পাঠ প্রতিক্রিয়া : গ্রন্থ : বাংলাদেশের জন্ম

মূল: রাও ফরমান আলী
(হাউ পাকিস্তান গট ডিভাইডেড)
ভুমিকা লিখেছেন: অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।
প্রকাশকাল: ১৯৯৬

(প্রচলিত রিভিউ নয়,পাঠ প্রতিক্রিয়া মাত্র)

পরাজিত পাকিস্তানি জেনারেলদের অন্যসব আত্মজীবনীর মতোই এ গ্রন্থে আত্মসাফাই ও দায়মুক্তির নানা ফিকির পরিলক্ষিত হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার মুল খলনায়ক হিসেবে কুখ্যাতি অর্জনকারী রাও ফরমান আলীর লেখায় নিজেকে শেখ মুজিবের প্রিয়পাত্র হিসেবে দাবি করা হয়েছে, এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে।

ইয়াহিয়াকে বারবার “মাই প্রেসিডেন্ট ” হিসেবে উল্যেখ করেছেন। ইয়াহিয়ার খুব কাছের লোক হিসেবে দাবী করলেও জেনারেল হামিদ ও পীরজাদার জন্য নাকি ইয়াহিয়া রাও ফরমান আলীর কোনো পরামর্শ গ্রহণ করতেননা! যদিও মেজর আরিফের আত্মজীবনীতে তিনি বলেছেন,রাও ফরমানের সকল মতামতই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।
জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজিকে অযোগ্য সেনাপতি মনে করতেন। নিয়াজি নারীলোভী,মাতাল,অশ্লীল রসিকতাকারী ও অপক্ক সমরজ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন বলেও বারবার উল্লেখ করেছেন ফরমান আলী।

★১৯৬৭ সালে পাকিস্তান ভাঙনের চূড়ান্ত রুপ পরিলক্ষিত হয়েছে এ জেনারেলের কাছে। পাকিস্তান ভাঙার জন্য সকলেই কমবেশি দায়ি হলেও উল্লেখ করেছেন।

★ছাত্র-গণ আন্দোলন প্রসংে লিখেছেন, “ছাত্ররা যদি বলত আজ পাখি উড়বেনা,তাহলে পাখিও উড়তনা।

★ভুট্রো ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্যারালাল আলোচনা করেছেন এ পাকিস্তানি। উভয়ের অনড় অবস্থান পাকিস্তানের বিভাজনকে ত্বরান্বিত করেছে বলে লিখেছেন। সেক্ষেত্রে শেখ মুজিবকে ভালো বাগ্মী হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন,এই বাকপটুতার কারনে তাকে বিশ্বাস করা যায়না।

★ তাজউদ্দীন আহমদ ও শেখ মুজিবের মধ্যে আলোচনায় তাজউদ্দীন আহমেদকে “ভারতের দালাল” ও “হিন্দু” হিসেবে উল্লেখ করে ঘৃণার উদগার করেছেন এই পাকি জেনারেল। মুলত তাজউদ্দীন আহমদের অটল ব্যক্তিত্বই এই ঈর্ষা ও ঘৃণার কারন বলে আমার মনে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বাধ্য পাকিস্তানি হিসেবে উল্ল্যেখ করাটা একধরণের চাল ও বিতর্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস বলে আমার কাছে মনে হয়। কেননা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের সাথে
কৌশলগত আনুগত্য রেখেছিলেন বলে প্রমাণিত।
★ওসমানী সহ বাংালী জেনারেলদের অবজ্ঞা করা ও বিভিন্ন বিষয়ে অন্ধকারে রাখার দিকটি অবশ্য নিরপেক্ষভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

★মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অবরোধের মুখে নিজেকে ছাড়া বাকি সকলকে ভিতু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে ঈংিত করেছেন। এছাড়া যুদ্ধবন্দী জীবনের নানা বর্ণনায় নিয়াজির সমালোচনা করেছেন।

★ বস্তুত: বইটি অন্যান্ন পাকি জেনারেলদের মতোই আত্মদায়প্রক্ষালক ও সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে রচিত। যেখানে কিছু কিছু বিষয় শুধুমাত্র ধারণার বশে লেখা হয়েছে। ১৯৭০ এর নির্বাচনে ভারতীয় টাকায় প্রচারণা চালিয়েছে বলে যে, মন্তব্য করেছেন,তার কোনো দলিল তো দুরের কথা,সামান্যতম বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই,যা পাকিস্তান সূলভ মন্তব্য।

তথাপি বইটি অন্নান্য পাকি জেনারেলের চেয়ে খানিকটা উন্নত বলে মনে হল। আর উন্নত হবেইনা কেন,বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জঘন্য পরিকল্পক তো এই খুনীই।

 

লেখক : শাহাদাৎ তীরন্দাজ

Related Posts

About The Author

Add Comment