পাঠক ম্যাকলে প্রসঙ্গ

লর্ড ম্যাকলে যিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যার প্রবর্তিত শিক্ষানীতিটাকেই আমরা টেনে হিচড়ে লম্বা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছি প্রায় দুইশো বছর ধরে তিনি কেমন ছিলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই একজন অসাধারণ পাঠক হিসেবে পাওয়া যায় ম্যাকলে কে। ম্যাকলেকে নিয়ে বলা হয়ে থাকে ম্যাকলে অন্যরা যত দ্রুত স্কিম করে তত দ্রুত একটা বই পড়ে ফেলে, আর অন্যরা পৃষ্ঠা উল্টানোর আগেই স্কিম করে ফেলে।

মধ্যবয়সে তিনি লন্ডনের রাস্তায় নিয়মিত হাঁটতে বেড়োতেন। এমনকি লন্ডনের সবচেয়ে জনাকীর্ণ রাস্তাগুলোতেও। এখানেও তাকে নিয়ে প্রচলিত কথা ছিল: ‘তিনি অন্য যে কারো চেয়েই অনেক দ্রুত হাঁটেন, এবং তিনি অন্য যেকোন ব্যক্তির চেয়ে অনেক দ্রুত বই পড়েন।

 

(‘As he grew toward maturity he proved unique in his manner, as well as in his power, of reading. It is said that he read books faster than other people skimmed them, and skimmed them as fast as any one else could turn the leaves, this, however, without superficiality. One of the habits of his middle life was to walk through London, even the most crowded parts, ‘as fast as other people walked, and reading a book a great deal faster than anybody else could read.’)

পৃষ্ঠা ১৩৯, অ্যা হিস্ট্রি অব ইংলিশ লিটারেচার, রবার্ট হান্টিংটন ফ্লেচার

 

ফুটনোট: ভিক্টোরীয় যুগ (১৮৩২-১৯০১) নিয়ে পড়ছিলাম আর লিখছিলাম তখন রবার্ট হান্টিংটন ফ্লেচারের এই বইটির প্রথমেই যে ফিগারকে নিয়ে আলাপ তুললো সে ম্যাকলে। ভিক্টোরিয়ান যুগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আলোচনায় প্রথমে আসলো ম্যাকলের নাম। তার সবচেয়ে অগুরুত্বপূর্ণ পরিচয়ের একটি হচ্ছে তিনি একজন কবি ছিলেন। এ জায়গাতেই সবচেয়ে দুর্বল ছিলেন। একজন ঐতিহাসিক, একজন আইনজজ্ঞ, একজন পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি ছিলেন তার সময়ের সেরাদের একজন। কয়েক খন্ডে লেখা তার ‘হিস্ট্রি অব ইংল্যান্ড’ একটি অনন্য সংযোজন ব্রিটেনের ইতিহাসে। তো এই ভদ্রলোক ভিক্টোরীয় যুগের গুরুত্বপূর্ণ ফিগারের আলোচনায় প্রথমে আসলেন।

দ্বিতীয় যিনি তিনি হলেন থমাস কার্লাইল! ম্যাকলে ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তার খ্যাত বা কুখ্যাত কীর্তি ‘ম্যাকলে মিনিটস’ যেখানে তিনি এক শিক্ষানীতি প্রস্তাব করেন যার মাধ্যমে এই ভারতীয়দের এমন বানানো হবে ‘যারা রক্তে মাংসে হবে ভারতীয়, কিন্তু মাথা-মগজ ও পোশাক-আশাকে হবে ইংরেজ’।

এই ভদ্রলোক ভারতীয় ইতিহাসে এমনভাবে জাড়িত হয়ে আছেন যাকে আপনি পছন্দ না করলেও মুছে দিতে পারছেন না! ম্যাকলে প্রবর্তিত শিক্ষানীতি প্রায় একশো বছর চলে আসছিলো। এর পরেও সেই পাটাতনের উপরই নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো আমাদের শিক্ষানীতি ম্যাকলে থেকে কতটুকু এগিয়েছে সেটা দেখার বিষয়। আজকে শুধু ব্যক্তি ম্যাকলের পাঠক হিসেবে পরিচয়টা নিয়ে থাকলাম। পরবর্তীতে ভালো করে তাকে স্টাডি করার প্রয়োজন বোধ করছি।

 

 

পাঠকের ডায়রী, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

 

সাবিদিন ইব্রাহিম

[email protected]

Related Posts

About The Author

Add Comment