পড়ুয়াদের প্রিয় বন্ধু রকমারি!

বই হচ্ছে চিন্তার সঙ্গী, নিজেকে সমৃদ্ধ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ইচ্ছে করলেই বিশ্বের সব বই পড়া সম্ভব নয় বা দরকারিও নয়।  কিন্তু কোন কোন সময় কোন এক বা একাধিক বই অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দাড়ায়। তখন ঢাকার রাস্তা সাতরে বই খোঁজা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। আবার অনেক সময় হাতের কাছের বইয়ের দোকানে প্রয়োজনীয় বইটি নাও পেতে পারি। সেই মুহূর্তে রকমারি যে কত উপকারি বন্ধু সেটা বলাই বাহুল্য!

দিনে দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বইয়ের আড়ত হয়ে দাড়িয়েছে রকমারি! প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ বইই সংগ্রহ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে রকমারিতে। এখন বই কেনার বিষয়টি দুইভাবেই সেড়ে থাকি। প্রতি মাসে একাধিকবার বইয়ের দোকানে ঢু মারা হয় বা বইয়ের দুনিয়ার আপডেট রাখার কাজটা করা হয়, মাঝে মাঝে হয়তো কোন বই কেনা হয়।  তবে ইদানীং রকমারিতে বই কেনা বেড়েছে। ডিসেম্বরে তিনবার বই কেনা হলো; দুবার হলো রকমারিতে।
যখন পকেটে কিছু অতিরিক্ত টাকা নিশপিশ করে তখন তার সদ্ব্যবহারের যে আইডিয়াটা মাথায় আসে সেটা হলো এক বা একাধিক পছন্দের বই কিনে ফেলা।

রকমারি সেটা সহজতর করে দিয়েছে। পছন্দের বই বাছাই করুন আর অর্ডার করে দিন! ব্যস। বই চলে আসে আপনার ঠিকানায়!  রকমারি যেভাবে প্যাকেট করে বই পাঠায় সেটা অসাধারণ লাগে! মনে হচ্ছে কেউ যেন উপহার পাঠালো! নিজেই নিজেকে অটোগ্রাফসহ অনেকবার বই উপহার দিয়েছি। রকমারি সেটাকে অসাধারণ করে দিয়েছে। কাঙ্খিত বই সুন্দর প্যাকেটে করে চলে আসে নিজের ঠিকানায়!

ঢাকায় খরচ নিচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা! নেওয়া যাচ্ছে যত ইচ্ছা তত বই! জ্যাম, রিকশা ভাড়া, হ্যাশল পেরিয়ে বই আনতে যাওয়া যখন কষ্টকর হয়ে দাড়ায় তখন রকমারি অসাধারণ বন্ধু! তিনদিন আগে একটি বইয়ের ব্যাপারে বেশ তৃষ্ণা লেগেছিল, আশপাশে পাবো না বলে যখন নিশ্চিত হলাম তখন এক মিনিটে রকমারিতে অর্ডার দিলাম। তিন দিনের মাথায় বই এসে হাজির।

সব সময় এমনটা হয়না অবশ্য! এ মাসের শুরুতে তিনটি বইয়ের অর্ডার দিলাম। একটি বই সংগ্রহ করে দিতে পারেনি আর বাকি দুটি বই সংগ্রহ করে দিতে প্রায় ৮-১০ দিন লেগে যায়! আমি অবশ্য তেমন কিছু মনে করেনি কারণ উপহারের জন্য অপেক্ষায় থাকার মজাটা নিলাম সেবার আর যেহেতু ক্যাশ ইন ডেলিভারিতে অর্ডার করি তাই কোন লোকসানের সম্ভাবনা নেই! আমি নিশ্চিন্তে অর্ডার করি আর রকমারি টিম সকল টেনশন নিজের কাঁধে নিয়ে নেয়!
আজকে যেমন রকমারির ডেলিভারি টিমের এক সদস্য বই নিয়ে আমার ঠিকানায় উপস্থিত আর আমি তখন আমার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের সাথে দেড় ঘন্টাব্যাপী জরুরি মিটিংয়ে।

আসলে আমাদের সব মিটিং জ্ঞানগর্ভ এক আড্ডায় পরিণত হয়; অবশ্য জ্ঞান শেয়ারের কাজটা আমার সেই প্রিয় প্রকাশকই করেন, আমি হয়তো বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়ি আর মাঝে মাঝে মতামত শেয়ার করি। আমার সেই মহাব্যস্ত প্রকাশকের সাথে দীর্ঘদিনের ব্যবধানে আড্ডার সুযোগ তৈরি হলে পুরো সময়টা সেখানে দিতে চাই। আজকে ঠিক এ সময়টাতে কয়েকবার কল হলেও কথা বলার সুযোগ হয়নি। মিটিং থেকে বের হয়ে যখন কল দিলাম তখন জানলাম রকমারি টিমের সেই ডেলিভারি ম্যান ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছে। খুবই খারাপ লাগলো আবার শ্রদ্ধা লাগলো রকমারির সেই বন্ধুর প্রতি। উনাকে যথাসম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যে অপেক্ষা থেকে মুক্ত করলাম!

প্রিয় বইটি হাতে পেয়ে রকমারি টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় খুজছিলাম। এজন্য এই থ্যাংক নোটস!
গত এক দশকে যে কয়টা ভালো উদ্যোগ এসেছে তার মধ্যে রকমারি একটি। এর ফলে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে যে কেউ তার পছন্দের বা প্রয়োজনীয় বইটি কিনতে পারছে। এটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে দেশে আরো অনেক ইতিবাচক ঘটনার সূত্র হতে পারে। আমরা যদি একটি জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই তাহলে রকমারি সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একটি অন্যরকম বাংলাদেশ নির্মাণে, একটি ইতিবাচক বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ অব্যাহত রাখুক রকমারি ডট কম ও অন্যরকম গ্রুপ।
রকমারি টিমের প্রতিটি সদস্যের প্রতি ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা!

Related Posts

About The Author

Add Comment