ব্লু হোয়েল: অতি সতর্কতা যখন আতঙ্কের কারণ

এইচ জি ওয়েলসের সাইন্স ফিকশন “ওয়ার অব দ্য ওয়াল্ডস্” এর কথা কে না জানে। ১৯৩৮ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্ব মুহূর্তে তার এই সাইন্স ফিকশনটির ওপর ভিত্তি করে সিবিসি রেডিওতে একটি রেডিও নাটক প্রচার করা হচ্ছিল। অধিকাংশ আমেরিকান এনবিসি রেডিওতে একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান শুনে যখন সিবিসি টিউন করলো তখন তারা শুনতে পেল যে মার্শান যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সাত সহস্র সৈন্যকে মেরে এলিয়েন মার্ডারাররা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দিয়েছে। শ্রোতারা নাটকের প্রথম অংশ শুনতে পায় নি। তাই তারা প্রকৃত যুদ্ধ শুরু হয়েছে ভেবে বিষাক্ত গ্যাস থেকে বাঁচতে রাস্তায় নেমে পড়ে এবং পুলিশের কাছে মাস্ক চায়। ফলশ্রুতিতে রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় অনেকে হতাহত হন।

সম্প্রতি বহুল আলোচিত ব্লু হোয়েল গেম এর সাথে উপরোক্ত ঘটনার মিল রয়েছে। রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ব্লু হোয়েল গেমের কথা আদৌ বাংলাদেশের মানুষ জানতো না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি সতর্কতার কল্যাণে এ গেমের কথা এখন সবাই জানে। সুইসাইড যে গেমের শেষ পরিনতি সে খেলা নিঃসন্দেহে সবার জন্য ভয়ানক । আদৌ এ দেশের মানুষ ব্লু হোয়েল সম্পর্কে জানতো না যদি না সবাই ব্লু হোয়েল থেকে দূরে থাকতে সতর্কতা মূলক পোস্ট না দিত। ব্লু হোয়েল নিয়ে অতি সতর্কতা এখন ওয়ার অব দ্য ওয়াল্ডসের মত আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে শুধু ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি গেম নিয়ে আলোচনা। ফলে অনেকের মাঝেই এ গেম খেলা নিয়ে কৌতুহল যেমন দেখা দিয়েছে তেমনি রয়েছে আতঙ্কও।

অনেকে আবার ব্লু হোয়েল নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় নিজের পড়ার কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অপূর্বা বর্মণ স্বর্ণা (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে অ্যাডভোকেট সুব্রত বর্মণের মেয়ে এবং ফার্মগেটের হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্বর্নার মৃত্যুর কারন ব্লু হোয়েল ছিল বলে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। এ গেম নিয়ে আরো যে গুজবটি ছড়িয়েছে তা হল বাংলাদেশে অন্তত ৬১ জন ব্লু হোয়েলের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এর কোনোটিরই সত্যতা এখনো মিলে নি । ব্লু হোয়েলের ২৭তম দিনে হাত কেটে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকতে হয়। জানা যায় স্বর্নার দেহে ব্লু হোয়েলের কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি।

যতটুকু জানা গেছে, দ্য ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ এর সময়সীমা ৫০ দিন। খেলার নির্দেশ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীকে ৫০টি ‘টাস্ক’ শেষ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিজেকে আঘাত করাসহ নানারকম ভয়ানক সব সেগমেন্ট। এর প্রতিটি ধাপ একাধিক কিউরেটর দ্বারা চালিত হয়। কিউরেটরদের নির্দেশ মতো গেমের এক একটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। গেমটির বিভিন্ন ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শেষ টাস্কটি হচ্ছে আত্মহত্যা। রাশিয়ার এক সাইকিস্ট সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এই গেমটি ২০১৩ সালে উদ্ভাবন করেন। বাংলাদেশে এ গেমের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা তা জানা যায় নি।

ব্লু হোয়েল একটি নয়া আতঙ্কের নাম। এ জীবনঘাতক খেলা নিয়ে সতর্কতা ভালো তবে তা যেনো আতঙ্ক বা প্রাণনাশের কারন হয়ে না দাড়ায়। ব্লু হোয়েল নিয়ে সঠিক তথ্য জানুন এবং তা থেকে সতর্ক থাকুন। ভুয়া তথ্য প্রচার করে কাউকে আতঙ্কিত করবেন না।

Related Posts

About The Author

Add Comment