নন্দিনীর গল্প

“নন্দিনীর গল্প” শিরোনামে  ৪ জুন শনিবার বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ তম পাবলিক লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে । নন্দিনীর গল্প শুনিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম জামাল উদ্দিন । বক্তা শুনিয়েছেন নন্দিনী নামক ফুল নিয়ে ।

বক্তা নন্দিনীর গল্প শুরু করেন ১৯৯৭ সালে জাপানে পি এইচ ডি ডিগ্রির উদ্দেশ্যে জাপান গমনের গল্প দিয়ে । সুপারভাইসর অধ্যাপক জিজ্ঞেস করেন কোন ফুল নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী । স্বাভাবিক ভাবে বলে দেন দেশীয় ফুল গোলাপ, রজনিগন্ধা, গাদার নাম । কিন্তু অধ্যাপক তাতে রাজি নন । পরামর্শ দেন জাপানি ফুল তরুকোগিকিও  নিয়ে গবেষণা করার জন্য । ইংরেজি লিসিয়েন্থাস( বৈজ্ঞানিক নাম Eustoma Grandiflorum)

বক্তা শেয়ার করেন জাপানে গিয়ে প্রথম যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন তা নিয়ে। ভাষা না জানা ছিল বড় একটা বাঁধা । অনেক বন্ধুর সাথে থেকে অল্প কয়েক দিনেই রপ্ত করেন জাপানি ভাষা । খণ্ডকালীন চাকরি করে জোগাড় করতে হত পড়ালেখার খরচ, যা বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই করে থাকেন ।

১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ফুলটি নিয়ে গবেষণা করেন ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন । ২০০৩ সালে বাংলাদেশে পরিবার নিয়ে চলে আসেন ।

দেশে ফেরার সময় অধ্যাপক কিছু ফুলের বীজ উপহার দেন। অধ্যাপকের উপহার দেয়া ফুলের বীজের নাম ঠিক করেন নন্দিনী । এখান থেকেই নন্দিনীর শুরু। লেগে যান ঐ বীজগুলো থেকে বীজ উৎপাদনে ।বাংলাদেশে এই ফুল ফুটানোর উদ্দেশ্যে বীজ থেকে চারা গজানোর কাজে লেগে যান । বীজ থেকে চারা আসে, চারা বড় হয় কিন্তু ফুল আর ফোটে না। ২০০৯ সালে প্রথম ফুল ফোটে।

এই ফুলের বীজ থেকে চারা গজাতে ২-৩ মাস সময় লাগে। দো-আঁশ মাটি গাছের জন্য উৎকৃষ্ট । নন্দিনীর ৪৫ রঙের ফুল রয়েছে । কোন ধরেনর ঘ্রাণ নেই । অন্যান্য ফুল গাছ থেকে তোলার ৩ দিনের মধ্যেই শুকিয়ে যায় । কিন্তু নন্দিনী এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা । গাছ থেকে তোলার ১৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে । ১ টি ফুল থেকে ১০০০- ১২০০ টি বীজ হয় ।

USAID নন্দিনীর জন্য আর্থিক সহায়তা করেছে । বর্তমানে যশোরে এই ফুলের চাষ হচ্ছে ।

নন্দিনী নিয়ে বলার পাশাপাশি আরো বলেন নগর সবুজায়ন, নগর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে । জাপান থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে বড় মেয়ের প্রশ্ন গাড়ি হর্ন দেয় কেন, তোমার দেশটা এত নোংরা কেন ? মেয়ের হাত ধরেই স্বপ্ন দেখেন পরিষ্কার বাংলাদেশের ।

সবুজ ঢাকা প্রকল্পের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন । কার্বন বাজেট নিয়ে ও  ধারণা দেন । কার্বন বাজেট হল কার্বন-ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে অক্সিজেনের পারিমাণ বাড়ানো । দেশে আসার পর বক্তা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেন । কথা বলেন শহরে রাস্তার দুপাশে ও রোড ডিভাইডারে গাছ লাগানোর পদ্ধতি ও বর্তমান সমস্যা নিয়ে । গাছ কাটার নিয়ম নিয়ে ও বলেন ।

নন্দিনীকে ফুটানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকল কাজে সহযোগিতা করেন । নন্দিনীর বাণিজ্যিক প্রসার ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ও আলোচনা করেন । নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শেষ করেন ৪০ মিনিটের নির্ধারিত বক্তৃতা ।

এর পর আলোচনা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত । বেশ কয়েকজন আলোচকের প্রশ্ন ছিল । উত্তর পর্বে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তা ।

সমাপনী বক্তব্য রাখেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোঃ  আলাউদ্দিন ।

 

 

 

 

Related Posts

About The Author

Add Comment