নীরদ সি চৌধুরীর সাথে পরিচয়

যাকে নিয়ে অনেক নিন্দা, যাকে নিয়ে অনেক গালাগালি, যাকে নিয়ে অনেক সমালোচনার গল্প শুনি তাকে নিয়ে আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। আমি দেখেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঙালি যাকে একবাক্যে একমত হয়ে গাল দেয়, সমালোচনা করে তার মধ্যে মাল থাকে। তাছাড়া প্রশংসা করা কম শিখলেও (বা প্রশংসাকে কেবল চাটুকারিতায় পরিণত করার সক্ষমতা অর্জন করলেও যদিও তা নিজের স্বার্থ সিদ্ধি ও দাশ মনোবৃত্তি টিকিয়ে রাখার জন্য) সমালোচনা ও গালমন্দ বাঙালি বেশ ভালো শিখেছে। অবশ্য এ কাজ করতে কোন পয়সা বা পরিশ্রম লাগেনা তাই বলে হয়তো!

নীরদ হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি গালি খাওয়া বাঙালিদের তালিকায় শীর্ষে আছেন। এজন্যই তাকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করি। নীরদকে পড়ে যদি মনে হয় তাকে সমালোচনা করার যথেষ্ঠ জায়গা আছে তাহলে সেটা করতে দ্বিধা করবোনা। শুধু শুনা কথায় কান দিয়ে, ক্ষেপে গিয়ে গালবাজির সিলসিলা ধরে রাখতে আমি আগ্রহী নই, অভ্যস্তও নই।

কারণ বাঙালি চরিত্রের এ দিকটি নিয়ে আমার বেশ পরিচয় আছে যে তারা শুনা কথায় প্রশংসা কমই করে কিন্তু কুৎসা প্রচারে সবার চেয়ে এগিয়ে। নীরদের প্রথম প্রকাশিত বই ‘The Autobiography of an Unknown Indian’ ভারতীয় প্রকাশনী JAICO থেকে প্রকাশিত ভারতীয় সংস্করণটির মলাটের পেছনের অংশে লেখা আছে, “Nirad C. Chaudhury, India’s most controversial writer..”

তার এই পরিচিতির কারণেই তাকে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

নীরদ সি চৌধুরী বা শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী

নীরদ যখন ইংরেজিতে লিখেন তখন Nirad C. Chaudhury/ নীরদ সি চৌধুরী লিখেন। আবার বাংলায় লেখার ক্ষেত্রে শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী লিখেন। নীরদ সি চৌধুরী বা শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী নামটা কানে ও মনে আসলে ধারণা হয় লোকটা অনেক বড় আকৃতির, মোটাসোটা জাদরেল ধরণের একটা লোক। এই ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে যে কজন হাতেগুণা বৈশ্বিক আ আন্তর্জাতিক লোক তৈরি হয়েছে নীরদ তাদের মধ্যে অন্যতম।

নীরদ একটি বিতর্কের নাম, সমালোচনার নাম-আলোচনার নাম, পছন্দের নাম-ঘৃণার নাম। তিনি আবার এমন এক ব্যক্তিত্ব যাকে You may not like him, but you cannot ignore him.

এই আলোচিত-সমালোচিত নীরদ সি চৌধুরী নামের এই বিশাল ব্যক্তিটি আসলে একজন এভারেজ বাঙালির চেয়ে খাটো। নীরদ তার “আমার দেবোত্তর সম্পত্তি”র দ্বিতীয় অধ্যায়ে নিজের শারীরিক অবয়বের পরিচয় দিয়েছেন। উনার মুখ থেকেই শুনি:

“সংক্ষেপে দৈহিক অক্ষমতার হিসাব দিই। আমার উচ্চতা পাঁচ ফুট আধ ইঞ্চ; ওজন একমনের অতি সামন্য ঊর্ধে সারাজীবন ধরিয়া; দেহ হাড়-জিরজিরে কৃকলাশের মত; রঙ আধ-ময়লা; মুখের বিশেষ শ্রী নাই।”

আমরা তার শারীরিক মাপ জানলাম এবার না হয় তার বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়টা মাপবো!

(চলবে…)

 

সাবিদিন ইব্রাহিম

[email protected]

Related Posts

About The Author

Add Comment