মানসিক প্রশান্তি আর মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জাদুকাঠি

বই: মানসিক প্রশান্তি আর মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জাদুকাঠি

লেখক: আজহারুল ইসলাম

প্রকাশনা: আদর্শ

প্রকাশকাল: ২০১৬

শুধু ব্যক্তিক অভিমত নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের উপর নিরীক্ষা করে ই বক্তব্য গুলো সাজানো হয়েছে এ বইটিতে। পারিপার্শ্বিক জীবনে চলমান ঘটনার ঘনঘটা থেকে উত্তরনের প্রশস্ততা এখানে প্রতীয়মান। বইটিন প্রথমভাগে আসক্তি বা সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু খুঁজে মধ্যভাগে ভয় থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল আর শেষভাগে সমাধানের যৌক্তিক উপায়ের নির্দেশনা রয়েছে।

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন এবং কাউন্সিলিং বিভাগের তরুন অধ্যাপক  আজহারুল ইসলাম যে দুটো সমসাময়িক দৃশ্যমান বিষয়ের উপর জোড় দিয়েছেন তার মধ্যে একটি মানসিক প্রশান্তি এবং অন্যটি হচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ জীবনের চাবিকাঠি। কম্পিউটার বা স্মার্টফোন যেমন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তেমনি মানব মস্তিষ্কও বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলে আমাদের জীবনের গতি মন্থর হয়ে যায় এমন কি থেমেও যেতে পারে। স্মার্টফোনের মত আমাদের মস্তিষ্কের ভাইরাস গুলোকে একটা একটা করে মুছে ফেলা জরুরী।

এই নিরন্তর ছুটে চলা যান্ত্রিক যুগে প্রায়ই সম্ভব হয় না। লেখক আজহারুল ইসলাম এ বইটিতে অত্যন্ত আকর্ষনীয় ভাবে উপস্থাপন করেছেন যে আন্তরিক ভাবে আত্মস্থকরনের মাধ্যমে নিজের ভিতরকার চিন্তা গুলোকে ইতিবাচক করে মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। সর্বপ্রথম সংজ্ঞায়ন করতে হবে সাফল্য জিনিস টা কি? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া, সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া, সেলিব্রেটি হওয়া, রাজনৈতিক নেতা, ম্যাজিট্রেট ডাক্তার হওয়া আবার কখনো বা পেট ভরে তিনবেলা খাবার খাওয়া, এক জনের সাফল্য এক এক রকম। ব্যাক্তি কে নিজস্ব সাফল্য বিবেচনা করতে হবে তার আয়, ব্যয়, সিদ্ধান্ত নেয়ার এবং চিন্তার স্বাধীনতা অর্জন করে। কারন স্বাধীন চিন্তা আর সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা অনেক সময় অর্থের সাথে জড়িত। পর্যাপ্ত আয় না থাকলে স্বাধীন ভাবে ব্যয় করা মুশকিল। তাই সীমাহীন সমঝোতা করতে হব মূল্যবোধের সাথে, নৈতিকতার সাথে।

আপনি শুধু আপনিই পারেন নিজেকে অসংখ্য শৃঙ্খলের দাসত্ব থেকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার। স্যার ফজলে হাসান আবেদ, ড:মোহাম্মদ ইউনুস,আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, সাকিব আল হাসান বিশ্বনন্দিত হয়েছেন শুধু নিজেরা চেয়েছেন বলে ই। অন্বেষনে থাকতে হবে আসলে আমি কি চাই। আমি কি সারাদিন রাজনৈতিক নেতার চামচিকা হব? না লাইব্ররীতে সাজানো বইগুলো থেকে বাছাই করে নেবো আমার তৃষ্ণা মেটানোর সামগ্রী? এমন সিদ্ধান্ত নেব না যা প্রতিভা, সৃজনশীলতা, ধৈর্য্য,আত্মশক্তি, পরিশ্রম করার আগ্রহ এবং সম্মান কে একেবারে খেয়ে ফেলে। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা টা ই প্রথম কাজ। এক বা দু দিনের নয় হয়ে যেতে পারে পুরো জীবনের একটা আউটলাইন। বিল্ডিং এ ইটের গাথুনি প্রথমদিকে যত শক্ত হয়, বিল্ডিং তত ই মজবুত হবে। সুতরাং নিজের প্রতি বিশ্বাসকে অধিক মজবুত করে নিতে হবে; নয়তো হালকা দু;সময়ের বাতাসে জীবন লন্ডবন্ড হয়ে যাবে।

ক্যারিয়ারের লক্ষ, জীবনের লক্ষ, অর্থনৈতিক লক্ষ দৃশ্যমান হবে স্বচ্ছ কাচের মত পরিষ্কার। রোকেয়া হল থেকে বের হয়ে কোথায় যাব? বলাকা সিনেমা হল অথবা ধানমন্ডি লেক অথবা বিউটি পার্লার নইলে সেন্ট্রাল লাইব্রেরী? আমাকে ঠিক করতে হবে আমার জন্য কোন জায়গা টা। ধনুকের তীর সঠিক ভাবে তাক করতে পারলে কখনোই হতাশার অথৈ সমুদ্রে পড়তে হবে না। তাই চাওয়া কে পাওয়ায় রূপান্তর করতে হলে চাহিদা, যোগ্যতা, সম্পদ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং স্বপ্ন কে মাথায় রেখে টার্গেট বা লক্ষকে চুলচেরা বিশ্লেষন করে এক্ষুনি কাজে নেমে পড়তে হবে।

তবে এটা সত্য যে কাজ করতে গিয়ে ও ক্লান্তি অনিহার পথে টানতে চায়; তাই আবার উজ্জিবীত হবার জন্য বা বিমর্ষতাকে লাথি মারতে কায়িক পরিশ্রমের মত যুগান্তকারী মহৌষধ নেয়া যায়। সাথে সাথে ই বেড়ে যাবে নিউরোট্রান্সমিটার নামক রাসায়নিক উপাদান যা মনকে চাঙ্গা করে তুলবে।

অনেক সময় হাজারো কর্মব্যস্ততার বেড়াজালে অক্টোপাসের মত আটকে যাই। আপনজনের সাথে অল্পতে ই যুদ্ধরত থাকি। কোন ইস্যু না পেলে গার্ল ফ্রেন্ডের কাল মুখ ফর্সা করা নয়তো বসুন্ধরা সিটিতে ওয়েষ্টার্ণ কালচারের জিন্স টপ্স না কেনার অভিযোগে ডমিনেন্ট রোল প্লে করি। এই সাঙ্গাতিক অতিরঞ্জিত সমস্যা গুলো হচ্ছে মস্তিষ্কে সমস্যাপূর্ণ  ভাইরাসের আক্রমনে। তাই স্ক্যান করতে হবে দৈনন্দিন সিডিউলকে। রেঙ্কিং করে বেশি গুরুত্ববহ কাজটি করতে হবে। প্রয়োজনে রেঙ্কিং য়ে নিচের দিকে থাকা কাজগুলোকে মুছে দেয়া যা সিডিউল থেকে। তবে ই কাজ কে আর যন্ত্রনার বস্তু মনে হবে না, ব্রেইন এর নার্ভাস সিস্টেমস ও যথাযথ কাজ করবে।

চার্ট করা যেতে পারে আমার ভেতরকার ১) শক্তি ২) দুর্বলতা কে। আবার সম্ভাবনা এবং ঝুকি কে ও বিশ্লেষণকরা যেতে পারে। এক নাগাড়ে ৬৬ দিন এক ই কাজ করলে মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে যায়। সুতরাং আত্মশক্তিকে উপলবদ্ধি করে জীবনের সাথে কাজ কে হেবিচুয়েট করাতে হবে। ব্রেইনে স্থায়িভাবে কাজকে ইন্সটল করে হয়ে যেতে পারে কাজের মূল্যায়ন। ঘুম থেকে উঠে ই ফেসবুকে অন্যের নোটিফিকেশন চেক না করে করা যায় নিজের সারাদিনের কর্মপরিকল্পনা। রাতারাতি বাজিমাতে অভিপ্রায় থেকে বেরিয়ে ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে হওয়া যায় সবার মধ্য সেরা।

তাই শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতার মাধ্যমে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে হওয়া যায় মিষ্টার ডিপেন্ডেবল। পরিবার, সমাজ, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন সবাই মুখিয়ে থাকবে আপনার বুলি শ্রবনের জন্য। আর কাজের বাহিরে ও পাওয়া যাবে পরম শান্তময় ছোয়া।।

 

 

Rownok Jahan

সাংগঠনিক সম্পাদক

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রওনক

Related Posts

About The Author

One Response

Add Comment