প্রথমে অজ্ঞতা, পরে প্রাজ্ঞতা

বই মানুষকে প্রথমে করে অজ্ঞ,এরপর জ্ঞানী তারপরে প্রাজ্ঞ। বই প্রথমে মানুষকে এটা শেখায় যে,”তুমি খুব কমই জানো।”ব্যক্তির জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ধরিয়ে দেয়। সে বুঝতে শেখে, যে সে অজ্ঞ! ব্যক্তির এই বোধ জন্মে, যে সে কতটা অজ্ঞতার আঁধারে ডুবে ছিল। আর নিজের অজ্ঞতার আবিষ্কারই সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। অজ্ঞতা সম্পর্ক অবগত হওয়ায় ব্যক্তির মধ্যে যেমন হীনতা কাজ করে,তেমনি তীব্র হয়ে ওঠে জানার বাসনা।

বই পড়ে কেউ কেউ আত্মসচেতন হওয়ার আগেই জ্ঞানী হয়ে ওঠে। নিজের অজ্ঞতা না বুঝে জ্ঞানীর চেয়ারে বসে জ্ঞান জাহির করতে  শুরু করে; সে আসলে জানেনা যে চেয়ারটাতে সে বসেছে তার পাঁ ঘুনে ধরা। শরীরটা একটু এলিয়ে দিলেই পতন হয়ে যাবে।


বই অজ্ঞতাকে আবিষ্কারের মাধ্যমে চিন্তার নতুন নতুন রেখা আঁকে। ভেতরের বদ্ধ দরজা জানালা খুলে ব্যক্তির সামনে তুলে ধরে বিশাল জগত।


কল্পনা করা যাক, একজন ব্যক্তি আজন্ম একটা ঘরে আবদ্ধ। ঘরটাতে অসংখ্য দরজা জানালা আছে, বন্ধ অবস্থায়। শুধু ৫ টা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খোলা জানালা আছে বাহিরের আলো বাতাস আসার,খাবার ও অন্যান্য দ্রব্য সরবরাহ এবং মন চাইলে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখার জন্য।


সে ঐ জানালা দিয়ে উকি দিয়ে যতটুকু দেখতে পারে, জগতের সাথে তার ততটুকুই পরিচয়। ফলে জগতের বিশালতা সম্পর্কে সে অজ্ঞ। 


এক একটা বই ঘরের এক একটা দরজা-জানালা ভেঙ্গে বিশাল জগত দেখাতে পারে ব্যক্তিকে। দরজা জানালা গুলো ভাঙ্গলে ব্যক্তির ক্ষতি বলেও মনে হতে পারে। এর জন্য সামান্য কষ্ট লাগাটাও স্বাভাবিক।


এখন বন্দী যদি তার বন্দীত্বকেই পর্যাপ্ত ভেবে দরজা জানালা খোলা থেকে বিরত থাকে। এবং ক্ষুদ্র জানালা দিয়ে দেখা জগতের অংশকেই জগত ভেবে নেয়।তখন দরজা জানালা খোলার যে তাড়না,তাতে শুধু ঠকঠক্ শব্দই হবে। জগত অদেখাই থেকে যাবে। তেমনি আত্মসচেতনাহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বইগুলোও শুধু, মেকি জ্ঞানের ঠকঠকানিই বাড়ায়। 

লেখক:

মোহাম্মদ আনিস

Related Posts

About The Author

Add Comment