ব্রাহ্ম সমাজের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ধর্মসমালোচনামূলক প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্ম সভা প্রতিষ্ঠা করেন । ব্রাহ্ম সভাই পরবর্তীতে ব্রাহ্ম সমাজ নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে । ব্রাহ্ম সভার মাধ্যমেই রামমোহন প্রচার করেন তার নতুন ধর্মীয় মতবাদ । রামমোহন ধর্মীয় সত্য অনুসন্ধানের আগ্রহে প্রচলিত ধর্মসমূহের মূলগ্রন্থ পাঠ করেন । বেদের পাশাপাশি আরবি ও ফারসি ভাষার কুরআন এবং হিব্রু ও গ্রিক ভাষার বাইবেল অধ্যয়ন করেন । তিনি দেখেন প্রত্যেক ধর্মের উদ্দেশ্য অভিন্ন, তাই মানব জাতি জাগরণ ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক ধর্মের পুনঃব্যাখ্যা প্রয়োজন । তিনি প্রত্যেক ধর্মের কুসংস্কার সমূহ বাদ দিয়ে নৈতিক উপদেশাবলি গ্রহণ করেন । যদিও নতুন সমাজের নতুন তাত্ত্বিক দাবি ছিল, এটাকে সার্বজনীন ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা । তবুও এটি হিন্দু ধর্মের শাখায় পরিণত হয় ও সেভাবেই বিরাজমান ছিল । তিনি এই মতবাদের উপর ব্রহ্মোপাসনা ও বেদান্ত নামে দুটি গ্রন্থ ও রচনা করেন ।

১৮৩৩ সালে রামমোহনের মৃত্যুর পর আন্দোলনটি বাধার সম্মুখীন হয় । পরে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজটি হাতে নেন । তিনি ১৮৩৯ সালে “তত্ত্ববোধিনী সভা” নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি  “তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা” নামে একটি পত্রিকা ও বের করেন । ধর্মবিশ্বাস প্রচারের পাশাপাশি এটি সামাজিক কুসংস্কারসমূহ সমাধানের পক্ষে জনমত গড়ে তোলে ।

ব্রাহ্ম সমাজের মধ্য থেকে একটি শ্রেণী দাবি করে বেদ পুরোপুরি নির্ভুল নয় । ১৮৪৭ সালে  সবাই বলে বেদের অভ্রান্ত যুক্তি সমূহ গ্রহণযোগ্য নয় । তাই উপনিষদের নির্বাচিত অংশসমূহ নিয়ে ব্রহ্ম ধর্ম বিশ্বাসের পুননির্মাণের প্রচেষ্টা করা হয় । সংশোধিত অংশটি ১৮৫০ সালে “ ব্রাহ্মধর্ম ” নামে বই আকারে প্রকাশিত হয় । ১৮৫৭ সালে কেসবচন্দ্র সেনের আগমনে আন্দোলনের ব্যাপকতা বাড়ে ।

বর্ণপ্রথা ও সমাজ সংস্কার নিয়ে কেসব ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় । দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন কিছুটা রক্ষণশীল । ১৮৬৮ সালে কেশবচন্দ্র ব্রাহ্ম সমাজ নামে নতুন একটি সমাজ চালু করেন । অন্যটি দেবেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে “ আদি ব্রহ্ম সমাজ” নামে পরিচিতি লাভ করে । তার উদ্যোগে ১৮৭২ সালে সিভিল বিবাহ আইন পাশ হয় ।

কেশবচন্দ্র হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, ইসলাম ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্মের সারাংশ আহরণ করে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন  । ১৮৮০ সালে ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা কিছুটা সীমিত আকার ধারণ করে যখন তিনি “নব বিধান” অথবা নতুন নিয়ম নামে তার ধর্মীয় বিশ্বাস জনসমক্ষে ঘোষণা করেন । কেশবের কিছু কার্যকলাপ তরুণদের ক্ষিপ্ত করে । ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ছিল তার আনুগত্য ।

শিবনাথ শাস্ত্রী ও আনন্দমোহন বসু কেশবচন্দ্রের সমাজ থকে বেরিয়ে আসে । ১৮৭৮ সালে নতুন ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

লেখক :সাগর বড়ুয়া

Related Posts

About The Author

Add Comment