মানুষরে দেইখা, বুঝা যায়- সে কেমন?

red lantern

চাইনিজ ফিল্মমেকার ঝ্যাং ঝিমুর রেইজ দ্য রেড ল্যান্টার্ন ফিল্ম দেইখা, কথা টা মনে পড়ল। রেড ল্যান্টার্ন ফিল্ম মূলত ভোগবাদী ভূস্বামীরে নিয়া। কিন্তু, ঠিক ভূস্বামীরে নিয়া এই ফিল্ম- এইটা বলতে পারবেন না আপনি। এই সিনেমার বহু অভিমুখ আছে। আপনি যে লাইন পছন্দ করেন, সেই লাইনেই নেরেইট করতে পারবেন এরে। গল্পের এই যে বহুস্বর, এইটা হইল একটা গল্পের হয়ে উঠার অনেক স্ট্রং জায়গা।

এইরকম একটা বহুস্বরিক ফিল্ম হইল অং কার ওয়াইয়ের ‘হ্যাপি টুগেদার’- একটা গেই ফিল্ম। যেইটা তার গেই স্টোরিতে আটকাইয়া থাকে নাই।…

তো, রেড ল্যান্টার্ন সিনেমায়, নতুন বউ আবিষ্কার করে যে- বদমেজাজি, শয়তান দ্বিতীয় বউ আসলে ক্রিমিনাল না। ক্রিমিনাল হইল- তৃতীয় বউ, যে তারে গ্রহণ করছিল সবচেয়ে আপন কইরা।

তৃতীয় বউ, নতুন বউরে মারবার মতলবে আছে- এইটা জানার পর, নতুন বউয়ের যে বিস্ময়; তাতে আমরাও বিপন্ন, আক্রান্ত হই।..

মানুষরে কতটুকু জানতে পারি আমরা? তারে নিয়া আমাদের অনুমান কতটুকু খাটে? যেমন, ছোটোবউ। ছোটোবউ কি ক্রিমিনাল? ছোটবউরে দেইখা, তার কর্মকান্ড থিকা; তারে আমরা কতটুকু প্রেডিক্ট করতে পারি?

কোন সিনেমা যখন এইভাবে আপনার লগে ইন্টারএকশনে নাইমা যায়, তখন; এইটারে অত জলদি ভুলা যায় না। না?

ভূস্বামীদের নিয়া কয়েকটা ফিল্ম দেখা হইছে। ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্তরমহল। সত্যজিৎ রায়ের জলসাঘর। বুনুয়েলের ত্রিস্তানা। হুমায়ুন আহমেদের চন্দ্রকথা।

আমি যে ল্যান্ডলর্ডদের নিয়া ফিল্ম দেখতেছি, এইটা না জাইনা ই, এইগুলা দেখা হইছে। তো, বিদেশিদের নিয়া আপনাদের মত আমারও ফেসিনেশন আছে বইলা, ত্রিস্তানা আর রেড ল্যান্টার্ন বেশি ভাল্লাগছে আমার। এরপর, হুমায়ুন সাবের টা। এরপর রায় সাব আর ঋতুপর্ণর টা। হুমায়ুন তো, ছোটোখাটো হইলেও তার কল্পনারে খাটাইছেন চন্দ্রকথায়। সত্যজিৎ জলসাঘরে আবহসংগীত দিয়া থুড়া উৎরাইছেন। ঋতুপর্ণ চিন্তার প্রচলিত যে প্যারাডাইম যেমন- মোল্লা-পুরোহিতের বিকৃত সেক্সচুয়ালিটি, ভূস্বামীর নারীভোগ, আর নারীদের মাইনা নেওয়া- এইগুলাই বলছেন। উনি প্যারাডাইমের ফাঁকফোকরে কোন লাইট মারতে চাননি হয়তো।..

Abu Taher Tarek

কবি। অনুবাদক। সমালোচক।

তাহের তারেক

Related Posts

About The Author

Add Comment