ভারতীয় রিপাবলিকঃ অস্পৃশ্যতা ও রাজা-পূজার দেশ!

মাসুদ রানা

‘রিপাবলিক’ বলতে যারা ‘প্রজাতন্ত্র’ বলেন, তারা রিপাবলিকের মর্ম বুঝেন না। এ-কথা আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি।

রিপাবলিকে কোনো রাজা নেই, তাই প্রজাও নেই। আর, যে-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রজা নেই, সে-রাজনৈতিক ব্যবস্থার নাম প্রজাতন্ত্র হয় কীকরে?

এ-মাসে ভারত তার “Parjatantra Diwas” পালন করতে যাচ্ছে। আর সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে। তিনি নিমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন।

ভারতকে যখন তথাকথিত ‘স্বাধীনতা’ দেওয়া হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাষ্টে, তখন তার ষ্টেইটাস ছিলো ডোমিনিয়ন। ভারতের একদিন আগে একই প্রকারের তথাকথিত ‘স্বাধীনতা’ পাওয়া পাকিস্তানও ছিলো একটি ডমোনিয়ন। অর্থাৎ, উভয় পোলিটির সার্বভৌম ছিলো ব্রিটেইনের রাজা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান পণ্ডিত জওহরলাল নেহ্‌রু হলেও, ভারতের রাষ্ট্রটির গভর্ণর জেনারেল ছিলেন বর্তমান ব্রিটিশ রাজার প্রতিনিধি লুইস মাউণ্টব্যাটেন। আর, পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এবং তিনিও ছিলেন ব্রিটিশ রাজার প্রতিনিধি।

ভারত ও পাকিস্তান নিজেদেরকে রিপাবলিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে কয়েক বছর পরে। ভারত রিপাবলিক হয় ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী এবং পাকিস্তান ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ। অর্থাৎ, তখন থেকে ভারত ও পাকিস্তান আইনতঃ রিপাবলিক হয়।

বাংলাদেশের রিপাবলিক কোনো রাজার অনুমতিতে গঠিত হয়নি। বাংলাদেশের রিপাবলিক গঠিত হয়েছে জনগণের সশস্ত্র বিপ্লবে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১০ই এ্যাপ্রিলে রাষ্ট্র ও সরকার গঠনে – যার ঘোষণা আসে ১৭ই এ্যাপ্রিলে মুজিবনগরে।

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হলেও এগুলো বাস্তবে রিপাবলিক হয়েছে কিনা, তা বিতর্কের বিষয়। কিন্তু জন্মগতভাবে বর্ণাশ্রিত অসাম্যের ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশ ভারত হাস্যকরভাবে “বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র” বলে আত্মপ্রচার করে থাকে এবং তার মিত্ররাও মনোরঞ্জনের জন্যে তার প্রতিধ্বনি করে। যে-সমাজে জন্মগতভাবে কিছু মানুষ নিম্নবর্ণের ও অস্পৃশ্য হয় এবং মুষ্টিমেয় মানুষ পূজ্য হয়, সে-সমাজ গণতান্ত্রিক হয় কী করে? গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ছাড়া, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয় না।

এবার ভারত তার ‘প্রজাতন্ত্রা দিওয়াস’ (Projatantra Diwas) উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশ্বের জঘন্যতম রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অন্যতম সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজকে প্রধান অতিথি করে প্রমাণ করেছে যে, রিপাবলিকের স্পিরিট বা চেতনা সে ধারণ করে না।

১২/০১/২০১৬
লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড

Related Posts

About The Author

Add Comment