পৃথিবীর সেরা প্রেমের উপন্যাস : সৈয়দ মুজতবা আলীর ‍‌‍‘শবনম’

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন “বাঙ্গালী তরুন-তরুনীদের প্রেমে পড়ার পূর্বে অবশ্যই সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনম উপন্যাসটি পড়ে নেয়া উচিত। এমন শিক্ষনীয় প্রেমের উপন্যাস বিশ্ব সাহিত্যে আর একটিও নেই।”

বই পড়ার জীবনে বই পড়ে আমি দু:খ পেয়ে কেঁদেছি এমন অনেক বই আছে। কিন্তু বই পড়েও যে আনন্দে চোখে পানি আসে এমন বই এই একটাই পেয়েছি আমার পড়া তিন শতাধিক উপন্যাসের ভিতর। এই উপন্যাসটি পড়লে আপনিও হয়তো আমার মতই আনন্দঅশ্রæ ধরে রাখতে পারবেন না।
সৈয়দ মুজতবা আলীর বৈচিত্রময় অনেক লেখার পরিসর থাকলেও শুধুমাত্র শবনম উপন্যাসটিই তাঁকে বিশ্বসাহিত্যে চির অমর করে রাখতে পারে বলেই মনে করি আমি।

কয়েকজন সাহিত্য সমালোচকের মুখে আমি এই বইয়ে বর্নিত সম্পূর্ন কাহিনী সত্য বলে শুনেছি। তবে সত্য হোক আর কল্পনা হোক আমি মনে করি প্রত্যেকটি তরুন তরুনীর জীবনেই এই বইটির কাহিনী বিন্যাস চরমভাবে সমান্তরাল।
উপন্যাসটির মূল কাহিনীতে লেখক একজন তুর্কি বংশোদ্ভূত আফগান বড়লোকের একমাত্র মেয়ের সাথে এক বাঙালী যুবকের প্রেম কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকারভাবে।

প্রেম শব্দটি শুনলেই আমাদের ছেলে মেয়েদের মনে যেরকম একটা আবহ তৈরি হয় এই উপন্যাসটিতে সেরকম কোন ঘটনার ঘনঘটা নেই। চিরাচরিত প্রেমের উপন্যাসও নয় এটি। মুজতবা আলী শবনম আখ্যানটিতে সম্পূর্ন নতুন এবং হৃদয়গ্রাহী এক উপস্থাপন ভঙ্গীতে প্রেমের এক শাশ্বত রুপ তুলে ধরেছেন আমাদের জন্য।

শবনম উপন্যাসে সৈয়দ মুজতবা আলী রুচিহীন কিছু লেখকের চোখেও কাঠি নাড়া দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। যেসব লেখক বাস্তবতা আর আধুনিকতার নাম করে উপন্যাস আর সাহিত্যের ভিতরে পাশবিক নগ্নতাকে টেনে নিয়ে এসে আমাদের তরুন-তরুনীদেরকে শুধুমাত্র দৈহিক প্রেমের শিক্ষা দিয়ে থাকেন সেইসব লেখকদের গালে চপোটাঘাত দিয়ে মুজতবা আলী এই উপন্যাসটিতে মানবিক প্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন সুনিপুনভাবে।

আপনি যখন এই উপন্যাসটি পড়তে থাকবেন তার কয়েকদিন যাবৎ সকাল সন্ধ্যা আশে পাশে শত মত শবনমকে কল্পনায় পাবেন আপনি। আপনার বাহ্যিক জগৎটা ঠিকঠাক থাকলেও আপনার কল্পনার জগৎকে শবনমেরা তাদের পবিত্রতা আর ভালোবাসা দিয়ে অবধারিতভাবেই আলোড়িত করবে চরম ভাবে।

শবনমদের সাক্ষাৎ পেতে চাইলে প্রথম সুযোগেই পড়ে নিন বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা এই আখ্যানটি।

Related Posts

About The Author

Add Comment