পাঠ সমাচার: নভেম্বর

দিন যায়…..বিভিন্ন ব্যস্ততা বাড়তে থাকে।সাথে ধীরে ধীরে কমতে পুস্তকের সাথে সখ্যতা। এরপরেও মাসশেষে কিছু বইয়ের নাম প্রতিনিয়ত-ই যুক্ত হতে থাকে পঠিত ব ইয়ের তালিকাতে। এমন কিছু বইয়ের বিষয়বস্তু সমম্পর্কে বলার জন্যেই এ পোষ্টের অবতারণা। উল্লেখ্য যে, এখানে যেসব ব ইয়ের সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা হয়েছে, সেগুলো বিগত নভেম্বরে পড়া হয়েছে। কথা আর না বাড়িয়ে এবার মূল পোষ্টে আসা যাক!

১) ট্যুইলাইটঃ এ বইটির লেখক মার্কিন সাহিত্যিক স্টেফিন মেয়ার।  পরবর্তীতে বাংলাতে ভাষান্তর করেছেন বশীর বারহান। আলোচিত এ বইটির কাহিনী একটু ভিন্নধর্মী। মূল কাহিনী গড়ে ওঠেছে এক ভ্যাম্পায়ার ও এক মানবীর প্রেমকে কেন্দ্র করে। ঘটনাক্রমে মানবরূপী ভ্যাম্পায়ার এক মানবীকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু তার গোত্রের অন্যরা এটাকে ইতিবাচকভাবে নেয়না। তারা মানবীর রক্তপানের নেশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। প্রিয়তম কীভাবে বাঁচাবে তার প্রাণের প্রেয়সীকে? আদৌও কি রক্ষা করতে পারবে তাকে? জানতে হলে পড়তে হবে বহুল আলোচিত এ বইটি! আগাগোড়া রহস্যে ঘেরা এ বইটি পড়তে গিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়। এক কথায় বলতে গেলে, এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলবার মত একটি বই। সবমিলিয়ে দারুণ লেগেছে আমার কাছে। জানিনা, বাকিরা কী বলবেন এ ব্যাপারে!

২) সেঃ এ বইটি লিখেছেন সমসাময়িক কালের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। তার লেখা উপন্যাসগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করলেও বেশ সমালোচিত ব্যক্তিত্বের নাম আনিসুল হক। তার লেখা এ উপন্যাসের চিত্রপট একটু ভিন্নধর্মী। স্মৃতিকাতরতা এটিতে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ভালবাসা সবসময় আকাঙ্ক্ষিত হয় না; কখনো কখনো তা এক অনাহূত বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ উপন্যাসেও আমরা একই রকম ঘটতে দেখি। এসব ক্ষেত্রে উভয় সংকটে পড়ে যেতে হয়। কখনো কখনো এসব গল্পগুলি ট্রাজেডিতে মোড় নেয়। সবমিলিয়ে, তেমন খারাপ লাগেনি আমার। লেখার মধ্যে বেশ আকর্ষণ ছিল। একবার শুরু করলে পরে কী ঘটল, তা জানবার জন্যে উদ্বিগ্নতা কাজ করে। আশা করি, পাঠকদের ভালো লাগবে।

৩) পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণঃ আহমদ ছফা রচিত এটি একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। মূলত অতীতের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ এখানে করেছেন লেখক। সে কাজটি করতে গিয়ে লেখক তার বৃক্ষপ্রেম ও পাখিপ্রেমের দিকটি উপেক্ষা করতে পারেন নি। পাশাপাশি মানব দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।  এছাড়াও কৃষিকর্ম বিষয়ক দীর্ঘ আলোচনা আছে এতে। বৃক্ষ ও পক্ষীর সাথে মানবধর্মের তুলনা করা হয়েছে দর্শনের আশ্রয়ে। সবমিলিয়ে, বেশ লেগেছে আমার কাছে। আশা করি, আপনাদের কাছেও ভালো লাগবে।

৪) নাঃ মোহিত কামাল নামে একজন মনোচিকিৎসকের লেখা একটি মনোস্তাত্ত্বিক উপন্যাস এটি। মূলত এটিতে মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় ব্যাপার তুলে ধরা হয়েছে। সেটি হলো, স্থান-কাল-পাত্র ভুলে যে কাউকে, যে কোনো পরিস্থিতিতে না বলতে পারা দৃঢ়তার সঙ্গে। দুঃখজনক হলেও এটা নির্মম সত্য যে, এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি-ই আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই করতে পারি না। এতে করে নিজেরাই ভুল পথে পা বাড়াই। নিজেরাই ক্ষতির স্বীকার হয়ে থাকি। এর জন্যে যে শুধু আমরা নিজেরাই দায়ী থাকি সবসময়, ব্যাপারটা এমন-ও নয়। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-ও সমানভাবেই দায়ী। এ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এখানে। এর জন্য বাস্তব জীবনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন লেখক। সবমিলিয়ে বেশ দারুণ লেগেছে আমার কাছে। আশা করি, বাকি পাঠকদের কাছেও খুব একটা খারাপ লাগবে না।

৫) ভবিষ্যতের বাঙালিঃ এ বইটি লিখেছেন এস. ওয়াজেদ আলি। বিষয়বস্তুর দিক থেকে এটি মূলত একটি প্রবন্ধ সংকলন। বিভিন্ন বিষয় এসব প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন প্রবন্ধকার। তবে সবগুলোতেই ঘুরেফিরে কিছু কমন ব্যাপার এসেছে। এসব প্রবন্ধে বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে বাঙালির অবনতির চিত্র ও কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সাথে কীভাবে এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব, সেসব ব্যাপার নিয়েও আলোচনা রয়েছে এ বইটিতে। এটার ভাষাশৈলী অনেক ভালো লেগেছে। এছাড়া লিখনভঙ্গীও অনেক চমকপ্রদ। সব মিলিয়ে খারাপ লাগেনি বইটি। আশা করি, আপনার-ও ভালো লাগবে।

৬) কালবেলাঃ জনপ্রিয় এ বইটির লেখক ওপার বাংলার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার। তাঁর লেখা জনপ্রিয় তিনটি সিরিজ উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিবেশ এটিতে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাওয়া একজন নারীর আত্মগাথা, যে নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে শুধু নিজের ভালোবাসার মানুষটার কথা ভেবেছে, আর কিছুই ভাবেনি। এ দিকটা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোচনাকে পরোক্ষভাবে হলেও ছাপিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বেশ ভালোই লেগেছে আমার কাছে। জানিনা, বাকিদের কেমন লাগবে!

Related Posts

About The Author

Add Comment