বিদ্যাকৌশলঃ লেখাপড়ায় ভালো করার সহজ ফরমুলা – রাগিব হাসান

প্রথম যেদিন বিদ্যাকৌশল বইটি দেখেছিলাম তখন কেমন একটা খটকা লেগেছিলো। এ আবার কোন ধরনের নাম? কি আছে এতে? বিদ্যার আবার কৌশল কি? কিন্তু যখন বইয়ের সূচিগুলো দেখলাম এবং ভুমিকাটা পড়লাম তখন বইটি সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা তৈরী হয়ে যায়।

যখন থেকে বইয়ের মূল পড়ায় আসলাম তখন নিজের শতশত দুর্বলতা খুঁজে পেলাম। প্রতিটা পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে একটা কথাই মনে আসে- আশ্চর্য্য তো, এই কাজটাই তো আমি বেশীর ভাগ সময়ে করেছি, এইরকম করতে গিয়েই তো ভালো ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়েছি। বইটিতে প্রত্যেকটা বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে- যে পড়বে তারই মনে হবে এটা তাকে নিয়ে এবং তার জন্য লেখা হয়েছে। লেখক রাগিব হাসান একজন  মেধাবী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, ছাত্রজীবনে তার সাফল্যগাঁথা উল্লেখযোগ্য। এই বইটিতে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে খুটিয়ে খুটিয়ে বের করে এনেছেন শিক্ষার্থীদের ভালোলাগা, মন্দলাগার বিষয়গুলো, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। জানিয়েছেন অজানা অত্যন্ত কিছু তথ্য ও কৌশল যা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সকলেরই জানা উচিত।

আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে ভালো না করা এবং পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতি শিক্ষার্থীদের কট্টর বিরোধীতার কথা মাথায় রেখে লেখক ধারুন কিছু সমাধান দিয়েছেন। লেখাপড়া তথা পরীক্ষায় ভালো করার প্রথম শর্ত হচ্ছে এর কাছে আত্মসমর্পন করা। লেখক পড়ালেখার কাছে আত্মসমর্পন করার পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন- ‘মানি আর না মানি প্রচলিত পদ্ধতি মেনেই একাডেমিক লাইফে চলতে হবে, বিদ্রোহ করলে আম-ছালা দুটোই হারাবে।’ এধরনের বহু বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তি টেনে শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করার কিছু অসাধারণ উপায় বাতলে দিয়েছেন।

অনেক সময় দেখা যায় একজন শিক্ষার্থী একটা বিষয় খুব ভালো বুঝতে পারে অথচ পরীক্ষার খাতায় ঠিকঠাক লিখতে পারেনা, তাই সে কাঙ্খিত মার্কসও পায়না। এরকম বহু সমস্যার কথা তুলে ধরে- কিভাবে এই পরিস্থিতিগুলো মোকাবেলা করতে হবে তাই বলা হয়েছে বইটিতে। লেখাপড়ায় ভালো করতে মেধাবী হওয়াই মূল কথা নয়, হতে হবে পরিশ্রমী। জ্ঞান চর্চা যেহেতু গতর খাটা জাতীয় কোন পরিশ্রম না এজন্য এই সেক্টরে ভালো করার জন্য হতে হবে কৌশলী। সবার মেধা এক নয় একথা কিছুটা ঠিক। কিন্তু মেধার পার্থক্যটাও কিন্তু খুব বেশী না তাই কিছু কৌশল অবলম্বন করে পরিশ্রম করলে এই পার্থক্য দূর হয়ে যায়। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে যতপ্রকার কৌশল অর্জন করা জরুরী তার অধিকাংশই জানা যাবে বইটি পড়লে।

বইটি অলস শিক্ষার্থীদের জন্য যেমনি অপরিহার্য  তেমনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যও। মোটকথা সবধরনের শিক্ষাথীদের জন্য বইটি দরকার। তাছাড়া বইয়ের শেষ দিকে আছে অভিভাবকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা, আপনার সন্তানকে কীভাবে পড়ার ব্যাপারে সাহায্য করবেন এব্যাপারেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক কিছু কার্যকরী নির্দেশনা।

বিদ্যাকৌশল’কে যদি শুধুমাত্র একটি বই বলেন তবে ভুল করবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এটা এক মহৌষধের নাম। আর বিদ্যাকৌশল এমনই এক সম্পদ যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সংগ্রহে থাকা উচিত। কেননা কেউ যদি এই বইটির নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে পারে তবে আমি মনে করি, ভবিষ্যত প্রজন্মে মেধাবী আর পিছিয়ে পড়া এই দুইটি দল তৈরী হতে পারবে না এবং আশা করি বইটি পড়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদেরকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত করার পথ খুঁজে পাবে।

Alamin Howlader
[email protected]

Related Posts

About The Author

Add Comment