বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ) ও স্টাডি ক্যাম্প

“বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবা রাত্র।
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়
পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায়
শিখছি সেসব কৌতুহলে
নেই দ্বিধা লেশমাত্র”।
সুনির্মল বসু এই কবিতায় চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন পৃথিবীকে। পৃথিবীর প্রতিটা পরতে পরতে জ্ঞান লুকায়িত আছে। জ্ঞান যেমন বইয়ে লিপিবদ্ধ থাকে, তেমনি থাকে জীবনে চলার পথে প্রতিটা পদক্ষেপে। খুব কাছ থেকে না দেখলে শেখা যায়না। আর পৃথিবীকে বুঝতে হলে আপনাকে পৃথিবীর কাছেই যেতে হবে, যেটা ঘরে বসে থেকে সম্ভব নয়।
অন্য একটি কবিতায় কবি বলেছেন,
“দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু”।
আর এইসব কিছুর সমাধান তখনই হবে, যখন আমরা ঘর ছেড়ে বাইরে যাব। পৃথিবীকে খুব কাছ থেকে যখন দেখব। তারই নিমিত্তে আমাদের এই স্টাডি ক্যাম্প।
হাঁটতে হাঁটতে আপনি অনেক কিছুই শিখতে পারেন। সৃষ্টির খুব কাছে চলে যেতে হলে আপনাকে সৃষ্টির সাথে মিশতে হবে, তাদের সাথে একাত্ম হতে হবে। যেটা ঘরে বসে করা অসম্ভব। তাই আমাদের ঘর থেকে দু’পা বাইরে ফেলতে হবে। আমরা যখন ট্রেন বা বাসে চড়ি, তখন দেখি প্রকৃতি আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, প্লেন থেকে পৃথিবীকে দেখলে বুঝা যায় আসলেই পৃথিবী গোলাকার (প্রায়)। মানুষগুলোকে দেখা যায় পিঁপড়ার মত। এমন কেন হয়? এই সব চিন্তা থেকেই আবিষ্কৃত হয়েছে কালজয়ী অনেক সূত্র। এর একটা উত্তম উদাহরণ হতে পারে মহাকর্ষ সূত্র। নিউটনের আপেল সূত্র বললেও ভুল হবেনা, যেটা তিনি তাঁর গবেষণগারে নয়, প্রকৃতিতে বসেই করেছিলেন।
আল বেরুনীর কালজয়ী বই “ভারতত্ত্ব”, যেটা লিখেছিলেন ভারত সফর করার পরই। ভারতবর্ষে না আসলে উনার পক্ষে সম্ভব ছিল না এমন একটা ক্লাসিক বই লেখা, যেটা আমাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করে। আরও অনেক ঐতিহাসিক মনীষী আছেন, যারা ছিলেন ভ্রমণপিপাসু। ইবনে বতুতা, ইবনে সিনা, আরও অনেক মনীষী। চিন্তার সাথে বাস্তবতার যে ফারাক আছে, সেটা প্রকৃতির মাঝে হেঁটেই আবিষ্কার করা যায়।
এজন্য বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড হচ্ছে ‘স্টাডি ক্যাম্প’। আমরা কিছুদিন আগে (22.10.2015) গিয়েছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাডি ক্যাম্পে। এই রাজশাহীতে হেঁটে হেঁটেই শুনেছি এর সমৃদ্ধ ইতিহাস। যেমন, পদ্মা, পুঠিয়া রাজবাড়ি, রাজশাহী কলেজ ইত্যাদি’র বর্ণনামূলক ইতিহাস আমরা শ্রবণ করেছি। পৃথিবীটাই একটা উন্মুক্ত বই। এই বই পড়তে হলে আপনাকে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হবে পৃথিবীর বুকেই।
এবার আমরা যাচ্ছি দেশের একটি সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই শীতে তার সৌন্দর্যের ঢালি খুলে রাখে যেন এই অনন্য ক্যাম্পাসটি। আমরা দেখবো প্রকৃতি, পাখি, গাছ, পদ্ম, জল আর যা আছে সব! আর বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, অনুষদ, বিভাগ তার কৃতী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হওয়া, তাদের ইতিহাস এবং জাতীয় জীবনে ঐসব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে জানার চেষ্টা তো থাকবেই।
আমরা আমাদের এবারের স্টাডি ক্যাম্প করছি আগামী ১৫ নভেম্বর সকাল ৮ টায়। আশা করছি আপনাদেরকে সাথে পাব।
-রুহুল আমিন দীপু
NB : This note was published on my facebook wall on 14th November.

Related Posts

About The Author

Add Comment