ভাল থাকুক বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী

পঞ্চগড় জেলার গারাতী ছিটমহলে ছিটমহলে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে প্রথম ছিটমহল নিয়ে ছোট পরিসরে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ অনুষ্ঠানে আমি এবং পঞ্চগড়ের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বর্তমান সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান অংশগ্রহন করি। ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন গারাতি ছিটমহলের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ। ঐ সভাটি ছিল ছিটমহল নিয়ে আমার প্রথম কোনো অনুষ্ঠান। আর আমাকে ছিটমহল নিয়ে লেখালেখি এবং গারাতি ছিটমহলে যাওয়ার বিষয়ে এবং ছিটমহল নিয়ে আন্দোলন করার জন্য অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন আজকের সাংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের শেষের দিকে পঞ্চগড় জেলার কাজল দীঘি ছিটমহলের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সাথে কুড়িগ্রাম জেলার দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের গোলাম মোস্তফার সাথে মোবাইলে সমন্বয় করিয়ে দিয়ে ছিলাম যার পর থেকে বাংলাদেশে ছিটমহল আন্দোলন জোরদার হয়।

সর্বশেষ ২০১০ সালে ভারতের একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শ্রী দিপ্তিমান সেন গুপ্তের  সাথে যৌথ আন্দোলনে অংশগ্রহন করি । একই বছর বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নিযুক্ত হই। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলি। এই আন্দোলনে আবদুল হান্নান, লিজু হাসান, রাসেল মাহমুদ, মাহমুদ হাসান, মনিকা মাহজাবিন,কুলসুম, সাইফুল্লা রাব্বী, আহসান, ই্য়ামিন, আবু প্রান্তর, মোজাক্কের বারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি ফোরামের সদস্যবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবতীতে ছাত্র আন্দোলনে ভারতের সাদ্দাম হোসেন, জয়নুল আবেদিন, রৌশন সরকার, রহমান আলী, বিসনু বর্মণ, আলমগীর মন্ডল ও জুলিনা আক্তার সম্পৃক্ত হয়। তখন ছিটমহলবাসী ছিল পরাধীন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২ আগষ্ট বিলুপ্ত ছিটমহল নিয়ে ঐতিহাসিক গারাতি ছিটমহলের এক আলোচনা সভা থেকে ছিটমহল আন্দোলন থেকে আমি বিদায় নিয়েছি। আজ ছিটমহলবাসী স্বাধীন। বিদায়ী অনুষ্ঠানে আমি ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল সমন্বয় ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত ঘোষনা করি পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির তথ্য সম্পাদক খেকে স্বইচ্ছায় বিদায় নিয়েছিলাম। আমার বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল সমন্বয় কমিটির সহসম্পাদক দিপ্তিমান সেন গুপ্ত এবং গারাতি ছিটমহলের চেয়ারম্যান মফিজার রহমান।

11953211_845353448875117_3091698328610350691_n

আমি নিজকে সৌভাগ্যবান ভাবছি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র নাগরিকত্বহীন জনগোষ্ঠী  ছিটমহলবাসীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একজন কর্মী হিসেবে থাকতে পেরেছি । বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীরা সবসময় ভালো থাকুক ।  বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকার দীর্ঘ দিনের অবহেলীত  এই জনগোষ্ঠির ভাগ্য উন্নয়নে ভালো একটি ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা করি। পরিশেষে বলতে চাই বিলুপ্ত ছিটমহল নিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের যে সকল সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, এবং মানবাধিকার ব্যক্তিরা এদের পাশে দাড়িয়ে ছিল তাদেরকে অভিনন্দন জানাই । বিশেষ করে বাংলাদেশে এই আন্দোলনে আমাকে সব সময়ে সহযোগিতা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি আ আ ম ম আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক এ এস এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক প্রদিপ কুমার রায়, অধ্যাপক শরিফ উল্লা ভূইয়া, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক গোবিন্দ্র চক্রবর্তী, অধ্যাপক আকমল হোসেন,অধ্যাপক আশফাক হোসেন,অধ্যাপক তানজিবউদ্দিন খান, জাবির অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, দেশ বরেণ্য সাংবাদিক আবু সাইদ খান, গোলাম কুদ্দুস এবং কথা সাহিত্যিক মাসউদুল হক, দেশ বরেণ্য সাবেক ছাত্রনেতা শরিফুজ্জামান শরিফ  । আমি শ্রদ্বার সাথে স্বরণ করছি প্রয়াত শ্রী দীপক সেন গুপ্ত , অমর রায় প্রধানকে যারা ১৯৯৬ সালে ছিটমহলের মানুষের জন্য দূর্বার আন্দোলন শুরু করে ছিলেন। পাশাপাশি স্বরণ করছি প্রয়াত বিমল চক্রবর্তী এবং আবদুর রহমান বসুনিয়াকে যারা ১৯৭৩ সালে এনক্লেভ কমিটি নাম দিয়ে প্রথম ছিটমহলবাসীকে নিয়ে একটি সংগঠন করে ছিল। পরিশেষে বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষ সবসময় ভালো থাকুক সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করি ।

Related Posts

About The Author

Add Comment