বুক রিভিউ : লীলা নাগ

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে যেদিন আমার পরিচিতি ঘটেছে, ঠিক ততখন থেকেই খুজছি লীলা নাগের ইতিহাস। অবশেষে কাছে পেলাম এই গ্রন্থটি। এক মহিয়সী নারীর স্মৃতিকে জাগরুক করে রাখার জন্য এই স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। যেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের সকল সম্ভাব্য ব্যাক্তির তথ্যমালার সংযোজন হয়েছে।

বিপ্লবী লীলা নাগ ছিলেন বাংলাদেশের ই মেয়ে। নারীর স্বাধীনতা, জয়শ্রী, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এই ত্রি উপাদান নিয়েই ছিল লীলা নাগের জীবন। পোষাকী নাম লীলাবতী নাগ কিন্তু মা বাবা ডাকতেন”বুড়ি” বলে।ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী যিনি এম. এ পাশ করেছিলেন ইংরেজি বিভাগ থেকে। ১৯২১ সালে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের সহ শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু লীলা র একাগ্রতা ও দৃড়তা দেখে প্রথম উপাচার্য শিক্ষাবিদ স্যার পি জে হার্টগ মুগ্ধ হয়ে পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়ে তাকে ভর্তি করান। অপর ছাত্রী ছিলেন সুষমা সেনগুপ্ত। তিনি অর্থনীতি বিষয়ে পড়তেন।


লীলানাগ কর্মজীবনে ভারতবর্ষেরর ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদীবিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ মহাত্মা গান্ধী, পন্ডিত জহরলাল নেহেরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সান্নিধ্য লাভ করেন।

চট্টগ্রামে বিপ্লবের অগ্রনায়ক মাষ্টার দা সূর্যসেনের পরামর্শে ভারতের প্রথম বিপ্লবী শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার লীলা নাগের সঙ্গে বিপ্লবী পাঠ গ্রহন করেন। লীলা ভারতবর্ষে বিনা বিচারে আটক প্রথম রাজবন্দী।

তার কর্মময় জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি জয়শ্রী পত্রিকা। সম্ভবত এটাই বাংলাদেশে ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মহিলা পত্রিকা, যার নামকরন করে গেছেন গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মেয়েদের মধ্যে দেশাত্মবোধও শঙ্কাহীন দেশসেবা জয়শ্রীর উদ্দেশ্য।

সমাজসচেতন এই রমণী ১৯৪৬ সালে নোয়াখালী দাঙ্গার পর রামগঞ্জ থানায় মহাত্মা গান্ধী পৌছার পূর্বেই চারশত অবরুদ্ধ হিন্দু নারীকে উদ্ধার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে বেরিয়ে এসে ধনীর দুলালী, সুন্দরী, শিক্ষাজগতে সুপরিচিতা লীলা নাগ জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন করেন রুচীশীল, বুদ্ধিদীপ্ত, ধৈর্যশীল, শিক্ষিত সহপাঠী অনিল রায় কে। লীলারায় এবং অনিল রায় দুজনের শক্তিকে এক করে বিপ্লবী হয়েছেন। বাকী জীবন কাজ করে গেছেন নারীর জন্য এবং পুরো ভারতবর্ষেরর জন্য।

Writer : Rownok Jahan

Related Posts

About The Author

Add Comment