ফেসবুক থেকে সুবিধা পেতে হলে

ফেসবুক এখন আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশটিতে ব্যবহারকারী সংখ্যা কোটিতে পৌছে গেছে। তরুণ প্রজন্ম ফেসবুক ছাড়া একদিনও কল্পনা করতে পারেনা। শিক্ষক-ছাত্র, ডাক্তার, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী সহ সব পেশার মানুষই ফেসবুককে তাদের চলার পথের সঙ্গী করে নিয়েছে। পুরনো বন্ধুদের খুজে পাওয়ার অসংখ্য উদাহরণে ভর্তি আজ ফেসবুক গল্প। প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই এক বা একাধিক এমন গল্প আছে। আজ খুব সহজ ও এবং খুব অল্প খরচেই বন্ধুদের কাছে মেসেজ পাঠানো যায় পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে। চিঠির চলকে একেবারে যাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে ফেসবুকের মেসেজিং, চ্যাটিং এবং স্কাইপেতে সরাসরি কথোপকথন। যখন তখন ছবি লোড করে পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা যাচ্ছে নিজের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি। আর নিজের মতামত প্রকাশ করার জন্য স্ট্যাটাস দেয়া এবং কমেন্ট করার ব্যবস্থা তো আছেই। অনলাইনে গেমস খেলাসহ আরও কত লোভনীয় জিনিসের পসরা নিয়ে বসে আছে ফেসবুক। এত সুযোগ-সুবিধার ভীরে হাবুডুবু খেতে হয় একজন সাধারণ ব্যবহারকারীকে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের পথ হারিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে অফুরন্ত। অপার কৌতুহলী এই তরুণ প্রজন্ম হারিয়ে যেতে পারে ফেসবুকের রঙিল গোলকধাধায়। ফেসবুকের মাধ্যমে সময় পার করে দেয়ার বা সময় অপচয় করার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। এবং ইতিমধ্যেই ফেসবুক অনেকের ক্ষেত্রে আসক্তির নামান্তর। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে ফাকি দিয়ে ফেসবুকে চ্যাটিং আর বড়দের অফিসের কাজে ফাকি দিয়ে ফেসবুকে মজে থাকা এটা তো এখন অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। ফেসবুকের বিরম্ভনায় পড়েনি এমন লোক দুর্লভ। কারো ছবি ফটোশপে পরিবর্তন করে, কিংবা কারো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে দিয়ে অনেকের ব্যক্তিগত জীবন বিষিয়ে দেয়ার নজির অহরহ। আবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস, কমেন্ট বা ফটোকে কেন্দ্র করে অনেকের বিয়ে ভেঙে গেছে এমন খবরও পাওয়া যায়। ফেসবুকে নিজের চাকুরী, অফিস বা বসকে গালি দিয়ে চাকুরী হারিয়েছেন এমন উদাহরণও দুর্লভ নয়!

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট, কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কর্মঘন্টা নষ্ট সহ আরও অসংখ্য খারাপ ফলাফল রয়েছে ফেসবুকের এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তারপরও আমরা কিন্তু এর সঠিক ব্যবহারের চেষ্টা করে প্রযুক্তির অন্যান্য সেবার মত বেশ উপকৃত হতে পারি। এমন কয়েকটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি:

আপনি যাদের থেকে কিছু শিখতে পারেন, নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন তাদের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারেন

ফেসবুক এখন খুব সহজেই আমাদেরকে আমাদের শিক্ষক, পণ্ডিত ও বিশিষ্টজনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখার সেতু হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আমরা যদি তাদের লেখাপত্র পড়ি, তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অবগত থাকি তাহলে আমাদের লাভ সুনিশ্চিত।  তাছাড়া প্রিয় শিক্ষকের কাছ থেকে কোন জটিল বিষয়ে সরল সমাধান পাওয়ার সুযোগ তো রয়ে গেছেই!

ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুদের সংখ্যা বাড়ানো

বন্ধুত্বের আকুতি মানুষের চিরন্তন প্রবণতা। এ আকুতি পূরণের সবচেয়ে ভালো ও সবচেয়ে আধুনিক মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকে খুব সহজেই বন্ধু হয়ে যায়। টেকনিক্যালি বলতে গেলে শুধু ‘এড ফ্রেন্ড’ অপশনে একটা ক্লিক করলেই আপনি কাউকে যুক্ত করে ফেলতে পারেন। অবশ্য অপরপ্রান্ত থেকে অনুমোদনের (অ্যাকসেপ্ট/কনফার্ম) ব্যাপারও রয়েছে। সেজন্য খুব তাড়াতাড়িই কারো সাথে বন্ধুত্ব পাতানো যায়। আগে বন্ধুত্ব পাতানো ও টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে দূরত্ব একটা বড় প্রতিবন্ধক ছিলো। কিন্তু এখন যত দূরেই থাকি বন্ধুদের কাছে থাকতে পারি। তাই বন্ধু বাড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুকের এই সুযোগটা লাভজনকই বটে। এখন ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগের সূত্রে প্রেম, বিয়ে খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। তবে তাড়াতাড়ি গজিয়ে উঠা বন্ধুত্বের একটা নেতিবাচক দিক হলো খুব শীঘ্রই এটা ভেঙে যেতে পারে!

আর ক্যারিয়ারে বিশেষ সুবিধা পাওয়া কিংবা এগিয়ে থাকার জন্যও রয়েছে ফেসবুক

এখন ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক সৌখিন ফটোগ্রাফারই  পেশাদার ফটোগ্রাফার হিসেবে ভালো ক্যারিয়ার গড়ছে। কেউ কেউ মেহেদী ডিজাইন, বিউটি টিপস এসব বিলি করেও তাদের ক্যারিয়ার বানাতে পারছে। এটা লেখকদেরকে তাদের লেখালেখিতে নাম, সাংবাদিকদেরকে তাদের সাংবাদিকতায় নাম করার সুযোগ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। মার্কেটিং, বিজ্ঞাপন এই সব বিভাগে এক বিপ্লবের নাম ফেসবুক। পেজ বানিয়ে নিজ পণ্য, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোগকে প্রচার করার এত সহজ মাধ্যম মানুষ এর আগে কখনো পায়নি।

লেখালেখিতে হাত পাকানো

এখন যোগ্যতা থাকলে যে কেউ ঘরে বসেই লেখক হয়ে যেতে পারেন। আগেকার দিনের মত পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে লেখা পাঠিয়ে মাসের পর মাস অপেক্ষার দিন ফুরিয়ে এসেছে। লেখা নিয়ে প্রকাশকদের কাছে ঘুরঘুর করার দিনও আর নেই। এখন আপনিই তার লেখক এবং আপনিই তার প্রকাশক। যখন খুশি তখনই প্রকাশ করতে পারেন যা ইচ্ছে তাই। এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে বন্ধুদের মাঝে স্টার হয়ে যাওয়া তো এখন ডালভাতের মত ব্যাপার। তাছাড়া যারা লেখক হতে চাননা তারাও এ মাধ্যমটি ব্যবহার করতে পারেন। কারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় লেখালেখি এখনো ভীতিকর বস্তু, আর চাকুরীতে বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন, নোটস লেখার মতো ব্যাপারাদি তো আছেই। লেখক হতে না চাইলেও এখানে খসরা লিখে হাত পাকাতে পারেন পরীক্ষায় ভালো করার জন্য, পেশায় এগিয়ে থাকার জন্য।

ফেসবুক আমাদের কি কি উপকারে আসতে পারে এটা নিয়ে ভেবে আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজেদের তালিকা বানাতে পারি। ফেসবুক একেকজনের কাছে একেক অর্থ নিয়ে হাজির হয় এবং প্রত্যেকেই তার নিজস্ব উদ্দেশ্যে ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। এজন্য আপনারা আমার ফর্মূলা মানতে প্রস্তুত থাকবেন কেন? আপনাদের নিজেরই তো আলাদা আলাদা ফর্মূলা, কারণ ও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এখন আপনি কোন উদ্দেশ্য নিয়েও ব্যবহার করতে পারেন আবার উদ্দেশ্যহীনভাবে ব্যবহার করে হারিয়ে যেতে পারেন ফেসবুকের গোলকধাধায়!

 

সাবিদিন ইব্রাহিম

[email protected]

Related Posts

About The Author

Add Comment