেগেছে তার কারণ বলতে। প্রত্যেকেই তাদের পছন্দের বই নিয়ে আলাপ করেছেন।

আড্ডার সমাপ্তি টানেন আলাউদ্দিন ভাই যিনি নোয়াখালী থেকে এসে যুক্ত হন আমাদের সাথে। তার উপস্থিতি এবং দিক নির্দেশনা উপস্থিত সবাইকে আলোকিত করেছে।

%e0%a7%a7

এভাবে কোনসময় যে তিন ঘন্টা পার হয়ে গেল টেরই পাওয়া গেল না। আমাদেরকে পথ ধরতে হলো ঢাকার পথে।

স্মৃতিময় একটি সন্ধার সাক্ষী হয়ে রইলো ঐতিহাসিক ধর্মসাগর দীঘি।

%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf

Related Posts

About The Author

Add Comment