পড়া, কেন লাইব্রেরি?

libraryআমাদের আলোচনার শিরোনামে দুটি শব্দ ‘পড়া’ ও ‘লাইব্রেরি’ আাছে এবং একটি প্রশ্নবোধক ‘কেন’ আছে।

আমরা আগে ‘পড়া’ নিয়ে বাতচিত করি চলেন-

আগে প্রশ্ন করি, পড়া কি?

পড়তে হবে কেন?

Why we need to read?

To have a deep knowledge about the past, better understanding of the present and to have a deep insight about the future we need to read.

অতীতের গভীর জ্ঞান, বর্তমানের ভাল বুঝ এবং ভবিষ্যতের গভীর ইনসাইট লাভ করার জন্য আমাদেরকে পড়তে হবে। পৃথিবীর তাবৎ অভিজ্ঞতা বইয়ে লিপিবদ্ধ আছে। আমরা বই পড়ার মাধ্যমেই পৃথিবীর সাথে আমাদের সম্পর্ক গড়তে পারি এবং আমাদের অবস্থান নির্ণয় করতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমাদের কাজ সম্পাদন করতে পারি এবং পৃথিবীতে আমাদের স্বাক্ষর রেখে যেতে পারি।

We need to read to increase our experience and expertise on the world we are living. We need to develop our experience so that we can do well to the world and to ourselves.

পড়তে হবে জানার জন্য, জানতে হবে করার জন্য, করতে হবে ভালোর জন্য। নিজের জন্য, দেশের জন্য,মানুষের জন্য, মানবতার জন্য।

Read to know, know to act, and act to be better. Better for you, your country, and your people.

‘Experience is a good school, but the fees are high’.—Heinrich Heine

 

What is my place in eternity? What is my place in the edifice called civilization?

“No, the real history of man is not in prices and wages, nor in elections and battles, nor in the even tenor of the common man; it is the lasting contributions made by geniuses to the sum of human civilization and culture.”

(The Great Minds and Ideas, Will Durant, page 6.)

 

We are a part of a grand design. We need to find what place we belong to.

আমরা জ্ঞানী হওয়ার জন্য, পণ্ডিত হওয়ার জন্যই শুধু পড়ি না। আমরা আমাদের অজ্ঞতার স্বরূপ উন্মোচন করার জন্যও পড়ি। আমরা যখন পড়ি তখন আমরা এটাও বের করতে পারি যে আমাদের অজ্ঞতা কত বিশাল, এটা কত অসম্ভব যে একজন ব্যক্তি সবকিছু জানবে!

We read not merely to learn and be a knowledgeable man or wise man. We can also read to unveil our ignorance! When we read we also can explore how vast is our ignorance, how immensely impossible to learn a few things rather than all things!

I thought I’ll be a knowledgeable man if I read. And I’ll be respected as a wise person in the society. Yes. I’m a wise person now! Cause, I can say with the expression of Socrates, ‘How utterly ignorant I’m’!

Through reading we can explore the abysmal ignorance we live in.

পড়াশুনার মাধ্যমে আমরা এাও জানতে পারি কি অজ্ঞতার অতল গহ্বরে আমাদের বসবাস!

What is Knowledge?

‘To know that we know what we know, that we do not know what we do not know, that is true knowledge.’

Confucius

 

‘Read not to contradict and confute; nor to believe and take for granted; nor to find talk and discourse; but to weigh and consider.’

Francis Bacon

 

কিভাবে পড়তে হবে?

How we need to read?

There are many ways and diversified purpose of reading. Reading techniques varies in respect of needs. After we get to know the importance or necessities of reading we can proceed further how we need to read.

‘Some books are to be tasted, others to be swallowed, and some few to be chewed and digested; that is, some books are to be read only in parts; others to be read, but not curiously; and some few to be read wholly, and with diligence and attention.’

Francis Bacon

The four main types of reading techniques are the following:

  • Skimming
  • Scanning
  • Intensive
  • Extensive

 

Skimming

আমরা পত্রিকা পড়ার সময় স্কিমিং করি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বেশি সংখ্যক পৃষ্ঠা পড়ি, বেশি শব্দ শেষ করতে পারি।

Skimming is sometimes referred to as gist reading. Skimming may help in order to know what the text is about at its most basic level. You might typically do this with a magazine or newspaper and would help you mentally and quickly shortlist those articles which you might consider for a deeper read. You might typically skim to search for a name in a telephone directory.

You can reach a speed count of even 700 words per minute if you train yourself well in this particular method. Comprehension is of course very low and understanding of overall content very superficial.

 

Scanning

Picture yourself visiting a historical city, guide book in hand. You would most probably just scan the guide book to see which site you might want to visit. Scanning involves getting your eyes to quickly scuttle across sentence and is used to get just a simple piece of information. Interestingly, research has concluded that reading off a computer screen actually inhibits the pathways to effective scanning and thus, reading of paper is far more conducive to speedy comprehension of texts.

Something students sometimes do not give enough importance to is illustrations. These should be included in your scanning. Special attention to the introduction and the conclusion should also be paid.

 

Intensive Reading

You need to have your aims clear in mind when undertaking intensive reading. Remember this is going to be far more time consuming than scanning or skimming. If you need to list the chronology of events in a long passage, you will need to read it intensively.

This is one reason why reading huge amounts of information just before an exam does not work very well. When students do this, they undertake neither type of reading process effectively, especially neglecting intensive reading. They may remember the answers in an exam but will likely forget everything soon afterwards.

 

Extensive reading

Extensive reading involves reading for pleasure. Because there is an element of enjoyment in extensive reading it is unlikely that students will undertake extensive reading of a text they do not like. It also requires a fluid decoding and assimilation of the text and content in front of you. If the text is difficult and you stop every few minutes to figure out what is being said or to look up new words in the dictionary, you are breaking your concentration and diverting your thoughts.

 

Types of Readers

Voracious readers

Plundering soldiers: take some and spoil more! (Friedrich Nietzsche, Ecce Hommi)

Professional readers: Lawyer, doctor, paper man, proofreaders.

Habitual Readers

Pleasure Readers

 

তারপরে আসবে ‘লাইব্রেরি’

লাইব্রেরি কি?

পাঠকহীন লাইব্রেরি কি হতে পারে?

পাঠকহীন কোন লাইব্রেরি আসলে একটি মৃত গৃহ। পাঠকের ছোয়াতেই লাইব্রেরি জেঁগে উঠে। পাঠকহীন বই আসলে মরা কাগজ। একজন পাঠকই বইয়ে জীবন দেন বা বইয়ের ঘুম ভাঙ্গান!

এটা কিভাবে কাজ করে?

Call number: Meaning

কেন লাইব্রেরিতে পড়তে হবে?

একাডেমিক বই ও আউট বই

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিস্তৃত আইডিয়া সেটা আমরা পূরণ করতে পারবো না আমরা যদি স্কুল কলেজের নির্দিষ্ট সংখ্যক পাঠ্য বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকি তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত পূরণ করবোনা। এটা শুধু এক কিন্ডারগার্টেন নয় এটা জ্ঞান উৎপাদনের জায়গা।

সবকিছুই একাডেমিক পড়াশুনা বা সব পড়াই একাডেমিক জগতকে সাহায্য করে। যেকোন ধরণের পড়াশুনাই পড়ার মধ্যে গণ্য হবে। যারা দৈনিক পত্রিকা ব্যতীত অন্য কিছু পড়ে না তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বৃথা বা সময়ের অপচয়। ছাত্রাবস্থায় লাইব্রেরিতে কাটানো সবচেয়ে প্রিয় কাজ যে বানাতে পারে না তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তেমন অর্থ বহন করেনা।

বুদ্ধিমানরা প্রশ্ন করবেন ‘কেন লাইব্রেরিতে পড়তে হবে?’

উত্তর হচ্ছে:

  • এই বয়সে আপনার বই কেনার সামর্থ্য বা লাইব্রেরি থাকার সামর্থ্য বিল গেটস পর্যায়ে যায়নি এটা বলা যায় নিশ্চিন্তে।
  • বই কেনার সামর্থ্য থাকতে পারে কিন্তু সব বই পাওয়ার সামর্থ্য আপনার নেই। কারণ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কিছু দুর্লভ বইপত্র, ডকুমেন্ট থাকে যেগুলো অন্য জায়গায় পাওয়া সম্ভব নয়। ম্যাগনাকার্টা, পুথি, পাণ্ডুলিপি, রেয়ার বুকস্, পুরনো পত্রিকা।

ডিজিটাল যুগ, বই পড়বো কেন?

  • আপনি বলবেন এই ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে বই পড়বো কেন? সবকিছু তো ইন্টারনেটেই পাওয়া যায়। তাদের জন্য জবাব হচ্ছে-পাশ্চাত্য দুনিয়ায় আমাদের চেয়ে প্রযুক্তির ছোঁয়া বেশি লেগেছে বা আমাদের চেয়ে বেশি লেগেছে এটা স্বীকার করবেন আশা করি। সেই সব দেশগুলোতেও প্রতিবছর সব ক্যাটাগরিতে ‘বেস্ট সেলার’ বইয়ের তালিকা হয়। ‘বেস্ট সেলার’ বই মানে কিন্তু হাজার বিশেক বই বিক্রি হওয়া নয়(যেমনটা বাংলাদেশে হয়ে আসছে)! কোন বইকে ‘বেস্ট সেলার’ খেতাব পেতে হলে কয়েক লাখ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হতে হয়।

 

  • আমাদের বইয়ের বাজারে কোন ধরণের বই বেশি বিক্রি হয় সেগুলো নিয়ে কথা আর না বাড়াই। শুধু একটা তথ্য দিয়ে যাই, সত্তরের দশকে জ্যাক দেরিদার ‘অফ গ্রামাটোলজি’ প্রকাশ হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহেই প্যারিস ও প্যারিসের আশেপাশে পাঁচ হাজার কপি বিক্রি হয়েছিল। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার এটা কোন হ্যারি পটার সুলভ ফিকশন নয় এটা গত ৫০ বছরের মধ্যে দর্শনের সবচেয়ে জটিল বইয়ের একটা বই যেটা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন বাঙালী নারী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। মাত্র পাঁচ হাজার কপি এই বলে নাক উঁচু করতে পারেন অনেকে। তাদের নাক নিচু হওয়ার সংবাদ হচ্ছে এ.কে খন্দকারের বই “১৯৭১: ভেতরে বাইরে” বইটি মাত্র সাড়ে আটশ কপির মত বিক্রি হয়েছে। (সূত্র: নুরুল কবীর, সম্পাদক দ্য নিউ এজ)

 

  • যে বই নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির জাহাজ টালমাটাল এবং যে বইটিকে নিয়ে রাজনীতিক, পণ্ডিত, বোদ্ধা, আমজনতা কথা বলছে অথচ তার বাজার কাটতি মাত্র সাড়ে আটশর কাছাকাছি সেটা অবাক করার বিষয় নয় কি?

 

  • আমাদের জন্য আরও খারাপ খবর হলো ‘রোদেলা প্রকাশনী’র স্টল বন্ধ হয়ে যাওয়া। বাংলা বাজারে কতক ধর্মান্ধ চরমপন্থীরা আক্রমণ করে রোদেলা প্রকাশনীর দোকানে ভাংচুর চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত তাদের কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু ঠিকই রোদেলার উপর খরগ নামিয়ে দিয়েছে। তার উপরে একুশে বইমেলাতে স্টল বন্ধ করে দেয়ার মত নেক্কারজনক কাজ করা হয়েছে।

 

  • আমাদের বন্ধু দেশ জাপানের দিকে তাকিয়ে আমাদের মন ভরে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এমন ধাক্কা খেয়ে কিভাবে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে দাড়াতে পেরেছে জাপান? এটা যেমন প্রশ্নের উদ্রেক করে তেমনি অনেক উত্তরও অনেকে দেন। যেটা অনেকেই দেন না সেটা দেই। জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা  ‘আশাহি শিব্বুন’ প্রায় তের কোটি কপির মত বিক্রি হয়। একজন সাধারণ স্তরের পত্রিকা পাঠক চার পাঁচটা পত্রিকা রাখেন এবং পড়েন। এবার পত্রিকা পাঠকরা একটু খুশি হতে পারেন। সাথে আরেকটা তথ্য জেনে রাখুন এদের বেস্ট সেলার বই কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। হারুকি মুরাকামি১৯৮৭ সালে প্রকাশিত বাস্তববাদী উপন্যাস ‘নরওয়েজিয়ান ওড’ এর মাধ্যমে সাহিত্য জগতে এক মেগাস্টার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বইটি শধু জাপানেই ২০ লাখ  কপি বিক্রি হয়। তার মানে টোকিওয়ের প্রত্যেক ঘরে একটি করে কপি পৌঁছে গিয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি তার যুগের সবচেয়ে বেশি পঠিত জাপানি লেখক।

 

  • হ্যারি পটারের জে.কে রলিংস এর কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তার বইগুলো কয়েকমিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। বিভিন্ন পপুলার ফিকশনের সাথে সাথে অন্যান্য বিভাগের বইও বিক্রি হয়দেদারছে। সেখানে ইতিহাস, রাজনীতি, দর্শন, গণিত, বিজ্ঞান সহ সব ধরণের বই থাকবে যেগুলো‘বেস্ট সেলার’ হচ্ছে। বাংলার পাঠকদের কাছে এখনো জনপ্রিয় বই বলতে ‘উপন্যাস’, ফিকশন বাসায়েন্স ফিকশন তাও সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইগুলো কয়েক হাজারের বেশি নয়।

 

 

ডিগ্রি শেষ তো পড়া শেষ!

 

আমরা এক ভয়ানক সময়ে বসবাস করছি। এখানে পড়ালেখার মূল লক্ষ্য ডিগ্রি লাভ এবং ডিগ্রি লাভ করে চাকুরীর চিরিয়াখানায় নিজেকে গৃহপালিত পশু হিসেবে উপস্থাপন করা। এ যেন জীব সত্তাকে বাচিয়ে রাখারই ছলাকলা। মানবসত্তা যে আছে সেটা আমরা ভুলে যাই। আমাদের দেশে ডিগ্রির সংখ্যা বাড়ছে, জিপিএ ফাইভের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু শিক্ষিত লোকের সংখ্যা কি বাড়ছে?

ডিগ্রি অর্জনই কিন্তু শিক্ষিত লোকের সার্টিফিকেট নয়, এটা হচ্ছে কাজ করার সার্টিফিকেট।

কিন্তু আমাদের এই বিশাল সংখ্যক ডিগ্রিধারী ডিগ্রি অর্জন করার পর পড়া থেকে দূরে সড়ে যান। মনে করেন একটা চাকুরী পাওয়ার মাধ্যমে জীবনের মুখ্য অর্জন হয়ে গেছে তাহলে আর বলার কি আছে?

বলা হয় আমাদের দেশের এত বিশাল সংখ্যক গ্রাজুয়েটরা যদি বই কিনে পড়তো তাহলে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যেতো। অনেক ভালো ভালো লেখক, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, চিন্তক বের হবে। নীলক্ষেতে বই বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। কি বই? সব চাকুরীর বই, বাজারে নিজেকে উপস্থাপন করার ছলাকলা। এটা কোন খারাপ কাজ নয়। কিন্তু সবাইকেই এ দৌড়ে নামতে হবে? আচ্ছা সবাই কি দৌড়ে জিততে পারে, না অনেকেই হারিয়ে যায়? অথচ বৈচিত্র্যের ক্যারিয়ার নিলে কি ক্ষতি হতো?

নীলক্ষেত মোড়ের কোণার দিকে আমার এক মিতা ইব্রাহিম সৃজনশীল বই বিক্রি করতো। বিশ্বের চলমান ক্লাসিক বইগুলোর নীলক্ষেত ভার্সান বিক্রি করতো একেবারে পানির দামে। তার কাছ থেকে সব বই পেতাম, কিন্তু গত একবছর ধরে দেখলাম ইব্রাহিমও চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন সে সব ইউটিলিটিরিয়ান বই বিক্রি করছে। আমাদের বই সংগ্রহের আরেকটা সোর্স হারালাম।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বইমেলাতে আদর্শ স্টলে একটা মেয়েকে খেয়াল করলাম। সে আদর্শ স্টল থেকে গণিতের দুইটা বই কিনলো। ঠিক এই সময়ে একটি বেসরকারী চ্যানেলের এক রিপোর্টার লাইভ দিচ্ছিল, সে সরাসরি ওই মেয়ের সামনে বুম তুলে ধরলো। জিজ্ঞেস করলো কোন ধরণের বই খুঁজছেন? সে ফস করে বলে বসলো, আমি আনিসুল হক টাইপের বই খুঁজছি, মানে উপন্যাস টাইপের বই তার পছন্দ। আমি বেশ ভালো করে খেয়াল করলাম তার হাতে রাখা সবগুলো বই-ই চাকুরীর বাজারে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য; গণিত, ইংরেজি…ইত্যকার বই।

 

মেলাতে বই কিনছেন কারা?

মেলাতে বইয়ের সবচেয়ে বড় ক্রেতা কিন্তু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রয়েছেআরেকটা শ্রেণী। আনুষ্ঠানিক পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবনে আছেন বিভিন্ন কাজ করছেন তাদের মধ্যেএকটা জিনিস লক্ষ্যণীয়। তারা আর পড়াশুনার সাথে যুক্ত থাকেন না। থাকলেও খুব কম। পড়াশুনা যা হয়তা কেবল চাকুরীর প্রমোশন বা নতুন চাকুরীতে প্রস্তুতির জন্য। ঢাকায় একটা বিশাল মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব হয়েছে যেসব পরিবারের নারী সদস্যরা যাদের অনেকেই কোন চাকুরী করেন নাযাদের হাতে অফুরন্ত সময় থাকে তারা কেউ শখে বই কেনেননা, ফ্যাশনবসত বই পড়েন না। এক্ষেত্রে উল্লেখ করার মত বিষয় যে ইংরেজি উপন্যাস একটি ধরন আকারে এসেছে বিশাল নারী পাঠক শ্রেণীর কারণেই। ভিক্টরিয়ান এজে একটি বিশালসংখ্যক নারী পড়ার জগতে প্রবেশ করেছিল। আমাদের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা একটা কাজ নিয়মিতই করেন সেটা হলো সিরিয়াল দেখা। তাদেরমাথায় সিরিয়ালের জটিল ধাঁধাঁ বসবাস করে। তারা শখ করেও বই কেনে না, শোকেসে বই সাজিয়ে রাখাররুচিও খুব কম নারীর। সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভারি বোঝার সামিল। এজন্য এটা ড্রয়িং রুম বা শোকেসথেকে যত দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হালহাকিকত

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হালহাকিকত বলি। ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে সংগ্রহের দিকথেকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় লাইব্রেরির একটি বলে অনেকেই বেশ গর্ব অনুভব করেন। হ্যা, সাড়েসাত লাখ বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি। কিন্তু ভেতরের চিত্র কি? লাইব্রেরিতে পড়ারঅবস্থা কেমন, কি পড়ছে ছাত্ররা বা শিক্ষকদেরই পাঠের খবর কি? (৮৪৫৮, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরঅবস্থান)

লাইব্রেরির যে এই বিশাল রিসোর্স তা প্রতিদিন সঠিক ব্যবহার করে তার সংখ্যা ২০ জনের বেশি হবে না বিষয়ে জোর দিয়ে বলা যায়। লাইব্রেরির রিসোর্স বলতে লাইব্রেরির বইপত্র পড়াকে বুঝাচ্ছি। লাইব্রেরিরবই ইস্যু করা পাঠকের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কম। এটা কোনদিন ২০ জন অতিক্রম করে এটাআত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারছি না। অথচ লাইব্রেরিতে প্রতিদিন  কমবেশি   হাজার ছাত্রছাত্রী আসাযাওয়া করে। লাইব্রেরির বইয়ে শিক্ষকগবেষকদের ইস্যু করার হারও অনেক কম। অনেক বইয়ে সর্বশেষ২০৩০ বছর আগে কোন শিক্ষকের ইস্যু তারিখ লেখা থাকে। বইয়ের পেছনে ইস্যু কার্ড দেখে একটাজিনিস লক্ষ্য করা গেছে এই নতুন শতাব্দী অর্থাৎ ২০০০ সালের পর বইয়ের মধ্যে ইস্যু তারিখআশংকাজনকভাবে কমে গেছে। মোটাদাগে যে কথাটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো লাইব্রেরিতে বই পড়ার হারবা লাইব্রেরির বই ধার করে পড়ার হার অনেক কমে গেছে

আজ থেকে ৬/৭ বছর আগেও বাহিরের বই (আসলে ডিপার্টমেন্টের টেক্সট) বই নিয়ে ভেতরে ঢুকতে গিয়ে কমপক্ষে তিনবার আটক হয়েছি গেটে আনোয়ার ভাইয়ের কাছে। এখন বাজারের ব্যাগে করে বই নিয়ে ঢুকে আমাদের বন্ধুরা। আরও ভয়ানক দৃশ্য হচ্ছে অনেকে রাতে ঘুমানোর ট্রাউজার পড়ে পড়তে চলে আসে।

 

২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি নাই কেন?

বাংলাদেশ এমন একটি আজব দেশ এখানের লাইব্রেরিগুলো ২৪ ঘন্টা খোলা থাকেনা। এদেশের ফাইভ স্টার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, স্টেশন, মদের আখরা, জুয়ার আসর, বেশ্যালয় সারারাত খোলা থাকে। শুধু লাইব্রেরি খোলা রাখার বিষয়ে এদের কি লজ্জা! ২০০৭ সালে খুবই নেক্কারজনকভাবে পাবলিক লাইব্রেরি ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার নিয়মটি স্থগিত করা হয় বিদ্যুৎ বাঁচানোর তাগিদে। হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা সেনাবাবারা সেই যে বন্ধ করলো তারপর আর কোন গনতন্ত্রওয়ালা এসে এ নিয়মটি সংশোধন করলোনা! ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন শহরগুলোর প্রতিটি মহল্লায় প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটি বিয়েতে একদিন থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ এমনকি দুসপ্তাহেরও আলোকসজ্জা হয়! একদিন আলোকসজ্জায় যে বিদ্যুত খরচ হয় তা দিয়ে পাবলিক লাইব্রেরির মতো একটি জায়গা একমাসেরও বেশি চালানো যাবে বলে মনে করি।

খাবার হোটেল রেস্টুরেন্ট খোলা থাকলে দেশের মানুষ খেতে পারবে, শরীর ভালো থাকবে। হাসপাতাল খোলা থাকলে অসুস্থ্য মানুষ সেবা পাবে। কিন্তু লাইব্রেরি তো মনের অসুখ ও অসুস্থ্যতা সাড়ায়। এটা কি ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা উচিত নয়?

দেশের প্রত্যেকটি জেলাশহরে কমপক্ষে একটি পাবলিক লাইব্রেরি ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা উচিত। আমরা জানি চাকুরীজীবিরা দিনের বেলায় পড়তে পারেনা। আবার অনেক ছাত্রও দিনের বেলা টিউশনি ও পার্ট টাইম কাজে ব্যস্ত থাকে আবার হল বা মেসে পড়ার পরিবেশ স্বাস্থ্যকর নয়। এ অবস্থায় এক দুটি জায়গা যদি ২৪ ঘন্টা খোলা থাকতো তাহলে তাদের অনেক কল্যান হতো।

 

শিক্ষকরা কেন লাইব্রেরিতে পড়ছেন না:

মোজাফফর আহমদ চৌধুরী (ম্যাক) ও আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে কথা প্রচলিত ছিল তারা সারাদিন লাইব্রেরিতে পড়ে থাকতেন। সকালে আসতেন এবং সবার শেষে বের হতেন।

কিছুদিন আগে এক সাক্ষাতকারে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন এর জবাবে বাংলাদেশের আরেক দিকপাল অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসবে রয়ে গেলেন!

ব্যক্তিগতভাবে আমিও গত ৮/৯ বছরে আমার বিভাগের অনেক নবীন শিক্ষকদের চেয়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে লাইব্ররিতে বেশি আসতে দেখেছি। সত্যি কথা বলতে কি আমার বিভাগের একজনও নবীন শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে কোনদিন লাইব্রেরিতে আসতে দেখিনি! আমাদের লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় ইংরেজি সাহিত্যের প্রায় ২০ টির মত তাক আছে। এর প্রত্যেকটি তাক থেকে এক বা একাধিক বই আমার সম্পূর্ণ বা অসম্পূর্ণভাবে পড়া আছে। আর প্রত্যেকটি তাক থেকেই ডজনখানেকের উপর বই হাতে নিয়ে দেখেছি এবং এর পেছনে ইস্যু করার তারিখ দেখেছি, কারা করেছিল তা বুঝার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে বেশি বইয়ে ইস্যু করা ব্যক্তি মনে হয়েছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে। তারপর ড. ফখরুল আলম, খোন্দকার আশরাফ হোসেন। তারপরে আছেন গোলাম গাউস আল কাদরী। এর পর মনে হয় আমার নাম দিতে হবে! হা হা হা!

কয়েকদিন আগে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন জানান মাত্র ২২৩ জন শিক্ষকের নামে নাকি লাইব্রেরি কার্ড ইস্যু করা আছে! অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী, অস্থায়ী, ছুটিতে আছেন এমন সব মিলিয়ে ৬ হাজারের মত শিক্ষক আছেন!

শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে পড়ছেন না, কারণ তাদের বাসায় অনেক বই আছে। এর পেছনে আরও  অনেককারণ বলা যেতে পারে। যেমন এখন প্রায় সব বই-ই তো ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ঠিক আছে মানলাম,এখন সেই বই পাঠের ফলে যে জ্ঞান উৎপাদনের বিষয়টি নজরে আসতো তার কি হাল হাকিকত?প্রতিবছর কয়টি পিএইচডি গবেষণা হয়, গবেষণাপত্র বের হয়? কয়টি জার্নাল নিয়মিত বের হচ্ছে?কাদের লেখা নিয়মিত জার্নালে বের হচ্ছে? এক্ষেত্রে কি কোন আশাব্যঞ্জক চিত্র কারো নজরে পরে?আমিও আপনাদের মত আশাবাদি হতে চাই! কিন্তু হতাশার চিত্রই দেখবেন এটা বলা যায় বেশ জোরদিয়েই। তাহলে বিভিন্ন বিকল্প উৎস ব্যবহার করে দেশে আহামরি জ্ঞানচর্চা হয়ে যাচ্ছে এটা বলা যাবে না

ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরির এই চিত্র নিয়ে আমার অত্যন্ত জোর দাবির পেছনে শক্ত কারণআছে বৈকি। গত আটবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকার সুবাদে অনেক কিছু দেখার সুযোগ হয়েছেমনে করি। প্রায় প্রথম বর্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে লাইব্রেরিতে আসা যাওয়া করি।আর গত চারবছরে লাইব্রেরির সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি বলে একটু সাহস নিয়ে বলতে পারি। আমিএটাও বেশ সাহসের সাথে বলতে পারি, গত চার বছরে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি থেকে সবচেয়ে বেশি সুযোগসুবিধা পেয়েছে এমন কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর তালিকায় আমাকে রাখতে পারি। জ্ঞান কতটুকু অর্জনকরেছি সেটা ভিন্ন কথা।

লাইব্রেরির প্রত্যেকটি কর্নারে পড়ার সৌভাগ্য বা সুযোগ গ্রহণ করেছি। লাইব্রেরির কোথায় কি আছে এটাদেখে বেড়ানোও অনেক বড় অভিজ্ঞতা বলে মনে করছি। কতটা বই পড়েছি সেটা নাহয় নাই বললাম কিন্তুকমপক্ষে পাঁচ হাজার বই হাতে নিয়ে দেখেছি এটা বেশ সাহসের সাথেই বলতে পারি। বইয়ের পেছনে ইস্যুকরার তারিখ থাকে এবং কারা ইস্যু করেছেন, কখন করেছেন সেটার বিত্তান্ত থাকে। বই হাতে নিয়ে এটাদেখা ছিল আমার প্রাথমিক কাজের একটি। এজন্য বই ইস্যু বিষয়ে উপরের মন্তব্যগুলো করার অধিকাররাখি বলে একটু দু:সাহস দেখিয়েছি।

 

লাইব্রেরিতে পড়ি, একসাথে পড়ি

লাইব্রেরিতে অনেকে একসাথে পড়েন। পড়ার পর লেনদেন করা যায়। এতে চিন্তার সক্ষমতা বাড়ে। একা একা পড়লে অনেক সময় আত্ম অহমিকায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং নিজেকে জগতের সবচেয়ে জ্ঞানী লোক ভাবার যথেষ্ঠ কারণ থাকে। অনেকের সাথে পড়লে দেখা যায় আমার মত, আপনার মত অনেক জ্ঞানী গুণী লোক আছে বা থাকতে পারে বা আমার চেয়েও সমঝদার লোক থাকতে পারে। বই পড়ার পর কোন ব্যক্তির যে বুঝাপড়া ডেভলপ করে তা অনেক সময় একপেশে হতে পারে, কারো সাথে সেটা শেয়ার না করলে ‘হামছে বড়া কোন হ্যা’ মনোভাব চলে আসে যেটা পড়ার একটা স্বাভাবিক প্বার্শ প্রতিক্রিয়া। এখন এটা যদি আরেকজন পাঠকের সাথে শেয়ার করা যায়, তার মতের সাথে পরিচিত হওয়া যায় তাহলে স্বাস্থ্যকর লেনদেন হতে পারে, এর মাধ্যমে নিজের বুঝাবুঝি শক্ত করা যেতে পারে।

‘Reading make a full man; conference a ready man; and writing an exact man.’

একা একা পড়লে কনফারেন্স করার সুযোগ হয়না।

Example of Exceptional Reader:Karl Marx, Mao Tse Tung, Nirad Choudhury, MAC, Abdur Razzak.

 

মার্ক্সের পড়াশুনা প্রসঙ্গ

মার্ক্স তার তরুণ বয়সে ভন ওয়েস্টফেলেন এর ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলেন। ই ভদ্রলোক ৬টার মত ভাষা জানতেন এবং ক্লাসিকের উপর পণ্ডিত ছিলেন। তার সহবতে এসে বিশাল এক জগতের সাথে পরিচিত হতে পেরেছিলেন কার্ল মার্ক্স। মি. ওয়েস্টেফেলেনের লাইব্রেরি থেকে বই ধার করতে করতে একদিন তার মেয়েকেও নিয়ে নেন! বলছি জেন ভন ওয়েস্টফেলেনের কথা। মার্ক্স যখন জেনকে প্রপোজ করেন তখন মার্ক্সের বয়স ছিল ১৭ এবং জেনের ২৪!

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমকাহিনীর তালিকায় সেরা দশে আমার পক্ষ থেকে একটির প্রস্তাব দিতে বলা হলে আমি এটাকেই রাখবো।

মার্ক্স তার দীর্ঘ নির্বাসনের বছরগুলোতে লন্ডন মিউজিয়াম লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করতেন। তিনি সকালেই চলে যেতেন এবং লাইব্রেরি বন্ধ হলেই আসতেন। দাস ক্যাপিটালের প্রায় সব রসদ তখনই যোগার করেছিলেন।

মার্ক্সের ব্যক্তিগত পড়ার জায়গাটিও নজরে পড়ার মত ছিল। বা বাসায় কোন আসবাবপত্র বলতে কেবল বইপত্রই ছিল। এবং বইপত্রগুলো আপাত:দৃষ্টিতে এলামেলো করে রাখা থাকতো বা সেটাই ছিল মার্ক্সের সাজানোর পদ্ধতি। মার্ক্স যেভাবে বইপত্র সাজিয়ে রাখতেন এর হেরফের করতে দিতেন না। কাউকে ঘুছাতেও দিতেন না আবার অগোছালো করার কোন প্রশ্নই আসেনা! বইপত্র, কাগজপত্র তিনি এমনভাবে রাখতেন যেন তিনি হাত দিলেই সঠিক জিনিস হাতে নিতে পারতেন।

‘Marx never allowed anybody to put his books or papers in order or rather in disorder. The disorder in which they lay was only apparent, everything was really in its intended place so that it was easy for him to lay his hand on the book or notebook he needed… He and his study were one: the books and papers in it were as much under his control as his own limbs. Marx had no use for formal symmetry in the arrangement of his books: volumes of different sizes and pamphlets stood next to one another. He arranged them according to their contents, not their size.

Books are tools for his mind, not articles of luxury. He paid no heed to size or binding, quality of paper or type; he would turn down the corners of the pages, make pencil marks in the margin and underline whole lines. He never wrote on books, but sometimes he could not refrain from an exclamation or question mark when the author went too far. His system of underlining made it easy for him to find any passage in any book. He had a habit of going through the notebooks and reading the underlined passages underlined in the books after intervals of many years in order to keep them fresh in his memory.

He had an extraordinarily reliable memory which he had cultivated from his youth according to Hegel’s advice by learning by heart verse in a foreign language he did not know.’

Page no: (262-263)‘The Life and Teaching of Karl Marx’ by John Lewis

Central Library, DU. Call number: 923.343LEL

 

মাও সে তুং ও তার তরুণ বয়সে দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করে কাটিয়েছেন।

 

ম্যাপিং দ্য সেন্ট্রাল লাইব্রেরি

Reference Section:

পূর্বপাশের ডান তাক: এনসাইক্লোপেডিয়া অব ফিলসফি, এনসাইক্লোপেডিয়া অব রিলিজিয়ন।

দক্ষিণপাশের ডান তাক-

Great Book Series: Swift, Newton, Pascal, Montesquieu-Rousseau, Cervantes, Thomas Aquinas, Galone, Augustine, Bacon, Adam Smith.

Plato কে চোরে নিয়ে গেছে হায় হায়! সাথে সক্রেটিসকেও!

ডারউইন ও আর নেই!

আরেকটু ভেতরে গেলে জার্নাল সেকশন পাবেন। উপরের দিকে উঠলে ম্যাগাজিন সেকশন পাবেন।

এটা গেল গেল গ্রাউন্ড ফ্লোরের ডানদিকের কথা। বামদিকে কি রত্ন আছে?

প্রথমেই পাবেন মুক্তিযুদ্ধ সেকশন, তারপর এমফিল গবেষকদের পড়ার জায়গা। ভেতরের দিকে ড. আফতাব আহমেদ ও সিরাজুর রহমানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের সন্ধান পাবেন।

ফার্স্ট ফ্লোর বা প্রথমতলায় কি পাবেন?

ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, জীবনী, আত্মজীবনী, বাংলাদেশ, আইন…

সেকেন্ড ফ্লোর বা শেষ তলায়-

ডানদিকে-ইংরেজি সাহিত্য, আমেরিকান সাহিত্য, রাশিয়ান, জাপানিজ, ইনডিয়ান, ফার্সি ও আরবী সাহিত্য..

মাঝের দিকে-

চিরায়ত ইনডিয়ান ক্লাসিক, বাংলা প্রবন্ধ, নাটক, কবিতা, উপন্যাস।

পশ্চিম তাকে…দর্শন, সাইকোলজি, ভাষাবিজ্ঞান, রিলিজিয়ন

পাবলিক লাইব্রেরি:

প্রথম তলায়, ইংরেজি সাহিত্য, দর্শন, বাংলা সাহিত্য, ধর্ম ইত্যাদি।

দ্বিতীয় তলায় কি আছে..পত্রিকা, আর? সায়েন্স, মনোবিজ্ঞান এর বইও আছে।

 

মন বসেনা পড়ার টেবিলে

 

মহাপবিত্র গীতায় কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,

‘O Kesava, it is easier to control the wind than to try and control the fickle, unsettling, dominant, and stubborn mind’.

মন বসানো অনেক বড় চ্যালেঞ্জ এবং মনকে অনেক দুধকলা খাইয়ে বস বানাতে হয়।

পড়ায় মন না থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে ভালো না লাগা সত্ত্বেও একটা বই নিয়ে বসে থাকা বা অপছন্দের বিষয় নিয়ে ঘ্যানর ঘ্যানর করা।

অনেকে সারাদিন একটি বিরক্তিকর বই নিয়ে পড়ে থাকে। এটা ভালো লাগলেও নিয়ে বসে থাকে। মন পাগলা বড় বিদ্রোহী, একে বস মানাতে হলে অনেক দক্ষ ঘোরসওয়ার হতে হয় এবং চাবুকের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, পথ দেখাতে হয় তা না হলে সেটা এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করে গর্তে পরে যাবে!

এক্ষেত্রে আমার সফল পদ্ধতিটা হচ্ছে টেবিলে বিভিন্ন ধরনের খাবার রাখা। যখন যেটা ভালো লাগে সেটা ক্লান্ত বা বিরক্ত হওয়ার আগ পরযন্ত পড়ে যাওয়া।

 

এবার বুঝলাম লাইব্রেরিতে পড়তে হবে। কিন্তু কিভাবে পড়তে হবে?

লাইব্রেরিতে পড়ার গুরুত্ব নিয়ে যে জীবনে একদিনও যায়নি সে ঘন্টা খানেকের লেকচার দিতে পারবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু কেমনে পড়তে হয়, কেমনে সবচেয়ে বেশি সুযোগ নেয়া যায় এবং বইয়ের হদিস কিভাবে পাওয়া যায় এটা জানতে সময় লাগবে, কষ্ট সাধনা করতে হবে।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি লাইব্রেরি থেকে কিভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হয়।

ঢাকা শহরে আমার নয়বছর পূর্তি হবে আগামী ২৩ মার্চ। এর মধ্যে অনেক তেতো, অম্ল-মধুর, অপমানজনক, সম্মানজনক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। বিভিন্ন কাজ করে, বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশে সময় কেটেছে। তবে ঘুমের সময় বাদ দিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় কোথায় কাটিয়েছি তার নাম যদি বলতে বলেন তাহলে বলবো লাইব্রেরি। এবং আমি মনে করি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম, মহত্তম সময়গুলো লাইব্রেরিতে কাটিয়েছি।

লাইব্রেরিতে সময় কাটিয়ে আমি কি শিখেছি?

কিছুই শিখিনি আবার অনেক কিছুই শিখেছি, জীবনের গতি পেয়েছি। একটি অনুসন্ধিৎসু মন পেয়েছি।

কোথায় কি বই আছে তার একটু হদিস পাইছি। এখন সেখান থেকে মনি মুক্তার সন্ধান করবো। আসুন আমরা একসাথেই সন্ধান করি।

Related Posts

About The Author

Add Comment