বই রিভিউ: ওদের জানিয়ে দাও

#বই রিভিউ

বইয়ের নামঃ ওদের জানিয়ে দাও

লেখকের নামঃ শাহারিয়ার কবির

ঘরানার: রাজনৈতিক উপন্যাস

রিভিউকারীঃ অরণ্য আরিফ

রেটিং: ৯/১০

১৮৬৫ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ প্রকাশিত হওয়ার পর ১৫০ বছর পার হয়ে গেছে এই সময়ে অনেক উপন্যাস আমরা পেয়েছি কিন্তু সেই অর্থে ক্লাসিক উপন্যাসের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। এই দীর্ঘসময়ে অনেক ঘরনার উপন্যাস পেলেও রাজনৈতিক উপন্যাস নেই বললেই চলে। কিন্তু ব্যক্তির চিন্তার জগৎ কে নারিয়ে দিতে রাজনৈতিক উপন্যাসের বিকল্প নেই। যেমন রুশ বিপ্লবের পাটাতন সে দেশের সাহিত্যিক রা নির্মান করে দিয়েছেন মা, ওয়ার এন্ড পিস সহ অসামান্য কিছু সাহিত্য কর্মের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রচিত যে গুটিকয়েক রাজনৈতিক উপন্যাস আমরা পাই তার মধ্যে ‘ওদের জানিয়ে দাও’ অন্যতম।

ষাটের দশকের শেষের দিকে উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গের চারু মজুমদার যে বিপ্লবী ধারার সূচনা করেন তা এই উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের স্থবির জলাশয়ে প্রচন্ড আলোড়নের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশেও এই ঢেউ এসে পড়ে। ‘শ্রেণিশত্রু খতম করাই কমিউনিস্ট হওয়ার একমাত্র মাপকাঠি’। বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টিগুলোর সেই ডাকে হাজার হাজার যুবক শুধু বিশ্বাসের উপর দাড়িয়ে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। নকশাল বাড়ি আন্দোলন এতটাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে তখনকার ‘তোমার বাড়ি আমার বাড়ি, নকশাল বাড়ি নকশাল বাড়ি’ অনেকটা জাতীয় স্লোগানে রুপান্তরিত হয়েছিল। বাংলাদেশের বাম রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ন অথচ প্রায় অনালোচিত বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে ‘ওদের জানিয়ে দাও’।

সময়কাল ১৯৭৪। অস্থির এক সময়। দুর্ভিক্ষ তখন দেশের পথে-ঘাটে। রাজু, জাফর আর দীপু। এই তিনজনের উপর দায়িত্ব পড়েছে শ্রেণিশক্র খতমের। সাহেবালী একজন জোতদার, তাকে খতম করতে হবে। দীপুর প্রথম খতম। জাফরের অভিজ্ঞতা ৩শর বেশি খতমের। রাজু ওদের বড় নেতা। তিনজনই বেড়িয়ে যায় খতমের উদ্দেশ্যে। তারপরেই বসে দলের গোপন বৈঠক। বিষয়: রাজু আর জাফররা খতম লাইন মানতে চাচ্ছেন না। তারা ভাবতে শুরু করছে যে এতে বিপ্লব হবে না। যে কৃষকের জন্য খতম, সেই কৃষক কিন্তু সচেতন না। ফলে আগে ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এই নিয়ে দলে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। রফিক দলের মূল নেতা। গোপন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হলে হঠকারী যারা তাদের সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। পার্টির মধ্যে আপোষের বীজ রাখলে পার্টিরই ক্ষতি। সিদ্ধান্ত হয় রাজু ও জাফরকে খতম করতে হবে। দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় কমিটির কমরেড মানু। পুরবীর মধ্যেও খতম নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে। পুরবী গিয়েছিল পাশের জেলায় সভা করতে। ফেরার কথা ছিল না, কিন্তু ফিরতে হলো। গোপনে শুনে ফেলে কেন্দ্রীয় কমিটির এই গোপন সিদ্ধান্ত। সাহেবালীকে খতম করে ফিরছিল ওরা। পথে যোগ দেয় পুরবী। ওরা পালায়। সেই পালানোটাও সহজ হয় না। পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যায় দুইবার। জঙ্গলে হেটে দীর্ঘ রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেনে উঠে ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে যায়। এভাবেই একদিন পৌছে যায় ঢাকায়। সেখান থেকে চট্টগ্রামের জেল পাড়ায়। এখানেও আছে প্রেম ভালবাসা ও দ্বন্দ্ব। পুরবী বা রাজু। কিংবা পুরবী ও জাফর। বিয়েও করতে হয় পুরবীকে। কিন্তু সময়টা গোপন রাজনীতির জন্য সহজ সময় ছিল না। সিরাজ শিকদারকে মেরে ফেলা হয়। চরমপন্থীদের ধরতে জারি হয় জরুরী অবস্থা। তার আঘাত লাগে এই চারজনের জীবনেও।

Related Posts

About The Author

Add Comment