বিসিএস হুজুগ এবং আমাদের মাতাল ছাত্রসমাজ

নেতাজি সুভাস বসু ব্রিটিশ ভারতে আইসিএস পরীক্ষায় পাশ করে আমলা হওয়ার সুযোগ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছেন। তাকে আমরা মনে রাখি শ্রদ্ধা করি আমলা হওয়া বা আইসিএস পরীক্ষায় মেধার সাক্ষর রাখার জন্য নয়। এরকম ভালো ফল প্রতিবছর অনেকেই করে। কাকে কতদিন, কতবছর মনে রাখে সেটা অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ।

কলিকাত্তার ঠাকুর খান্দানে সবচেয়ে দুর্বল প্রোফাইল হিসেবেই পরিবারে গণ্য হতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘রবিটা মানুষ হলো না বলে’ এক ধরণের কষ্ট ছিলো রবির বড়দিদি স্বর্ণকুমারী দেবীর। ওদিকে বড় দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষের প্রথম আইসিএস অফিসার, মেঝদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রশিল্পী, সম্পাদক ও নাট্যকার ছিলেন। তারা বোধ করি সমকালীন সময়ে সুশান্ত পালের চেয়ে কম বড় তারকা ছিলেন না। কিন্তু আমরা যদি সময়ের কঠোর কুঠারের দিকে তাকাই তাহলে কি দেখবো? জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম মাঝে মাঝে আসে লালনের একটি স্কেচ আঁকার কারণে! সেটা না থাকলে রবির বড় দাদা হিসেবে পারিবারিক ইতিহাসে হয়তো কালেভদ্রে নাম আসতো! সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর নামটি তো আসেই না!

ব্যাপারটার মজার দিক হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের ১৪ ভাই-বোনের নাম সবগুলো তো মনেই থাকে না। আচ্ছা, মনে রাখা জরুরী কি? কিন্তু সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, জৌতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর বা বিদূষী সম্পাদিকা স্বর্ণকুমারী দেবীর নাম ও যে মাঝেমাঝে মেমরি থেকে ব্ল্যাক আউট করে! নির্মম শুনালেও কঠিন সত্য সেটা! ভাগ্যিস গুগলবাবাজি রয়েছে পাশে!

এত বড় বিখ্যাত আইসিএস অফিসার নয় বরং পুরো ঠাকুর খান্দানেরই মাথায় মুকুট পড়িয়ে দিয়েছেন সবচেয়ে দুর্বল প্রোফাইলের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সে মুকুট যে সে মুকুট নয় সেটা যে পুরো ভারতবর্ষকে সম্মানিত করা! বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে ততদিন ঠাকুর বাঁচবেন।

কোন জাতি বা রাষ্ট্রে সব পেশার লোক আবশ্যক। যাদেরকে সাধারণের দৃষ্টিতে অপাংতেয় মনে হয় তারাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সব ধরণের ফুল, ফল, বৃক্ষ, তৃণ, প্রাণী, পোকামাকড়, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীব, নদী, জল, খাল কিংবা ডাঙ্গা সবই যেমন আবশ্যক তেমনি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিবেশ রক্ষায়ও সব পেশার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে বা বিশ্বে সরকারী চাকুরী বা বিসিএস ছাড়াও আরও অসংখ্য পেশা আছে যেখানে বিসিএসের সমান বা তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায়। বাংলাদেশে হুজুগের যুগ শুরু হয়েছে। মা বাবারা ছেলে মেয়েদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার আর বিসিএস অফিসার বানাতে চায়। স্কুল কলেজে আমরা বড় হয়েছি বেশিরভাগ অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মুখ থেকে এই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আকাঙ্খার কথা শুনে শুনে। আর গত এক দশকে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েদের আকাঙ্খা শুধু সরকারী আমলা হওয়ার। বুয়েটের সম্ভাব্য মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার স্বপ্ন দেখে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হবে। মেডিকেলে পড়া সম্ভাব্য দেশসেরা চিকিৎসকটি স্বপ্ন দেখে পুলিশ হবে। হাতে মর্মান্তিক রোগ সাড়ানোর কাঁচি বহন করার স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন সশস্ত্র পুলিশ! রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার মেধাবী ছেলেগুলো সেসব বিভাগে গবেষণা না করে দৌড়ায় প্রশাসন ক্যাডারে। কৃষিবিদ হয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছেলেটি বিশ্বের খাদ্য সমস্যার সমাধানের স্বপ্ন দেখতে পারতো সে বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় কাটায় বিসিএস বিসিএস করে!

সবার আকাঙ্খা একই মুখী হলেও আসনসংখ্যা সীমিত হওয়াতে সবাই সুযোগ পায় না। কিন্তু এর প্রতি মোহমুগ্ধতা কাটে না। যারা পায় তারা মনে করে ‘মুই কি হনু রে!’ আর যারা পান না তারা মনে করেন তাদের মানব জনম ই বৃথা। এ দুটোই ভুল চিন্তা।

প্রথমত, সরকারী আমলা বা বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা মনে রাখতে হবে দেশ ও জনগণের সেবা করার জন্যই তাদেরকে বাছাই করা হয়েছে। তারা জনগণের প্রভু নয়, সেবক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে সরকারী কর্মকর্তারা জনগণের সেবায় আত্ম নিয়োগ করেন আপনাদেরও সেটা করা দরকার। ব্রিটিশ শাসনকালের মডেল অনুসারে পরিচালিত পাকিস্তানী আমলাতন্ত্রের উত্তরসুরী বাংলাদেশী আমলাতন্ত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জনগণের প্রভুর মতো আচরণ করেন। সেটা এখনো চলে আসছে। বিসিএস কর্মকর্তা হলে কিছু ক্ষমতা আসে। সে ক্ষমতা ও নিশ্চিত চাকুরীর মোহে অনেকেই এদিকে যায়। এটা আমাদের প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি। মনে রাখতে হবে এ ক্ষমতা জনগণের সেবায় এবং জনস্বার্থেই ব্যবহার করতে হবে নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছা আকাঙ্খা বাস্তবায়নের জন্য নয়। আর দুর্বল আমলাদেরকে আজীবন চাকুরীতে না রেখে ছাটাই করে ফেলতে হবে। সব সভ্য দেশে চাকুরীতেই আপনার যোগ্যতা না থাকলে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা প্রদর্শন করলে, দুর্নীতি করলে, রাষ্ট্রবিরোধি কাজ করলে তার পদচ্যুতি বা শাস্তি হয়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় একবার হলে তো আর বয়স শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চাকুরী নিরাপদ। রাজনৈতিক কারণে শাস্তি (ওএসডি করা) ছাড়া আমলাদের তেমন কোন চ্যালেঞ্জ নেই চাকুরীতে বা চাকুরী হারানোর ভয় নেই। এই নিরাপত্তার মোহেই সবাই দৌড়ায় বিসিএস এর দিকে। কিছু ব্যতিক্রম তো রয়েছে অবশ্যই যারা সত্যিকার পেশাদারী মনোভাব নিয়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগে অবদান রাখার আকাঙ্খার কারণে বিসিএস দেন।

দ্বিতীয়ত, যারা বিসিএস হয়নি বলে চরম গ্লানিতে ভুগেন এবং নিজেদেরকে ব্যর্থ মনে করেন তাদের মনে রাখতে হবে সব শ্রেণী পেশাতেই আপনি সফল হতে পারবেন যদি আপনি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারেন। আপনার আশেপাশে দেখলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আপনার মধ্যে যে গুণটি বা গুণগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিকশিত হয়েছে বলে মনে করেন সেটাকে কাজে লাগিয়ে আপনি জীবনের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌছতে পারবেন এমন পেশা বা ক্যারিয়ার প্লান নিতে হবে। কারো স্বপ্ন থাকতে পারে বিমানের পাইলট হওয়ার, কারো বা ব্যাংকার, কারো হয়তো শিল্পী-কবি, কারো বা রাজনৈতিক আবার কারো কারো বা সরকারী আমলা। যে কাজটি বা যে পেশার মাধ্যমে আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ বিকশিত করতে পারবেন সেটাই নেবেন। মাছ গভীর পানিতে সুন্দর সাতার কাটে বলে পাখি যদি কষ্ট পায় হায় আমার জীবন বৃথা সেটা হাস্যকর। আবার মাছ যদি আকাশে উড়তে পারে না বলে কষ্ট পায় সেটা অহেতুক শক্তিক্ষয়। সাকিব আল হাসান যদি ব্যাংকার হতে না পারার কষ্টে ভুগতেন বা রুনা লায়লা যদি আমলা না হওয়ার কারণে কষ্ট পেতেন তাহলে ভাবুন কত বড় মেধার অপচয় হতো! দেশের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ করে যাওয়ার জন্য আমলারা জরুরী কিন্তু দেশের পালকে মুকুট ও সম্মান নিয়ে আসেন রুনা লায়লা, হুমায়ূন আহমেদ, প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম, সাকিব আল হাসানের মতো বাংলাদেশী।

গলদের বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি

দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে অনেক দুর্বল, অদক্ষ লোক জায়গা করে নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে এক দুর্বল ও একমুখী পরীক্ষা ব্যবস্থায় আজব প্রজাতির আমলা উৎপাদন করা হচ্ছে। ওখানে ডাক্তারদের যে সিলেবাস, ইঞ্জিনিয়ারের ও একই সিলেবাস। আনসার বিডিপির যে প্রশ্ন ট্যাক্স ও একই প্রশ্ন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার মতো বিসিএস ও বিভিন্ন পেশাতে একমুখী পরীক্ষা নিয়ে থাকে। মাছকে গাছ বাইতে পারে কিনা এমন বা মুরগীকে নদীতে সাতার দেওয়ার পরীক্ষার মতো বিসিএস পরীক্ষা হয়ে আসছে। এবং বিসিএস নিয়ে ম্যাস ম্যানিয়া এমন হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো কোন বিভাগের ছেলেটি যে ভবিষ্যতে অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বড় উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ, অভিনেতা, নাট্যকার হতো সে ছেলেটি প্রথম বর্ষেই পাঠ্যবই বাদ দিয়ে ছুটে বাজারে বিসিএস এর কি নোট পাওয়া যায় সেগুলো সংগ্রহ করতে। বিশ্ব এখন কোন দিকে যাচ্ছে সে জায়গাতে বাংলাদেশের ভূমিকা কি হবে এবং নিজের অবদান কোন জায়গাতে হবে সেটা নিয়ে না ভেবে কিছু তথ্য মুখস্ত করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীরা। কে কোন আবিষ্কার করলো সে তথ্য মুখস্ত করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও বিজ্ঞানের ছেলেটি চিন্তা করার অবসর পায় না সে বা তারা কি আবিষ্কার করতে পারতো।

‘ওমুক বইটি কে লিখেছেন’ এরকম তথ্য মুখস্ত করতে করতে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়লেও মাথায় কখনো আসে না কোন বই লেখা যায় কিনা। প্রাইমারি ও মাধ্যমিকের যোগ বিয়োগ করতে করতে দিস্তার পর দিস্তা খরচ করলেও চেষ্টা নাই আধুনিক কম্পিউটারে গণিতের জটিল ব্যবহারটা কিভাবে বুঝা যায় এবং সেখানে আমাদের দেশ থেকে কি অবদান রাখা যেতে পারে। ব্যতিক্রম আছে এবং বাংলাদেশ নিয়মিতই অসংখ্য মেধাবী সন্তান তৈরি করছে কিন্তু বেশিরভাগই এক মুখে দৌড়ানোকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে। এটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বা রাষ্ট্র কাঠামোর জন্য মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। আমি সৌভাগ্যবান যে বর্তমান সময়ের এক ঝাক মেধাবী তরুণের সাথে পরিচিত এবং তাদের অনেকেরই সাথে কাজ করতে পেরেছি, কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি ফিউচার স্টার্ট আপ এর সম্পাদক রুহুল কাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তরুণ উদ্যোক্তা। জিরো টু ইনফিনিটির সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাংলাদেশে বিজ্ঞান চর্চায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের মাধ্যমে সাত্তার খান জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর রকমারির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগদের মতো মেধাবী মানুষগুলো নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করার সাথে সাথে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন। মুসপানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান সরকার সোহেল সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে জ্বালানী খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। এরকম বাংলাদেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণদের কথা বলতে গেলে কয়েকটি বই লেখা যাবে। শুধু বিসিএস নয় বহুদিক দিয়ে নিজেকে সফল করা যায়। উদাহরণ জাস্ট ওয়ান ক্লিক অ্যাওয়ে!

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে একটা বড় গলদ বয়ে বেড়াচ্ছি সেটা হলো এটা মুখস্ত বিদ্যা ও অনুকরণ প্রবণতার উপর জোর দিয়ে আসছে। স্কুল কলেজে সৃজনশীল পদ্ধতি নামে একটি সুন্দর প্রক্রিয়া চালু হলেও সেখানে নোট-গাইড এর দৌরাত্ম্য এখনো শেষ হয়নি বরং আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একসময় বিভিন্ন নোট ও শিট মুখস্ত করার বাতিক থাকলেও এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিসিএস এর নোট গাইড পড়ার চর্চা। সৃজনশীলতার চর্চা এবং নিজেকে সম্পূর্ণ বিকশিত করার সুযোগ সীমিত হওয়ার সাথে সবাইকে একমুখী বা হাতে গুণা কয়েকটি পেশার দিকে আহ্বান করছে। কিছু কিছু পেশায় বেশি লোক লাগে এবং সেসব পেশাতে বেশি মানুষ আগ্রহী হয়ে থাকে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু যেসব পেশায় অল্প লোক লাগে কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতেও কি আলো ফেলতে হবে না? যেমন ধরেন-আমাদের ভূতত্ত্ববিদ দরকার যারা আমাদের মাটির নিচে কি সম্পদ আছে তা জানাতে পারবে। সে জন্য বিশেষ শিক্ষাকে অনুপ্রেরণা দেওয়া হচ্ছে কি? না হলে আমাদেরকে বিদেশী পরামর্শক এনে প্রচুর অর্থ খোয়ানো চালু রাখতে হবে। সেসব অর্থ এতদিন খরচ করলে আমাদের সেরকম ভূতত্ত্ববিদ হয়ে যেতো। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষক ও কৃষিবিদদের অনেক অবদান। তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার সাথে সাথে ভালো কৃষক ও কৃষিবিদ হওয়াকে জীবনের লক্ষ্য বানানো হবে না কেন?

দেশে প্রচুর জাতীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাদের প্রধান নির্বাহী বা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ বেশিরভাগই বিদেশের বা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার। আমরা এরকম মেধাবী নির্বাহী তৈরি করার প্রকল্প কি হাতে নিয়েছি? প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছ থেকে আমরা তো শিখতে পারি! ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানীর বড় কর্তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতীয়। বিদেশে শুধু অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোকেই জনশক্তি বলার চর্চা থেকে সড়ে এসে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মকর্তা পাঠানো বা তৈরি করার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

এখন প্রয়োজন ন্যাশন বিল্ডিং, স্টেইট বিল্ডিং

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান, সম্ভাবনাময় দেশ। তার সাথে রয়েছে এর বেশ জটিল ও কঠিন সমস্যা, আছে অসংখ্য কন্ট্রাডিকশন বা স্ববিরোধিতা। তবে যত বড় সমস্যা তত বড় সম্ভাবনা। উনবিংশ শতকের মাঝের দিকে একটি আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধের পরপরই কিন্তু সবল রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের শৈশব পার করে রাষ্ট্র হিসেবে যৌবনে পা দিয়েছে। এখন দরকার ন্যাশন বিল্ডিং ও স্টেইট বিল্ডিংয়ের। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন সবল হতে হবে, শিক্ষা কাঠামো সবল হতে হবে, জ্ঞানতাত্ত্বিক পাটাতনটা শক্ত হতে হবে। সে জায়গাতে আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, নৃতাত্ত্বিক, সমাজ গবেষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, চিন্তক, সাংবাদিকসহ প্রত্যেক পেশাতেই অসাধারণ যোগ্য লোক দরকার। সেখানে শুধু বিসিএস এর পেছনে অন্ধভাবে দৌড়ানো ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেষ্ঠত্বের জায়গাটা খুঁজে পাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়, রুদ্ধ করে দেশের অগ্রগতিও। দেশের শিক্ষা কাঠানো এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একটি হলিস্টিক পরিবর্তন নিয়ে আসা দরকার। তা না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সাথে রাষ্ট্রটিও নড়বড়ে হয়ে যাবে।

বিসিএস পড়ুয়ারা ইতিহাসের বিভিন্ন সাল-তারিখ, ব্যক্তির নাম মুখস্ত করছে। ছোটখাট কয়েকটা রচনা পড়ে, গাইডবই মুখস্ত করে বিসিএস পরীক্ষায় রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইতিহাস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে লিখে দিয়ে আসছে অথচ এদের বেশিরভাগেরেই নেই কোন ইতিহাস বোধ, রাজনীতির গভীর আন্ডারস্ট্যান্ডিং। সরকারী আমলা হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিশনওয়ালা খুব কম আমলাই আছে, দিন দিন এটা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। বিসিএস স্রেফ একটা চাকুরী হয়ে গেল, লোভনীয় চাকুরী যার মধ্যে আছে ক্ষমতার দাপট, অর্থ কামানোর সাইড সুযোগ।

বেকুবের আক্কেল গুড়ুম!

সম্প্রতি সুশান্ত পাল নামে এক সরকারী আমলা যা লিখলো তা নতুন আমলাদের মূর্খতা, অপরিপক্কতা, অদূরদর্শিতা এবং অজ্ঞতার সাইনবোর্ড হিসেবে লেখা থাকবে। মুখস্ত বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে বিসিএস প্রথম হওয়া যেতেই পারে, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক ছাত্র ছাত্রীই প্রথম হয়েছেন। তার মানে এটা এ নিশ্চয়তা দিচ্ছে না আপনি দেশের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ লোকটি হয়ে যাবেন, আপনি দেশের সেরা বিজ্ঞানীটি হয়ে যাবেন, আপনি দেশের সেরা গবেষক বা রাজনীতিবিদটি হয়ে যাবেন, বা বিখ্যাত কোন লেখক-সাহিত্যিক, শিল্পী। সুশান্ত পাল প্রমাণ করিয়ে দিলেন তার পরিমিতি বোধের কত ঘাটতি, ভাষার সঠিক ব্যবহার করতে পারার অযোগ্যতা, দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান সেটা নিয়ে পাঠের ভয়ানক ঘাটতি। আর আছে বিসিএস নোট গাইডের মতো কিছু কল্পিত তথ্য বা ভুল তথ্য দিয়ে সহজ জেনারালাইজেশনের গভীর সংকট।

susanto-home

সুশান্ত পাল

আর ব্যক্তিগত পরিমিতি বোধ কত নিম্ন মানের সেটা বললে একটা আলাদা লেখা দাড় করাতে হবে। মানুষ লটারী পেয়ে একদিনে অনেক বড় লোক হয়ে যেতে পারে, কোন একটা পরীক্ষায় প্রথম হয়ে খ্যাতিমান হয়ে যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন এটা ধরে রাখা অনেক কঠিন কাজ, দায়বদ্ধতার কাজ। এজন্য যারা পরিচিত হয়ে যান, যারা তাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারেন তাদেরকে তাদের কথা ও কাজের ব্যাপারে কয়েকগুণ সতর্ক হওয়া উচিত। যেখানে ফেসবুকে আপনাকে ফলো করে লক্ষাধিক মানুষ সেখানে আপনি বালখিল্যপূর্ণ, ভুল তথ্যপূর্ণ, অশ্লীল কথা বলতে পারেন না। আপনি লেডি গাগা, লিন্ডসে লোহান বা কিম কার্দেশিয়ান হন তাহলে ভিন্ন কথা। যেকোন কথা বা কাজই আলোচনার ঝড় তুলবে!

মি. সুশান্ত, সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে আপনি আপনার সব ব্যক্তিগত ক্ষোভ, ব্যক্তিগত অতৃপ্তিপ্রসূত ঘৃণা ঝাড়তে পারেন না। আর দেশের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে অপর একটি সায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষপূর্ণ কথা প্রচার তো ফৌজদারী অপরাধের মধ্যে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এখন দায় পড়ে গেছে এর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া। তা নাহলে সুশান্ত পালের আজগুবি অভিযোগগুলো সত্য বলে মেনে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফেসবুকে দুঃখপ্রকাশ করে ফেসবুকারদের কাছ থেকে ক্ষমা আদায় করতে পেরেছেন কিনা সেটা ফেসবুকে সংযুক্ত ব্যবহারকারীরা বলতে পারবেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সুশান্ত করেছেন, প্রতিষ্ঠানের মানহানীকর কাজ করেছেন তা ঢাবি গ্রহণ করবে, না আইনী পদক্ষেপ নিবে সেটা তাদের দায়। বালখিল্যপূর্ণ স্টাটাস দিয়ে সুশান্ত যেমন দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন পদক্ষেপ না নিয়ে দায়িত্ব সচেতনতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হবে।

কোন বিষয়ে কিভাবে সুগ্রন্থিত ও সুচিন্তিত মতামত রাখতে হয় সেটা তো আর নোট গাইড পড়ে তৈরি হবে না। সুশান্ত পালের লেখাতে তার সম্পূর্ণ অভাব ছিলো এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার লেখাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অনেক ছাত্রই খুবই বাঁজেভাবে, গালাগালি করে স্ট্যাটাসের বন্যা বইয়ে দিয়েছে ফেসবুকে। আপনারা এমন স্ট্যাটাস প্রসব করে নিজেদেরকে হেয় করার সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও হেয় করছেন বা করবেন। সুশান্ত পাল যে ভুল সেটা আপনার আচরণের মাধ্যমে জানিয়ে দিন। এমন যেন না হয় আপনাদের সস্তা স্ট্যাটাস সুশান্ত পালদের পালে হাওয়া বাড়িয়ে দেয়!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সাবেক ও বর্তমান ছাত্রকে দেখেছি ব্যাপারটাকে অনেক সুন্দরভাবে এড্রেস করতে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বর্তমানে সরকারী কর্মকর্তা মনজুর রায়হান (অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, ভূমি মন্ত্রণালয়) তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেন:  “ ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা, হলের পরিবেশ, খাবারের মান, নোংরা রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে আমারও অনেক অনুযোগ আছে। অনেক কিছুই আমারও পছন্দ নয়। কিন্তু তথাকথিত এক ‘বিসিএস বিশেষজ্ঞ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ যে গল্প ফাঁদলো তা দেখে রীতিমতো ভড়কে গেছি। সাড়ে ৬ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হল কিংবা ক্যাম্পাসের কোথাও ওরকম ভয়ঙ্কর ও নোংরা  র‌্যাগিংয়ের কথা কখনও শুনি নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে কখনও কখনও “পলিটিক্যাল মশকরা” হয় বটে তবে তাকে কিছুতেই র‌্যাগিং বলা যায় না। এই ‘বিশেষজ্ঞ’ হঠাৎ করে ঢাবি’র পেছনে লাগলো কেন বুঝতে পারছি না। খ্যাতি অনেক সময় মানুষকে কাণ্ডজ্ঞানহীন করে দেয়। প্রত্যেকের উচিৎ আপন আপন সীমারেখা ঠিক রেখে চলা।”

মনজুর রায়হানের সাথে একমত হয়ে বলতে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই শিক্ষার পরিবেশ বেশ কয়েকটা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এখন অতীতের চেয়ে সবচেয়ে বাঁজে, হলগুলোতে অপুষ্টিতে ভোগে ছাত্র-ছাত্রীরা, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন অনেক শিক্ষক, বাধ্য হয়ে রাজনীতি করতে হয় অনেক ছাত্রকে। আর মাঝে মাঝে রাজনৈতিক হানাহানি তো আছেই। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত অনেক মেধাবী মুখ বের হচ্ছেন এটা আশাবাদের জায়গা বটেই।

বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র অসংখ্য মেধাবী আমলার যেমন জন্ম দিয়েছে তেমনি অদক্ষ, দুর্নীতিবাজ, নবিস আমলাও পয়দা করেছে। আকবর আলী খান, সাদত হোসাইন, মিজানুর রহমান শেলী, শহীদুল জহীর, আবুল মাল আবদুল মুহিতদের মতো মেধাবী আমলা বাংলাদেশের আমলাদের মুখ উজ্জল করেছে। আর অগৌরবের কথা বেশি না বলি। সেটার ইতিবৃত্ত অনেক দীর্ঘ এবং হতাশার।

তবে সুশান্ত পালের জন্য কথা হচ্ছে তিনি আর বেশিদিন বিসিএস প্রথম স্থান পাওয়া তকমাটি গায়ে লাগিয়ে আলাদা সুবিধা নিতে পারবেন না। তাকে মাপা হবে নিজের বিভাগে কেমন সক্ষমতা দেখাচ্ছেন তার উপর ভিত্তি করে। সেখানে তিনি দায়িত্ববান হয়ে কাজ করলেই বাংলাদেশ ও দেশের জনগণ তার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা পাবে। সেক্ষেত্রে ফেল মারলে সম্মানের উল্টোপিঠ লেখা থাকবে। সেটা নিশ্চয়ই গত কয়েকদিনে বেশ ভালোভাবে টের পেয়েছেন!

ক্যারিয়ার ও জীবন

sushanto003

দেশের নাগরিকদের সেবায় নিয়োজিত আমলারা নিজেদেরকে তাদের সেবক এবং তাদের প্রতি দায়বদ্ধ মনে করতে হবে, প্রভু ভাবার সুযোগ নাই। দেশে শিক্ষার হার এখনো শতভাগ হয়নি বলে সাধারণ মানুষও আমলাদেরকে প্রভু জ্ঞান করে। শিক্ষা ও সচেতনতার বিস্তার ঘটলে এ ভাবনার পরিবর্তন হবেই। আর গুরুত্বের কথা যদি বলা হয় তাহলে যে সৎ অটোরিকশা চালক তার রিকশাতে ৫ লাখ টাকা পেয়ে মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য থানায় যায় সে অনেক উত্তম ওই ক্ষমতাবান আমলার চেয়ে যে হাজার টাকা না হলে ফাইল নাড়ায় না!

আমাদের জীবনের সবচেয়ে সেরা লক্ষ্যটা হওয়া উচিত উন্নত মানুষ হওয়া, ভালো মানুষ হওয়া। বিভিন্ন পেশা হচ্ছে আমাদের সেই কামিয়াব মানুষ হওয়ার মাধ্যম মাত্র। একে স্বর্গ বলে পূজা করার দরকার নাই! জীবন যেকোন চাকুরীর চেয়েও অনেক বড়।

ধরেন আপনি বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি সুন্দর দ্বীপে পৌছতে চান। আপনি কিভাবে যাবেন? সেখানে যেতে নিশ্চয়ই আপনাকে অনেকগুলো যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। আপনি প্রথমে হেঁটে নিকটস্থ বাজারে গেলেন, সেখান থেকে নৌকায় করে থানা সদরে গেলেন, তারপর ওখান থেকে বাসে করে বিমান বন্দরে পৌছলেন, সেই জায়গা থেকে বিমানে করে দ্বীপটির সবচেয়ে কাছের কোন দেশে নামলেন। সেখান থেকে ধরেন আপনি কোন স্পিডবোটে বা ট্রলারে করে ওই দ্বীপটিতে পৌছলেন। আপনি বিভিন্ন জায়গাতে এই যে বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করলেন এটা কিন্তু গন্তব্য নয়! এগুলো গন্তব্যে পৌছার সহায়ক মাত্র। আমাদের জীবনটাও এমন। আমরা জীবনে কিছু করতে চাই, কিছু অর্জন করতে চাই। তার জন্য আমরা বিভিন্ন মাধ্যম, বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হই। সেই পেশাগুলো হচ্ছে জীবনের গন্তব্যে পৌছার যানবাহন। অনেকে এই বাহনকে পূজা করতে গিয়ে জীবনের গন্তব্যকে ভুলে যায়। এজন্য কারো কারো জীবনের মঞ্জিলে পৌছা হয়না, বাহনেই জীবন শেষ হয়ে যায়।

প্রত্যেকেই জীবনের মঞ্জিল ঠিক করেন, তারপর সেখানে পৌছার বাহন।

ভালো মানুষ, সুস্থ্য চিন্তার মানুষ একটি দেশের সম্পদ। যে ট্যাক্সি ড্রাইবারটি তার ট্যাক্সিতে বিদেশী পর্যটকের ফেলা রাখা কয়েক বান্ডেল টাকা ফেরত দিয়ে দেশের সুনাম বাড়ায় সে রাষ্ট্রের সম্পদ। আবার যে উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ঘুষ, দুর্নীতি ও অপচেষ্টাতে নিমগ্ন সে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য কথাটা শুধু পাঠ্য বইয়ে আর মুখে থাকলে চলবে না, চর্চায় থাকতে হবে, মানতে হবে।

সাবিদিন ইব্রাহিম

লেখক, ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ)

Mail: [email protected]

সুখবর! সুখবর!
সাবিদিন ইব্রাহিমের পাঠকনন্দিত প্রথম বই ‘ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস’ সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন:

আদর্শ বই
২৩ কনকর্ড অ্যাম্পোরিয়াম, কাঁটাবন, ঢাকা-১২০৫
ফোন: 01710 779050)

২০১৭ বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে সাবিদিন ইব্রাহিম এর অনুবাদে সান জু’র ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’। আড়াই হাজার বছর পুরনো এই ক্লাসিক বইটি পড়তে চাইলে যোগাযোগ করুন:

ঐতিহ্যের বাংলাবাজার ও কাটাবন বিক্রয়কেন্দ্র ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অভিজাত বই বিক্রয়কেন্দ্রে।
সরাসরি ঐতিহ্য থেকে ডেলিভারি পেতে ঐতিহ্যের ফেইসবুক পেজ www.facebook.com/oitijjhya এ অর্ডার করুন বা ফোন করুন – ০১৮১৯২৮৪২৮৫

রকমারিতে তো পাচ্ছেনই! রকমারিতে অর্ডার করুন, বই পৌছে যাবে আপনার ঠিকানায়!
রকমারি লিংক: www.rokomari.com/book/author/40494/সাবিদিন-ইব্রাহিম
আর রূপান্তরও রয়েছে আপনার পাশে। ফোনে অর্ডার দিন, বই পৌছে যাবে আপনার হাতে।

Related Posts

About The Author

6 Comments

Add Comment