ভিসি মহোদয়ের সাথে বিডিএসএফ টিমের শুভেচ্ছা বিনিময়

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর ড. আখতারুজ্জামান স‍্যারের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ‍্যাপ্টারের একটি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশে চলমান শিক্ষা ব‍্যবস্থার অবকাঠামো এবং চিন্তক সমাজের সংকীর্ণতার বিপরীতে গিয়ে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা এবং মাননীয় অভিভাবক মহোদয়কে শুভেচ্ছা জানানোই ছিল এই সাক্ষাতের মূল উদ‍্যেশ‍্য। ঢাবির বিডিএসএফ প্রতিনিধি দলে ছিলেন জনাব সাগর বড়ুয়া, নুশরাত জাহান, মাহফুজা মাহদী, ওয়ালিউল্লাহ, সানজিদা বারী, তানভীর মেহরাজ ও আহসান হাবীবসহ আরও অনেকে।

মাননীয় ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান স‍্যারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদটি অলঙ্কৃত করবার জন‍্য একরাশ ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এরপর স‍্যার নিজে থেকেই বিডিএসএফ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন। বিডিএসএফ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেন ঢাবি চ্যাপ্টারের কোঅর্ডিনেটর সাগর বড়ুয়া। তিনি বলেন বর্তমানে দেশে চাকরিমুখী পড়ালেখার যে হিড়িক চলছে তাতে জ্ঞান চর্চার মুল বিষয়টি হারিয়ে যাচ্ছে এমপিথ্রি আর প্রফেসর’স গাইডের তথ্যের চাপে। ছাত্ররা লাইব্রেরীতে ঢুকছে ব্যাগ ভর্তি গাইড আর কোচিংয়ের সীট নিয়ে। যার বিপরীতে ছাত্রদেরকে প্রকৃত জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত বই পড়াসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম। এর সাথে যোগ করে নুশরাত জাহান বলেন জ্ঞান চর্চার এই সংগ্রামকে উজ্জিবিত রাখার জন‍্য প্রত‍্যেক সপ্তাহের শনিবার পাবলিক লেকচারের আয়োজন করা হয়, আর নিত্য পঠিত বইগুলো নিয়ে আলোচনা করবার জন‍্য আড্ডা জমে প্রতি মঙ্গলবার যার নাম দেয়া হয়েছে ‘বুক টক ও আইডিয়া শেয়ার’।

অফলাইনের পাশাপাশি বিডিএসএফের অনলাইনে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তানভীর বলেন- বিডিএসএফ এর একটি অন‍্যতম লক্ষ্য নিজের জ্ঞানকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া, আর সেটি করবার জন‍্য বিডিএসএফ তৈরি করেছে একটি সমৃদ্ধ ওয়েব পোর্টাল, যেখানে নিয়মিত পাঠকেরা তাদের বইয়ের রিভিয়‍্যু লিখেন। যার ফলে সহজেই একজন নলেজ সিকার তার অপঠিত বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা পেয়ে যান ঐ রিভিয়্যু থেকেই।

 সব কথা শোনার পর স‍্যারের প্রথম প্রশ্নটিই ছিলো ‘তোমরা এতকিছু কোথায় করো?’ স‍্যার অবাক হন এই কথা শুনে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জ্ঞানের নেশায় এখনো এতটা কষ্ট করে দাড়িয়ে আড্ডা দেয়! এরপর স‍্যার তার সভাব সুলভ হাসি দিয়ে বলেন ‘আমি খুবই আনন্দিত যে তোমরা চাকরিমুখী স্রোতে নিজেদের না ভাসিয়ে বরং সঠিক পথ আকড়ে ধরে আছো।’ স‍্যার তাঁর অতীত স্মৃতি স্বরন করে বলেন ‘আমরাও ছাত্র থাকাকালীন ছোট্ট পরিসরে একটি জ্ঞানের আড্ডায় জমায়েত হতাম কিন্তু সেটি ছিলো নিতান্তই কাঁচা, তবে আজ আমি তোমাদের দেখে আনন্দিত যে তোমাদের জায়গাটা তোমরা বেশ পাকা করে নিয়েছো।’ স‍্যার বলেন ‘বর্তমানে সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তে পড়তেই ছাত্ররা নিজের মূল্যবান সময়টুকু নষ্ট করে ফেলছে, কিন্তু তারা বুঝে উঠতে পারছেনা যে, নিয়মিত জ্ঞান পিপাসুদের আড্ডায় উপস্থিত থাকলে আজ আর গাইড মুখস্থ করতে হতো না। সুতরাং শিক্ষা ব‍্যবস্থার এই দুর্দশা থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে হলে তোমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। অবশেষে ভিসি স‍্যার বিডিএসএফ এর চলমান কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব‍্যাপারে আশাবাদ ব‍্যক্ত করেন।

মাননীয় ভিসি স‍্যারের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক এবং মিষ্টিমুখ শেষে স‍্যারকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানিয়ে ক‍্যাম্পাসে ফিরে আসে বিডিএসএফ প্রতিনিধি দল।

Related Posts

About The Author

Add Comment