বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম -এর অনন্য এক ইফতার সন্ধ্যা

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, যার নামের মাঝেই লুকায়িত আছে তার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি কিংবা এর আলোচনা করা, তখনই সম্ভব হবে, যখন এর মাঝে সৌহার্দ আচরণ অনুরিত হয়। এই অনুরণন সম্ভব হয় একে অপরের সাথে মিলিত হলে। উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করাই শুধু নয়, এর মাঝে নিহিত থাকে ভ্রাতৃত্ববোধ, একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলে চলা।

এখানেই বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম-এর সার্থকতা। এর পথচলা’র শুরু থেকে আজ পর্যন্ত, প্রত্যেক সদস্য নিজের শুধু সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন এমন নয়, বরং একে সফল সংগঠন করে তুলতে রাতদিন পরিশ্রমও করেছেন বটে।

গতকাল বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম এক মনোরম ইফতার সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র দ্বিতীয় তলায়। যেখানে সমান ভাবে উপস্থিতি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, গবেষক এবং তরুণ তুর্কি; যারা আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবেন।

ইফতারের পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত আমরা শ্রবণ করেছি বিভিন্ন দেশের ইফতার সংস্কৃতি, তথা বিভিন্ন দেশের রমজান মাস কেমন। শুরুটা করেছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিটি সম্পাদক শামসুল আলম বেলাল। তুরস্ক এবং কাতারে নিজের কাটানো রমজান মাস নিয়ে অতি চমৎকারভাবে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। তুরস্ক রমজান মাসে কখনো ঘুমায় না। সারা রাত জেগে থাকে। যেমনটা মিসরের কায়রো।

তারপরই আলাউদ্দীন মোহাম্মাদ এর স্মৃতিতে দিল্লী এবং কলকাতার ইফতার। প্রাকটিশিয়াম এবং কালচারাল মুসলমানদের মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, সেটা তিনি বলেননি শুধু, বরং আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন। ইফতার মানে যে শুধুই ইফতার নয়, রীতিমত এক উৎসব এবং একসাথে অনেকের ইফতার করা, এবং এর গুরুত্ব নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা উঠে এসেছিল আলাউদ্দীন মোহাম্মাদ-এর স্মৃতিতে।

ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনিরুল ইসলাম, রমজান মাসে যার খুব বেশি সময় থাকা হয়নি আলীগড়ে। আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের এক দুর্গ স্বরূপ। যেখানে মুসলমানরা নিজেদের মতো করেই সব করতে পারেন। আমরা যখন সেহরিতে ভাত, মাছ কিংবা মাংস খাচ্ছি, সেই সময়ে আলীগড়ের মুসলমানরা এক টুকরো খেজুর আর এক গ্লাস পানি খেয়ে সারাদিন না খেয়ে থাকার নিয়ত করছেন।

সাইমুম রেজা পিয়াস, যিনি বিদেশে রমজান দেখেছেন ইউরোপ এবং আমেরিকাতে। ইউরোপের মুসলমানরা সত্যিকার অর্থেই রমজানের সকল আহকামগুলো মেনে চলে। আর আমেরিকার ইফতার ইফতার গৃহভিত্তিক নয়, হয় এলাকাভিত্তিক। রমজানের শুরুতেই নির্দিষ্ট পরিমান চাঁদা দেয়া হয় একজনকে। সারাদিন কাজ করে এসে, কোন এক নির্দিষ্ট স্থানে পুরো এলাকার মুসলমানরা ওই একজনের তত্ত্বাবধানে ইফতার করেন বেশ উৎসবের সাথেই।

সাফা আল ইয়্যাদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালেস্টানিয়ান শিক্ষার্থী, প্যালেস্টাইনের পাশাপাশি মিসরের রমজান এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে খুব কম সময়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। বাংলাদেশে আমরা যখন ভাজাপোড়া খাচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে আরবে ইফতার হিসেবে খাওয়া হচ্ছে যার যার পছন্দ অনুযায়ী অথবা ঐতিহ্যবাহী কোন খাবার। রমজানে আরবরা একেবারে সেহরি পর্যন্ত জেগে থাকে, আর সারারাত জুড়ে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঘুরোঘুরি কিংবা তাদের খবর নেয়া- এগুলো হয়।

মাগরিবের আজানের সাথে সাথে ৩৫ জন সদস্যের মুখে উঠে খেজুর, কেউবা রোজা ভেঙেছেন পানি কিংবা ফ্রুটিকা দিয়ে। উৎসবের আয়োজন উৎসবের সাথেই বেশ সফলভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম।

আরও কিছু ছবি :

13479886_968968223200672_1148741367_n (1)13487567_968968106534017_1469633991_n (1)13487576_968968003200694_1535293337_n13487871_968968173200677_1462815456_n

Related Posts

About The Author

Add Comment