পাওলো কোয়েলহোর দ্য এ্যলকেমিস্ট

আন্দালুসিয়ার এক রাখাল সান্তিয়াগো। যে মাঠে মাঠে ভেড়া নিয়ে চড়ে বেড়ায়। পৃথিবীকে দেখার জন্যই সে বেচে নিয়েছে রাখাল জীবন। সান্তিয়াগো এক বিচিত্র স্বপ্ন দেখে। যার ব্যাখ্যায় এক মহিলা বলে সে গুপ্তধন পাবে, মিশরের পিরামিডে আছে সেই গুপ্তধন।

এরই মধ্যে সান্তিয়াগোর দেখা এক বৃদ্ধের সাথে যে নিজেকে সালেমের রাজা দাবী করে। সেই রাজা তাকে তাঁর জীবনের লক্ষ চিনে নিতে বলে। সেই লক্ষ ঠিক করতে বলে, লক্ষ অর্জন করতে পরিশ্রম করতে বলে।

বৃদ্ধ রাজাই তাঁকে বলে, ” যখন কেউ কোনো কিছু পেতে চায় তখন সারা বিশ্ব ফিসফাস শুরু করে দেয় সেই জীনিসটা তাঁকে পাইয়ে দেয়ার জন্য। ” বৃদ্ধের কথাই সে তাঁর জীবনের লক্ষকে ঠিক করে। সে গুপ্তধন পাওয়ার জন্য মিশর যাত্রা করে।

মিশর যাওয়ার পথে সাহারা মরুভূমিতে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধের কারণে সান্তিয়াগোদের ক্যারাবন এক আরব গোত্রের আতিথেয়তা গ্রহণ করে।
কেউ জানেনা যুদ্ধ কবে থামবে, কবে সান্তিয়াগোদের ক্যারাবন আবার যাত্রা শুরু করবে।

ঘটনাপ্রবাহে সেই আরব গোত্রে সান্তিয়াগোর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, পায় বিপুল ঐশ্বর্য। আরবরা তাঁকে গোত্রপতি হতে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানেই তাঁর দেখা হয় এক এ্যালকেমিস্টের সাথে, যে আসে তাঁর জীবনের অাশির্বাদ হয়ে, তাঁর জীবনকে পাল্টে দিতে। আর সেখানেই সে ভালবেসে ফেলে এক আরব রমণীর।

সে পেয়ে গেছে সম্মান – মর্যাদা, সম্পদ – ঐশ্বর্য, সে পেয়েছে তাঁর মনের মানুষ ফাতেমাকে। সে ভাবে এখন মিশর গিয়ে কী হবে ? এই আরব গোত্রেই তো সে সব পেয়েছে। এখানে থাকলেই তো সে আরামে জীবন কাটাতে পারবে। সে ভাবে এখন ফাতেমাকে বিয়ে করে সম্মান আর ঐশ্বর্যের জীবন শুরু করা যাবে। আর পরে একসময় না হয় গুপ্তধনের সন্ধানে মিশর যাওয়া যাবে। কিন্তু এ্যালকেমিস্ট তাঁকে তাঁর লক্ষের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়।

এ্যালকেমিস্ট তাকে তার লক্ষ সঠিক সময়ে অর্জনের কথা বলে। সে উপদেশ দেয় ভালবাসার টানে নিজের লক্ষ অর্জনের পথ থেকে সরে না দাড়াতে। এবং লক্ষটা যথাসময়ে অর্জন না করলে পরে পস্তাবে। এ্যালকেমিস্ট বলে – ” সবসময় মনেরেখ ভালবাসা কখনো কাউকে লক্ষ থেকে সরিয়ে দিতে চায় না। কেউ যদি লক্ষ থেকে সরে যায় বুঝবে সে ভালবাসা সত্য নয়।……. ভালবাসা হলো তা যা জগতের ভাষায় কথা বলে। ” সে সান্তিয়াগোকে তাঁর লক্ষ অর্জনের জন্য পরিশ্রম করতে বলে, বলে পরিশ্রমের মধ্যমেই লক্ষ অর্জিত হয়।

সে বলে – ” সব খোঁজা শুরু হয় যে খুজছে তাঁর সৌভাগ্যের সাথে। শেষ হয় বিজয়ী বারবার পরীক্ষিত হবার পর। “

এই বই পড়লে জানতে পারবেন মরুভূমির মধ্যে আরবদের সংগ্রামী আর সাহসী জীবনের কথা। আরব রমণীদের অপেক্ষার প্রহর গুণার কথা। আর এ গ্রন্থের জাদুবাস্তবতা আপনাকে মোহিত করবে নিশ্চয়ই।

সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী দ্যা এ্যালকেমিস্ট। এটা সম্পর্কে আমি কিছু বলব না বড় বড় ব্যক্তিরাই গ্রন্থটি সম্পর্কে যাথার্থ্য মন্তব্য করেছেন। আমি শুধু বলব এটা পড়ুন। পড়লে বুঝতে পারবনে নিজের জীবনের লক্ষ ঠিক করে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা। সব হতাশা দূর করে নিজের লক্ষের দিকে এগিয়া যাবার প্রেরণা পাবেন এ গ্রন্থ থেকে। নিঃসন্দেহে এটা একটি অসাধারণ অনুপ্রেরণামূলক গ্রন্থ যা আপনাকে জীবন সংগ্রামে সাহসী করে তুলবে।

Related Posts

About The Author

Add Comment