মনে তুমি ম্যান্ডেলা:  নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্মরণ

নেলসন ম্যান্ডেলা মারা গেছেন প্রায় দুই বছর হয়ে গেল। ২০১৩ এর ৫ ডিসেম্বর পুরো বিশ্বকে কাঁদিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন কালো মানুষ আর নির্যাতিত মানুষের মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। রাষ্ট্রনায়ক থেকে রাস্তার মানুষ সবাইকেই তার মৃত্যু ছুঁয়ে গিয়েছিল। এজন্য আমরা দেখতে পেয়েছিলাম যেন পুরো বিশ্ব নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে শোক করেছিল। বিশ্বজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে সম্মান আদায় করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের সর্বশেষ উদাহরণগুলোর একজন হয়তো নেলসন ম্যান্ডেলা। শতবর্ষ বা কয়েকশত বর্ষের সাধনার পর এমন মহান ব্যক্তিত্বের মানুষের আগমন ঘটে। আমাদের সৌভাগ্য এমন এক মহামানবের সময়ে আমরা বেঁচেছিলাম। তার ব্যক্তিত্বের দীপ্তি এতই আলোকময় যে আমাদের দুর্নীতিপরায়ণ, দুর্বল নেতারাও তার স্মরণে অনেক প্রশংসা বাণী বিতরণ করে নেলসন ম্যান্ডেলার আলোতে রোদ পোহাতে চেয়েছিলেন। মৃত্যুর অনেক আগেই তিনি পুরো বিশ্বের আইকনে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি নিঃসন্দেহে এক মহিমান্বিত নিদর্শন, সমালোচনা ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে বিশ্বজুড়ে এক সন্মানিত ব্যক্তিত্ব।

কিন্তু সব সময় এমনটা ছিল না। আমাদের শাসকরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের তীব্র সমালোচনা করাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন। আবার তাকে শেষে বৈধতাও দিয়ে গেছেন। ১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে ম্যান্ডেলা যখন বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে কুখ্যাত জেলখানা রোবেন আইল্যান্ডে কঠিন সময় পার করছিলেন, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ম্যান্ডেলাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছিলেন এবং টরি ছাত্র সংগঠন ‘ম্যান্ডেলাকে ফাঁসিতে ঝুলাও’ লেখা ব্যাজ ধারণ করেছিল।

যখন ম্যান্ডেলা বিপদজনক ছিলেন, যখন তিনি বর্ণবাদী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনতার নেতা ছিলেন (তিনি সমান প্রভাবশালী ছিলেন জেলে আটক থাকা অবস্থাতেও) এবং তখন বিশ্বনেতৃবৃন্দ তাকে ঘৃণা করতো। আমাদের ওই ম্যান্ডেলাকেও উদযাপন করতে হবে।

অভিবাসী শ্রমিক বর্ণবাদী আইন

তরুণ ম্যান্ডেলার দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল ঔপনিবেশিক পুঁজিবাদের ভয়ানক সৃষ্টি। প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ ও কুঁড়ে কুঁড়ে খাওয়া দরিদ্রতা যেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল ওগুলো দেখে দেখে তিনি বিদ্রোহী হয়ে উঠেন। তার রাজনৈতিক মানস গঠনে আর অনেকের মত মার্ক্সের প্রভাব ছিল। তার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান কমিউনিস্ট পার্টির কাছাকাছি ছিলেন।

১৮৮৬ সালে উত্তরাঞ্চলীয় ট্রান্সভালের উইটওয়াটার্সরেন্ড এলাকাতে সোনার খনির আবিষ্কার দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সোনা উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনা পর্যাপ্ত হলেও তা সংগ্রহ করাটা একটু কঠিন ছিল। ব্রিটিশ শিল্পপতিরা যারা ওই খনিগুলো নিয়ন্ত্রণ করতো তাদের সুবিধা ছিল তারা সস্তা কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এটা জারি রাখার জন্য ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ প্রশাসন একটা জিনিস চালু করলো যেটা পরবর্তীতে ‘বর্ণবাদ’ হিসেবে স্বীকৃত হয়।

আফ্রিকান কৃষকদের তাদের জমি থেকে তুলে দিয়ে দরিদ্রক্লিষ্ট শ্রমিক রিজার্ভে (সংগ্রহশালাতে) নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের জীবন ধারনের জন্য ট্যাক্স প্রদানের জন্য তাদের খনি মালিকদের কাছে তাদের শ্রম বিক্রি করতে হতো। তাদের কম সময়ের জন্য অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতো। যখন তাদের চুক্তি ফুরিয়ে যেতো তাদের আবার রিজার্ভে ফেরত পাঠানো হতো। কালো মানুষদের তাদের সাথে একটা পাস বহন করতে হতো সব সময়। তাদের নিজের দেশেও বিভিন্ন ‘সাদা’ মানুষদের এলাকাতে ওই পাস দেখাতে হতো যে ওখানে তাদের প্রবেশাধিকার আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি প্রসারিত হলো ও উৎপাদনশীল শিল্প বিস্তৃত হলো। বর্ণ ও শ্রেণী শোষণের পুরো বর্ণবাদী প্রক্রিয়াটা আরও সুসংগঠিত হল। মোট জনগোষ্ঠির তিন-চতুর্থাংশ কালো মানুষদের জন্য ভূমি বরাদ্ধ হল মোট ভূমির ১৩ ভাগ। (এখন ওগুলোর নাম হয়েছে ‘বান্তুস্তানস) অধিকাংশ অভিবাসী খনি শ্রমিকদের একটি নির্দিষ্ট কম্পাউন্ডে একসাথে থাকতে হতো। পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকদের জন্য আলাদা আলাদা কম্পাউন্ড ছিল। আর অন্যরা থাকতো শিল্প এলাকার কাছাকাছি গজিয়ে ওঠা বস্তিগুলোতে। সবাই নিয়মিত পুলিশ হেনস্তার শিকার হতো। ওই জঘন্য ‘পাস’ না থাকার মত অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারণেই হাজার হাজার শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করা হতো এবং বান্তুস্তানস থেকে বের করে দেয়া হতো।

সাদা আফ্রিকানরা ব্রিটিশ ও ডাচ ঔপনিবেশিক সেটলারদের উত্তরসূরি। পরবর্তীতে ‘আফ্রিকানারস’ নামে পরিচিত সেটলারদেরদের উত্তরসূরিরাই সব বড় ব্যবসা পরিচালনা করতো, রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করতো ও দক্ষ ও পেশাদারী কাজগুলো সব ছিল ওদেরই দখলে। আফ্রিকানদের চেয়ে সাদাদের মজুরি ছিল দশ থেকে বিশ গুণ পর্যন্ত বেশি। মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ সাদারাই শুধু ভোট দিতে পারতো।

কিন্তু কালো শ্রমিক শ্রেণীর উপর নির্ভরশীল দক্ষিণ আফ্রিকার পুঁজিপতিদের যতই সম্পদ বাড়ছিল ততই গণআন্দোলনের জোয়ার বইতে লাগলো পুরো দেশ জুড়েই। ১৯৫০ এর পরপরই এটা শুরু হয়ে যায়। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কালোদের ওই প্রতিরোধ আন্দোলন কঠোর ও নির্মম দমন-নিপীড়নের শিকার হয় সরকার পক্ষের হাতে।

গণপ্রতিরোধ

১৯১২ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই একটি মধ্যমপন্থি সংস্কারবাদী দল হিসেবে কাজ শুরু করে। ১৯৫০ এর দিকে দলটির মূল জায়গা চলে যায় তরুণ ম্যান্ডেলার মত র‍্যাডিকালদের হাতে। তারা গণবিক্ষোভ আয়োজন করতে থাকেন। ১৯৬০ সালের ৩১ মার্চ ‘পাস আইন’ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উপরে যখন পুলিশ গুলি চালায় এবং ৬৯ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে তখন ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্য এএনসি নেতারা এই উপসংহারে পৌঁছে যায় যে তাদের স্বাধীনতা আন্দোলন সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধে নিয়ে যেতে হবে।

এএনসি একটি সশস্ত্র শাখা খুলে ১৯৬১ সালে। ‘এমকে: স্পিয়ার অব দ্য নেশন’ নামের ওই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন ম্যান্ডেলা। কিন্তু হতাশাজনকভাবে কোনো লক্ষণীয় প্রভাব ফেলার আগেই ‘এমকে’ কে কঠোর হাতে দমন করে বর্ণবাদী শাসকগোষ্ঠী। ম্যান্ডেলাসহ এএনসির বেশিরভাগ নেতাকেই আটক করা হয়, বিচার করা হয় এবং যাবজ্জীবন কারাগার দেয়া হয়।

তারপর ১৯৭০ এর দিকে আবার নতুন করে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও ইউনিয়ন মুভমেন্ট চরম হয় ১৯৭৩ সালে। তারপর ১৯৭৬ সালের দিকে আফ্রিকান ছাত্র ও গণআন্দোলন দানা বাঁধে শহরগুলোতে। এই নতুন আন্দোলন হিংস্র রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়। শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়। কিন্তু এবার কালোদের প্রতিরোধ পুরোপুরি দমন করতে পারেনি। কিন্তু এক দশকের মধ্যেই বিদ্রোহের আগুন আবার জ্বলে ওঠে। অবরোধ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে পড়ে পুরো দেশ। তখন পুঁজিবাদি অভিজাত সাদা ‘আফ্রিকানার’রা বুঝে ফেলে যে কালোদের সাথে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া তাদের অবস্থান টিকিয়ে রাখা যাবে না।

১৯৮০’র দিকে এএনসির পুরো রাজনৈতিক কাঠামো পুনঃস্থাপিত হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও আন্তর্জাতিক মহলে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা চরিত্রে পরিণত হন নেলসন ম্যান্ডেলা। রোবেন আইল্যান্ডের ২.৪ মিটার বাই ২.১ মিটারের আদ্র কনক্রিট সেলের মধ্যে ১৮ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ম্যান্ডেলা। ঘুমানোর জন্য ছিল শুধু একটা খড়ের মাদুর। বন্দিরা সারাদিন পাথর ভেঙে কাটাতো। অত্যাধিক সূর্যালোকের কারণে ম্যান্ডেলার দৃষ্টিশক্তি মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়। বর্ণবাদি পাহারাদারদের বাঁজে ব্যবহার তো ছিলই। খুব দাগী আসামি হওয়ার কারণে ম্যান্ডেলা প্রতি ৬ মাসে একবার শুধু আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করতে পারতেন এবং একটা চিঠি পাঠাতে পারতেন।

তাঁর অসামান্য ত্যাগের কারণে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রিয় নেতায় পরিণত হন ১৯৭০ ও ৮০’র দিকে। আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে রাষ্ট্রপক্ষ ম্যান্ডেলা ও এএনসি নেতাদের সাথে সমঝোতায় বসতে বাধ্য হয়। মডারেট কালোদের সাথে সমঝোতা ভেস্তে যায় যখন একদল র‍্যাডিকাল মতাদর্শী শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ সমন্বয়বাদীদের কাউন্সিল অফিস ধ্বংস করে দেয়। সাদাদের আধিপত্য ধরে রাখার প্রক্রিয়া হিসেবেই এটা করেছিল সংখ্যালঘু সাদাদের ওই অংশটি। দেখা গেলো, পরিস্থিতি এ অবস্থাতেই গিয়ে ঠেকলো যে দক্ষিণ আফ্রিকার পুঁজিবাদ টিকে থাকবে সংখ্যাগরিষ্ঠ কালোদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেই।

বর্ণ শ্রেণী

দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দুই ধরনের পরিবর্তনের ছবি দেখতে লাগলো এএনসি। প্রথমে, তারা বিশ্বাস করতো, সর্বজনীন ভোট ও সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে তারা বর্ণবাদী শোষণের হাত থেকে রেহাই পাবে। তারপর অদূর ভবিষ্যতে পুঁজিবাদের পরিবর্তে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলে যাবে। আর গণতন্ত্র ও সাম্য হবে ওই সমাজতন্ত্রের মূল।

এর অর্থ ছিল এএনসি সাদা সংখ্যালঘুদের শাসনের সমাপ্তি চাচ্ছিল। এই প্রক্রিয়াটা ছিল অনেক লম্বা ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রক্রিয়াটা চূড়ায় পৌঁছে নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির মাধ্যমে এবং ১৯৯৪ সালে প্রথম কালো প্রেসিডেন্ট হওয়ার মাধ্যমে।

বর্ণবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম থেকে এটা যখন পুঁজিবাদের বিপক্ষেও চলে গেলো এটা অধিকাংশ দক্ষিণ আফ্রিকানদের উপর ধ্বংস বয়ে নিয়ে আসলো। শ্রেণী শোষণের মধ্যেই বর্ণবাদী শোষণের বীজ লুকায়িত ছিল। খনি মালিকদের শ্রমিক সাপ্লাই দেয়া থেকে এর শুরু এবং পরবর্তীতে সব পুঁজিপতিদের জন্য কম খরচে শ্রমিকের মজুদ হিসেবে পরিণত হল সংখ্যাগরিষ্ঠ কালো আফ্রিকানরা।

পুঁজিবাদ অধিকাংশ আফ্রিকানকে নিয়ে গেলো ব্যাপক অভাব-অনটন ও নোংরা বাসস্থানের দিকে যাতে অল্প সংখ্যক পুঁজিপতিদের হাতে থাকে অর্থের পাহাড়। একটি সুন্দর পৃথিবী নির্মাণে যারা সংগ্রাম করছেন তাদের জন্য ম্যান্ডেলার জীবন ছিল একটি অনুপ্রেরণার নাম। কিন্তু তার রাজনীতির মাধ্যমে যা অর্জন হয়েছে তা যা অর্জনের সম্ভাবনা ছিল তার চেয়ে অনেক অনেক কম। বর্ণবাদ অবসানের প্রধান সুবিধাভোগী হল কালো পুঁজিপতি, রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িরা। তাদের সাদা প্রতিদ্বন্দ্বিদের মতই তারা নিউলিবারেলিজম, বেসরকারিকরণ, ও সেবামূলক কাজে কম খরচের পক্ষে চলে গেলেন। সবার উপর এএনসি পরিণত হলো একটা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা ও পুঁজিপতিদের আশ্রয়স্থল।

পুরনো এএনসির সাথে যুক্ত শ্রমিক ইউনিয়নের লোকগুলোই এখন এই দুর্নীতির অংশীদার। এটা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে একটা বিশাল ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এখন কালো খনি শ্রমিকরা তাদের কালো মালিকদের বিরুদ্ধে নতুন ইউনিয়ন গড়ছে এবং সশস্ত্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

২০১২ সালের ১৬ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার মারিকানা শহরে পুলিশ ৩৪ জন বিক্ষোভ রত খনি শ্রমিককে হত্যা করেছে। বর্ণবাদী যুগের পর এটাই সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড। নিশ্চিতভাবেই এটা ওই দেশটির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। এটা এও দেখিয়ে দিচ্ছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ কালো মানুষদের আরও অনেক দূর যেতে হবে গণতন্ত্র, সাম্য ও শান্তি অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। যার জন্যই বর্ণবৈষম্যের দিনগুলোতে জীবন দিয়েছে অসংখ্য মানুষ।

আমরা ম্যান্ডেলার ওই স্মৃতিকেও ধরে রাখব যে ম্যান্ডেলাকে আমাদের শাসকরা ঘৃণা করতো। সেই ম্যান্ডেলা যে ছিল একা, সাহসী, অনঢ় রাজনৈতিক বন্দি, যাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল বর্ণবাদী শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। আমাদের অনুশোচনা করতে হবে এই কারণেও যে, আমাদের শাসকেরা তাকে নিয়ে উৎসবে মেতেছে এই কারণে যে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পরেও দক্ষিণ আফ্রিকান পুঁজিবাদ অক্ষুণ্ন রয়েছে।

 

সাবিদিন ইব্রাহিম

[email protected]

Related Posts

About The Author

Add Comment